মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন

ফসল রক্ষার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগ দিন

ফসল রক্ষার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগ দিন

ফসল রক্ষার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগ দিন

শীলন বাংলা ডটকম : ফসলরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিস্ময়কর সত্য হলো, ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণেও দুর্নীতির আভাস পাওয়া গেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া একান্ত জরুরি। ২০১৭ সালের মার্চ-এপ্রিলে ভয়ানক এক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়েছিল সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের সাত জেলার কৃষকদের। চৈত্র মাসের অকালবন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল এক লাখের বেশি হেক্টর জমির ফসল। ক্ষতি হয়েছিল প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ। হাওরের কৃষক সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

১৯৭৭ সালের পর সেবারই এ ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়েছিল কৃষকদের। ১৯৭৭ সালে তবু কিছু ধান ঘরে তোলা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে তলিয়ে যায় সব ফসল। হাওরে ব্যাপক ফসলহানিতে সারা দেশে চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসরকারি খাতে শুল্ক পুরোপুরি তুলে দিয়ে চাল আমদানির ব্যবস্থা করতে হয়েছিল সরকারকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ও চলতি বছর হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকার বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়। বাস্তব ক্ষেত্রে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, সরকারের যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কাজের মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

ওদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দফায় বৃষ্টি ও চলতি মাসের শুরু থেকে বিরূপ আবহাওয়া কৃষকসহ হাওর এলাকার মানুষকে নতুন করে আতঙ্কিত করে তুলেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। কর্তৃপক্ষের দাবি, গত সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ৯০ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৯০ শতাংশ ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও সংগঠকদের দাবি, কিশোরগঞ্জে কাজ হয়েছে ৫০ শতাংশের মতো। সুনামগঞ্জে কাজ এগিয়েছে ৬০ শতাংশের মতো। অন্যদিকে নজির স্থাপন করেছে নেত্রকোনা, যেখানে সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। ২০১৭ সালেও হাওর এলাকার মানুষ বলেছিল, সময়মতো বাঁধ মেরামত করা হলে অকালবন্যায় ফসলহানি হতো না। সেবার ফেব্রুয়ারিতে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরুই হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। এবার ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। রয়েছে আরো অভিযোগ।

শুধু হাওরের ফসল ঘরে তোলা গেলে দেশের বেশির ভাগ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। আর সে কারণেই বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হাওর রক্ষণাবেক্ষণের কাজে তদারকি বাড়াবে এবং কারো কোনো অবহেলা ধরা পড়লে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদি।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com