রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

প্রসঙ্গ কাশ্মীর : অভ্যন্তরীণ ইস্যুর সীমাটা কতটুকু

প্রসঙ্গ কাশ্মীর : অভ্যন্তরীণ ইস্যুর সীমাটা কতটুকু

প্রসঙ্গ কাশ্মীর : অভ্যন্তরীণ ইস্যুর সীমাটা কতটুকু

শেখ ফজলুল করীম মারুফ : পাশের বাড়িতে ধর্ষন হতে দেখেও যে”অভ্যন্তরীণ ইস্যু” বলে নির্লিপ্ত থাকতে পারে, যে অমানুষ পড়শিকে খুন হতে দেখেও “অভ্যন্তরীণ ইস্যু” বলে এড়িয়ে যেতে পারে, পাশের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেও যে “অভ্যন্তরীণ ইস্যু” বলে চুপচাপ থাকতে পারে তারাই কেবল কাশ্মীরে ভারতের নৃশংসতা, গোটা ভারত জুড়ে হিন্দুত্ববাদী উগ্র সন্ত্রাসীদের বিভৎসতা ও আসামে ভারতের জাতিগত নিধনযজ্ঞ দেখেও ভারতের “অভ্যন্তরীণ ইস্যু” বলে শান্তিতে রবীন্দ্র চর্চা করতে পারেন বা ইসলামের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে “ইলমের জাবর কাটতে” পারেন।

আর যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে, যাদের মাঝে সামান্য হলেও বিবেক আছে তারা ভারতীয়দের এইসব পশুসুলভ কার্যক্রমে চুপ করে থাকতে পারে না।

প্রতিবেশীদের বিপদে এগিয়ে আসার শিক্ষা আমরা ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকেও পেয়েছি। একাত্তরে তারা আমাদের বিপদ দেখে এগিয়ে এসেছিলেন। ভারতের বর্তমান বিপদেও আমরা এগিয়ে যাবো।

মনে করে দেখেন, ৭১ এ পাকিস্তানীদের বর্বরতাকেও পাকিরা তাদের নিজস্ব ও “অভ্যন্তরীণ ইস্যু” বলে অবহিত করতো। তখনকার প্রতিবেশীরা যদি পাকিদের সেই কথাকে মেনে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকতো তাহলে আজকের বাংলাদেশ একটি গোরস্থানে পরিনত হতো। ঠিক তেমনি আজকে যদি আমরা কাশ্মীর ও আসামসহ সমগ্র ভারতের যে সাম্প্রদায়িক নৃশংসতা হচ্ছে সেটাকে যদি পরা”জয় শংকর”দের কথা মতো ভারতের “অভ্যন্তরীণ ইস্যু” মেনে নিয়ে চুপচাপ থাকি তাহলেও ভারতের মানবতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

অতএব,
যেখানেই মানবতা লাঞ্চিত হবে সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করবো। যেখানেই নৃশংসতা হবে সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করবো। যেখানেই সাম্প্রদায়িকতা বিষবাষ্প ছড়াবে সেখানেই আমরা শান্তির ঝান্ডা নিয়ে এগিয়ে যাবো। কারণ, এটাই ইসলামের শিক্ষা।

মানবতার কোন সীমারেখা নাই।

উপেক্ষা করুন : সভ্যতার সংঘাতের এই সময়ে যখন অন্য সভ্যতাগুলোর বিবেকহীন নেতৃত্ব একজোট হয়ে মুসলমানদের হত্যা-খুন ও ধর্ষন করছে, যখন কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণেই জনপদের পর জনপদে জালিমের অত্যাচারে রক্তাক্ত হচ্ছে তখন ইসলামেরই একদল “পুরোহিত” বহু বছরের মীমাংসিত বিষয়ে বা খুটিনাটি বিষয় সামনে এনে উম্মাহকে বিভক্ত করছে।

অপশক্তির বিরুদ্ধে জাগ্রত উম্মাহর মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। উম্মাহকে আত্মকলহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বোখারা সমরকন্দের পতনের সময়ও এই তথাকথিত পুরোহিতরা খুটিনাটি মাসয়ালা নিয়ে দ্বন্দ্ব করে উম্মাহকে বিভক্ত রেখেছে। উম্মাহর মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে কমিউনিষ্টদের সুবিদা করে দিয়েছে।

এখনও হয়তো কেউ কেউ ভারতের কাশ্মীরে চলা নৃশংসতার বিরুদ্ধে জাগ্রত বোধকে নষ্ট করতে মীমাংসিত বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তুলেছে।

এদের থেকে উম্মাহকে সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য করণীয় হলো, তাদের তুলে দেয়া বিষয়কে সম্পুর্ন উপেক্ষা করা। কোন জবাবও দেয়ার দরকার নাই।

এদেরকে উপেক্ষা করুন। এটাই তাদের সমুচিত জবাব।

লেখক : রাজনীতিক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ীনয়

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com