বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

বগার বাপের কিচ্ছা

বগার বাপের কিচ্ছা

বগার বাপের কিচ্ছা

পিয়ারা বেগম : অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখনকার দিনে এক পয়সার অনেক মূল্য ছিল। “বগার বাপ” নামে এক ধনী গৃহস্থ ভদ্রলোক ছিলেন খুব কৃপণ। তিনি তার স্ত্রীকে এক পয়সার সরিষার তেল কিনে দিলেন রান্না-বান্না আর ঘরের সন্ধ্যাবাতি জ্বালানোর জন্য। উল্লেখ্য যে, সে যুগে তখনও কুপি বা হ্যারিকেনের প্রচলন ছিল না। এমন কী কেরোসিনের প্রচলনও ছিল না।

ফলে তারা মাটির তৈরি তৈলদানীতে তৈল ভরে তাতে পুরাতন কাপড়ের টুকরো প্যাঁচিয়ে সলতে তৈরি করে কুপির কাজ চালাতো। কৃপণ বলে সন্ধ্যায়ই তারা ভাত খেয়ে বাতি নিবিয়ে শুয়ে পড়তেন। তবে গৃহস্থ এবং তার স্ত্রী দু’জনই সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তাই তারা প্রায়ই সখের বশে বা রোমান্টিক মুহূর্তে কবিতার ভাষায় কথা বলাবলি করতেন। আজ রান্নার তৈল শেষ হওয়াতে স্বামীকে খিলি পান মুখে পুরে দিয়ে খোশ মেজাজে গৃহস্থ গিন্নী তার স্বামীকে বললেন,

ঘরের তৈল অইল গো শেষ,
সোয়ামির তরে করছি পেশ।

এই কথা শুনে গৃহস্থ ভদ্রলোক আজ কৃপণ স্বভাব সুলভ আচরণ না করে মুচকী হাসি দিয়ে স্ত্রীর থুতনীতে টোকা দিয়ে বললেন,

এক পয়সার তৈল
কী সে খরচ অইল?

তারপর গৃহস্থ গিন্নীও কম রসিক নন। স্বামীর মুখের কাছে গিয়ে পানভরা গালে চিমটি কেটে বললেন,

আমার মাথা, তোমার পায়
আরও দিলাম ছেলের গায়।
এ ঘরে বাত্তি, ঐ ঘরেও বাত্তি
মইধ্যে রানলাম সালুন পাত্তি।
সাত রাত্তিভর গান অইল
কোন অভাগী ঘরে আইল
বাকী তৈলটুকু ঢাইল্যা নিল।

গৃহস্থ ভদ্রলোক তার স্ত্রীর মুখে এমন সুন্দর কাব্য বয়ানে তৈল খরচের চুলচেরা হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করায় তিনি আর টুশব্দটি পর্যন্ত করতে পারে নি বরং রাগ না করে মনে মনে স্ত্রীর তারিফ করতে করতে তৈলের ঝুলনা বোতল এক হাতে, অন্য হাতে ছাতা নিয়ে স্ত্রীর হাতের খিলি পান চিবুতে চিবুতে তৈল আনতে তখনই রওয়ানা হলেন হাটে।

বিঃদ্রঃ – প্রদত্ত প্রবাদ কবিতাংশটুকু সংগ্রহ করেছি আমার সহকর্মী শেফালী রহমানের কাছ থেকে। তিনি শুনেছেন তার মায়ের কাছে। আমি আমার কিশোর গল্পগ্রন্থ “বগার বাপের কিচ্ছা” গল্পে তা প্রয়োগ করেছি (অপ্রকাশিত)। আর সেখান থেকে অতি সার সংক্ষেপে (সংশোধিত) করে আপনাদের মনোরঞ্জনের জন্য পোস্ট করলাম।

তাং- ০৫/০৩/২০১৯ইং
তারাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com