সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

বর্ষীয়ান আলেম মুফতী ওয়াক্কাসের ইন্তেকাল

বর্ষীয়ান আলেম মুফতী ওয়াক্কাসের ইন্তেকাল

বর্ষীয়ান আলেম মুফতী ওয়াক্কাসের ইন্তেকাল

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

বাংলাদেশের আলেম সমাজের উজ্জল নক্ষত্র, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের দীর্ঘদিনের মহাসচিব, বেফাক এবং হাইয়াতুল উলইয়ার কো চেয়্যারম্যান , মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব আজ ৩১ মার্চ ভোর ৫.১৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন।( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)

আমার দেখা ইসলামী রাজনীতির এক বে- মেছাল ব্যক্তিত্ব। হক- হক্কানিয়্যাতেরর উপর অটল- অবিচল যিনি চিরদিন থাকার চেষ্টা করেছেন। শত ঝড়- ঝন্জা উপেক্ষা করে এদেশে ইসলামী রাজনীতির শেকড় স্হাপন করেছেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি ছিলেন দেওবন্দী আলেমদের মধ্য থেকে প্রথম একজন মন্ত্রী। যিনি কেবিনেটে যাওয়ার পরেও আলেমদের কে ভোলেন নি। সব সময় উলামায়ে কেরামের সাথে জুড়ে থাকার চেষ্টা করেছেন।

একজন সাদামাটা ব্যক্তিত্ব। কোন অহমিকা তাঁর ছিল না। নিরহংকার মানুষ। যেখানে রাত সেখানে কাত। কোন ধরনের বড়াই বা নিজেকে বড় কিছু কোনদিন ভাবেন নি।

মনে পড়ে মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবকে প্রথম যেদিন দেখেছি। সেই ১৯৮৮ সনের কথা। তিনি তখন মন্ত্রী। যশোর জামিয়া এজাজিয়া রেল ষ্টেশন মাদাসায় খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম। আমি সেবার নাহুমীর জামাতে বেফাক পরীক্ষার্থী ছিলাম। আমরা পরীক্ষার হলে। পরীক্ষা দিচ্ছি।হঠাৎ দেখি কোথা থেকে এসে সরাসরি আমাদের পরীক্ষা হলে ঢুকে পড়লেন। সঙ্গে ছিল বড় ছেলে সুহাইল।
মুফতী ওয়াক্কাস পরীক্ষা হলে ঢুকে নিচে মাদুর এর উপরে বসে পড়লেন। সাথে তাঁর সাথে থাকা ম্যাজিষ্টেট এবং সরকারী অন্যান্য কর্মকর্তারা তারাও মাদুরের উপরে।
সেদিন অবাক হয়েছিলাম, একজন মন্ত্রী, কিন্তু তাঁর কি সাধাসিধে জীবন। কোন স্পেশালিটি দেখলাম না। কোন অহমিকা খুজেঁ পাওয়া গেল না।

তিনি এমনই ছিলেন। দরদ- ব্যাথা ছিল মানুষের জন্য। বিশেষ করে আলেম সমাজের জন্য ফেদা ছিলেন। যে কোন মাদ্রাসায় তিনি যেতেন দাওয়াত ছাড়া। কোন ধরনের দাওয়াত বা হাদিয়া তাকে দেওয়া লাগত না।

আসলে একজন মুখলিস আলেম এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব। দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁর বড় অবদান। নিজের নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও গোটা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেছেন। বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম এর পাশে তিনি ছিলেন সব সময়।

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্হার উন্নয়ন,এমনি ভাবে আলেম সমাজকে উচ্চ মর্যাদার আসনে নিয়ে যাওয়ার বড় ভুমিকা তিনি রেখেছেন। সেই মহান ব্যক্তির বিদায় হয়ে গেল।মহান রবের দরবারে ফরিয়াদ করি, তিনি যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে সুউচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।

লেখক : মাদরাসা শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com