সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

পেঁয়াজের রাতলিপি

পেঁয়াজের রাতলিপি

আমিন আশরাফ : গতকাল খবর পেলাম ভারত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিসে। এরপর হিলি সীমান্তেও নাকি পেয়াজের দাম ৭০/ ৮০ টাকা হয়ে গেসে।

গরিব লেখক মানুষ আমি ভাবলাম। দুতিন ঘণ্টায় তো আর পেয়াজের দাম বাড়াবে না। আগের দামে কিছু কিনে রাখি। দাম বাড়াতে কিছু সময় লাগবে। হন্তদন্ত হয়ে ব্যাগ নিয়ে বাজারে ঢুকলাম। যার কাছে সব সময় সদাই করি, তারে জিগাইলাম, পেয়াজ কত?

৯০ টাকা। ৭০ থেকে একলাফে ৯০ টাকা। ভাই আপনারা এতো তাড়াতাড়ি সংবাদ পেয়ে গেলেন। দোকানি জবাব দিল ভাই মোবাইলের যুগ।

আরেক দোকানিরে জিগাইলাম, ১০০ টাকা। ওরে বাবা! এ দেহি আরো এডভান্সড। ভাবলাম পাইকারি বাজারে যাই। একজন বললেন ওখানেও ১০০ টাকা হয়ে গেছে। আরেক দাড়িওয়ালা যুবক দোকানিরে জিগাইলাম, সে হেসে বলল, পাঁচকুড়ি। গুণে দেখলাম এও দেহি ১০০ টাকা চায়। আমার সাথে আরেকজন এসে জোড়লেন। বললাম, পেয়াজ কি দাম বাড়লে কিনছেন না আগে কিনছেন? বলল, এ কয়েক কেজিই ছিল। বুঝলাম, আগের কেনা!

আগের কেনা হলে আগের দামে বেচেন। বাড়ালেন কেন? এটা তো ভাই ব্যবসার নিয়ম না। সাথের লোকটা সমানে উপদেশ দিতে লাগলেন বাট পেয়াজ মামার হাসি বাড়লেও কমায়নি পেয়াজের দাম। মনে মনে ভাবলাম, ধ্যাৎ ফাও উপদেশ দিলাম। বিফল হয়ে ফেরার পথে আরেক দোকানিকে বললাম, পেয়াজ কত?

৮০ টাকা।

তাড়াতাড়ি ৫ টাকা দামের বাজারের এগিয়ে দিয়ে বললাম ভাই আর কমানো যায় না।

লোকটা না করল।

মনে মনে ভাবলাম, তাড়াতাড়ি ৮০ টাকাতেই সন্তুষ্ট হয়ে ফিরি। ওই লোকটা মনে হয় খবর পায়নি।

বাজার হতে বেরুতেই দেখা গেল। ব্যাগটা ছেড়া। বেশ কয়েকটা পেয়াজ পড়ে গেছে। দুতিনজন লোক ব্যাগটা গিট দিয়ে ঠিক করে পেয়াজগুলো তুলে দিতে দিতে বলল, কত করে আনছেন। লোকজন বাজারে ঢুকতে গিয়ে কুরবানি গরুর মতো জিজ্ঞেস করতে লাগল, ভাই কত করে আনছেন? আমি জবাব দিতে লাগল।

দুটো পেয়াজ এখনো পড়েছিল। ফেলে রেখে লাভ নেই। এতো দামি পেয়াজ ফেলে রাখলে লোকজনের পায়ের নীচে পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যাবে। কিন্তু পেয়াজের দাম সম্পর্কে তাদের কোনো আইডিয়া হবে না। দুপুরে বাসায় না খাওয়ার কারণে বউয়ের একটা ঝাড়ি পাওনা হয়েছিল। ভাবলাম ২০ টাকা কমে পেয়াজ কেনার কারণে দুপুরে না খাওয়ার শাস্তি কিছুটা হলে মওকূফ হবে।

বললাম, কেজিতে বিশ টাকা করে বেঁচে গেছে, তো কি হয়েছে। পেয়াজ দর কম হলেও তুমি কিনবে বেশি হলে সেই তুমি। বাট দুপুরে ভাত না খাওয়ার কারণে ঠাণ্ডা ভাতও তোমার গলধঃকরণ করতে হবে।
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে রাত হয়। ঠাণ্ডা খাবারের প্রতি অনাগ্রহ বেচারা আমি বিশ টাকা কমে পেয়াজ নিয়েও শেষ রক্ষা হল না।

আজ সকালে শুনি সেই পেয়াজ ১২০ টাকা। কত টাকা বাঁচাইছি গরিব লেখকের বউ যদি বুঝতো হয়তো স্পেশাল কোনো খাবারের আয়োজন করতো।

লেখক : গল্পকার ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com