সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১২ অপরাহ্ন

ফয়জুল করীম বাতিলের কলিজা কাঁপানো এক মুজাহিদের নাম

ফয়জুল করীম বাতিলের কলিজা কাঁপানো এক মুজাহিদের নাম

ফয়জুল করীম বাতিলের কলিজা কাঁপানো এক মুজাহিদের নাম

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আমি ফয়জুল করীম সাহেবকে চিনি নব্বই দশক থেকে। প্রথমে তাঁর বয়ান শুনে ছিলাম, ঢাকা মগ বাজার টি এন্ড টি কলোনীতে। সেখানে মরহুম পীর সৈয়দ ফজলুল করীম ( রহঃ) এর ওয়াজ মাহফিল ছিল, মরহুম পীর সাহেবের বয়ানের পুর্বে ফয়জুল করীম সাহেব বয়ান করে ছিলেন। বয়ানটা সকলের হৃদয়গ্রাহী হয়ে ছিল। উপস্হিত স্রোতারা ফয়জুল করীম সাহেবের ভুয়সী প্রসংসা করে ছিলেন।

এরপর ফয়জুল করীম সাহেবের ভাষন শুনে ছিলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। সেটা ছিল ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম। ফয়জুল করীম সাহেবের ঝাঁঝালো বক্তৃতা তাঁক লেগে গিয়ে ছিল সবার মধ্যে।

নব্বই দশকের শেষের দিকে যখন ফরিদপুর আসলাম, সে সময়ে একবার ফয়জুল করীম সাহেব ফরিদপুরে আসলেন, অবশ্য সেটা কোন ইসলামী আন্দোলনের প্রগ্রাম ছিল না। সেটা ছিল সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মসুচি। সেটার অংশ হিসেবে ওলামায়ে কেরাম এবং অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে দক্ষিণ বঙ্গে সফরে ছিলেন তিনি। ফরিদপুরের সে জ্বালাময়ী ভাষনের কথা আজো মনে পড়ে, তিনি বলেছিলেন,

” শৃগালের ন্যায় হাজার বছর বেঁচে থাকার চেয়ে সিংহের মত বাঁচো একদিন”

এই প্রতিপাদ্যের উপর যে গোছালো এবং সাবলীল ভাষায় ও সুন্দর উপস্হাপনায় যে বক্তৃতা দিয়ে ছিলেন, তাতে ময়দানে খই ফোটা শুরু হয়েছিল। উপস্হিত স্রোতাদের মাঝে যেন এক জযবা পয়দা হয়ে ছিল। যেটা ছিল এক ঈমানী চেতনা।

সে সময় গুলো ছিল মরহুম সৈয়দ ফজলুল করীম ( রহঃ) এর জীবিত কালের। তখনো ওনাদের স্কন্ধে কোন দায়িত্ব পড়েনি। শুধু মাত্র মাঝে মধ্যে পিতার সাথে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল এবং রাজনৈতিক প্রগ্রামে শরীক হতেন। আর সময় – সুযোগ পেলে বক্তৃতা করতেন।

সেই সময়ের ফয়জুল করীম সাহেবের বক্তৃতাই ছিল আলোচিত বক্তৃতা। চরমোনাই এর শুভাকাংখি এবং দেশের জনগণকে এক নতুন মেসেজ দিয়ে ছিলেন তিনি। অদুর ভবিষ্যতে তিনি এই জাতির রাহবার বনে যাবেন। এদেশের মানুষের আস্হার প্রতিক হয়ে যাবেন তিনি।

সৈয়দ ফজলুল করীম ( রহঃ) এর ইন্তেকালের পর চরমোনাই এর খানকা এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ভার এসে গেল দুই ভায়ের উপর। যথাক্রমে আমীর হলেন,সৈয়দ রেজাউল করীম ও নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম। এটা পরামর্শের ভিত্তিতে হয়েছে। মরহুম শায়েখ ( রহঃ) এর খুলাফাদের পরামর্শে দুই ভাইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এই দুজনকে সারাদেশের সকল মুতাল্লেকীন মুহিব্বীন এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন।

ফয়জুল করীম সাহেব নায়েবে আমীর এর দায়িত্ব গ্রহনের পর তাঁর যেন কাজের স্পিরিট বেড়েছে অনেক গুণ। বক্তৃতা ধারালো হয়েছে পুর্বের তুলনায় অনেক বেশী। সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশী পরিলক্ষিত হয়, সেটা হল তাঁর সৎ সাহস। এমন সাহসী সৈনিক বর্তমানে আমাদের ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে আর নেই।

তিনি যখন বক্তৃতা করেন, তখন সেসব বক্তৃতা গুলো মানুষকে আন্দোলিত করে। এক চেতনা সৃষ্টি করে সবার মাঝে। এক ভিন্ন জযবায় উজ্জীবিত হয় মানুষ। সাধারণ কোন চেতনা নয়। সাধারণ কোন জযবা নয়। এক ঈমানী চেতনায় জাগ্রত হয় আম জনতা থেকে নিয়ে সর্ব শ্রেণী।

ফয়জুল করীম সাহেব যখন বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে ভাষণ দেন, মনে হয় মিথ্যের প্রাসাদ ধুলোর মত উড়ে যাবে।তিনি ভাষণ দেন নির্ভয়ে। হক কথা বলেন। তাঁর বক্তৃতার গতিধারা বে- মেছাল। সমসাময়িক কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জবান দিয়ে এরকম কথা শোনা যায় না।

বাতিলের মসনদ থরথর করে কাঁপে ফয়জুল করীমের ভাষনে। বাতিল শক্তির অন্তরে ভীতি সৃষ্টি হয়। কলিজা কেঁপে উঠে মিথ্যের উপর বেড়ে উঠা গোষ্ঠীর।

নতুন কোন বিষয় নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি, তাঁর ভাষন, তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা,তাঁর ইলম- আমল , সকলের নজর কেড়েছে।

বাতিল শক্তির রোষানলে পড়ে ছিলেন তিনি একবার। সৌদি আরবে গিয়ে হিংসুকদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ছিলেন। কারারুদ্ধ থাকতে হয়েছিল তাঁকে চল্লিশ দিন।
তবে ফয়জুল করীম সাহেবের এই কারারুদ্ধ জীবন তাঁকে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ছিল।

অনেক ইজ্জতের সাথে তাঁকে সৌদি থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। আজীবন সন্মাননা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরব থেকে।

জেল খানার জীবনের পরে ফয়জুল করীম সাহেব যেন রাজনৈতিক ময়দানে পুর্ণতা লাভ করেছেন। এক পরিপক্ক রাজনীতি বিদ আবার শায়েখে কামেল তিনি। এখন তাঁর কথা, তাঁর বক্তৃতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌছেছে।

বাতিলের কলিজা কাঁপে এখন তাঁর ভাষনে। ভয় পায় মিথ্যাবাদীরা। ষড়যন্ত্র কারীরা হায় – হুতাশ করতে থাকে সব সময়।

আল্লাহর কাছে দু্আ করি, ফয়জুল করীম সাহেব এর সুস্হাস্হ এবং নেক হায়াতের জন্য। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com