সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে সংযত আচরণ জরুরি

প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে সংযত আচরণ জরুরি

প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে সংযত আচরণ জরুরি

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ঢালাওভাবে সকলকে দায়ী করা ঠিক নয়। প্রতিবাদের ক্ষেত্রে সংযত হওয়া চাই। একটা দেশের সকলেই কিন্তু অপরাধী নয়। সকলেই কিন্তু সন্ত্রাসী নয়। অপরাধী থাকে দু , চার, জন। এই দুয়েক জনের কারণে পুরো দেশকে দায়ী করা বা পুরো দেশের জনগণকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়।

আমার মনে পড়ে, যখন দারুল উলুম দেওবন্দ পড়ি, সে সময়ে নিয়মিত তাবলীগের কাজের সাথে জুড়ে থাকার চেষ্টা করেছি। মাঝে মাঝে জামাতে নিয়ে দেওবন্দ সাহারাণপুর, মোজাফ্ফর নগর সহ বিভিন্ন জায়গায় সফর করতাম। তাবলীগে গিয়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষের সাথে কথাবার্তা হত। সেখানে দেখতাম, একই জায়গাতে হিন্দু, মুসলিমের সহাবস্থান। পাশাপাশি বাড়ি ঘর।

আমি অনেক মুসলিমের কাছে জিজ্ঞেস করেছি, আমরা তো বাংলাদেশ থেকে অনেক দাঙ্গা- হাঙ্গামার কথা শুনেছি, মুসলমানদের কে বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালানো হয়, আপনারা কি কখনো সে দাঙ্গা- হাঙ্গামার শিকার হয়েছেন?

সেই সময়ে সে সব মুসলিম ভাইদের পক্ষ থেকে জওয়াব শুনে ছিলাম, তারা বলেছিল, ভারতের কোথাও কোথাও কোন সন্ত্রাসী কর্তৃক মুসলিম ভাইয়েরা আক্রান্ত হতে পারেন, তবে এটা সব জায়গাতে নয়। আর যে সন্ত্রাসী, তার কোন দল নেই, তার কোন ধর্ম নেই।

তারা আরো বলেছিলেন, আমরা মুসলিম – হিন্দু এক সঙ্গে মিলে মিশে বসবাস করছি, আজ পর্যন্ত কোন হিন্দু আমাদের উপর নখের আঁচড় দেয়নি। বরং সব সময় আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে রাখে।

মুসলিম ভাইয়েরা আরো বলে ছিলেন, বাবরী মসজিদকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু জায়গায় দাঙ্গা- হাঙ্গামার কথা শোনা যাচ্ছিল, আমাদের এলাকার কয়েকটা পরিবার ভুল বুঝে তারা এলাকা ত্যাগ করে কোন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়েছিল, খবর পেয়ে আমাদের এলাকার হিন্দু ভায়েরা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল, এবং তারা বলল, তোমাদের কোন ভয় নেই, তোমরা এই এলাকা ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেনা। আমরা হিন্দু সম্প্রদায় তোমাদের নিরাপত্তা দিব।

এভাবে ভারতজুড়ে সব জায়গাতেই মানুষের বসবাস। অধিকাংশ হিন্দু কিন্তু মুসলিমদের পক্ষে। সব হিন্দু কিন্তু খারাপ নয়। তবে কিছু কিছু জায়গায় যে সন্ত্রাসী নেই, তা নয়। বিভিন্ন জায়গায় উগ্রবাদী গোষ্ঠী রয়েছে, সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। তারা সময়ে অসময়ে মুসলমানদের উপর নির্যাতন করে থাকে। সুতরাং এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো দেশ কে দোষী করা, পুরো হিন্দু জাতিকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।

কেননা, যারা দোষী নয়, তাদেরকে যদি দোষ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা বড় কষ্ট দায়ক।

এমনিভাবে আমাদের দেশে যে সব হিন্দু ভায়েরা রয়েছে, তারাও আমাদের ভাই। তাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। তাদের কোন প্রকার ক্ষতি হোক, এটা কারো কাম্য নয়।
এ কারণে কোন হিন্দু ভাই বা বোন ভুল করেন, তার জন্য পুরো হিন্দু সম্প্রদায় কে দোষী করা যাবেনা। যিনি অন্যায় করেছেন তিনি শুধু দায়ী থাকবেন।

বন্ধু, আমাদের সতর্ক হওয়া চাই। প্রতিবাদের ক্ষেত্রে সংযত হওয়া দরকার। ঢালাও ভাবে সবাইকে কোন বিষয়ে দোষী করাটা ঠিক নয়। কোন সম্প্রদায়ের বা কোন দেশের দু একজনেরর ভুলের কারণে পুরো জাতিকে, পুরো দেশের সকল জনগণকে দোষারোপ করা বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়।

আমরা অনেক ক্ষেত্রে ব্রেক ফেল করি। কোথাও কিছু ঘটলে, সেটাকে কেন্দ্র করে হুলুস্হুল করে ফেলি। মঞ্চে উঠে গরম গরম বক্তৃতা করি। দেখা যায়, সে সব বক্তৃতা অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মুল বিষয়বস্তু রেখে অন্য প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসি। সেই সাথে উস্কানীমূলক এমন এমন কথা আমাদের এসে যায়, যেটা নিয়ে আমরা আন্দোলন করছিলাম, সেটার আর কোন মুল্য থাকে না।

আমাদের কিছু মিডিয়া আছে এরকম, মুল কথা বাদ রেখে অপ্রাসঙ্গিক কথাকে বেশী ভাইরাল করেন। শেষমেষ মুল বিষয় বস্তু ধাঁমা চাপা পড়ে থাকে সব সময়।

বর্তমান মিডিয়ার যুগ। যে যখন যাই বলছে, সাথে সাথে সেটা মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে।

আমরা তো ভাল নিয়তে মাঠে নেমেছি। মজলুম দের উদ্ধার করাই আমাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু আমরা এমন ভাবে মজলুমদের উদ্ধারে গিয়েছি, মজলুমগণ এখন আমাদের সতর্ক করছেন।
এর কারণ, দেশ প্রেম সবার মধ্যে রয়েছে, তাদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে যদি, তাদের দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান আমরা দেই,তাদের দেশ খণ্ড- বিখন্ড হয়ে যাক, এধরনের বক্তৃতা দিয়ে ময়দান গরম করি, তাহলে তো তাদের মাইন্ডে লাগবেই।

এজন্য ধন্যবাদ তাদেরকে, যারা মজলুম মানুষের পক্ষে কথা বলছেন। তবে কথা বলায় সংযত হোন।

আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com