বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১১ অপরাহ্ন

পটিয়ার হযরত কারী সাহেব একদিন জুমা পড়াতে উঠলেন

পটিয়ার হযরত কারী সাহেব একদিন জুমা পড়াতে উঠলেন

পটিয়ার হযরত কারী সাহেব একদিন জুমা পড়াতে উঠলেন

কে এম হাবিবুল্লাহ : বড় কারি সাহেব হুজুর রহ. একদিন জুমা পড়াতে উঠলেন পটিয়া মাদ্রাসার মসজিদে। তিনি নিয়মিত জুমা ও নামাজ পড়াতেন। আমি তখন ছোট। মিজান অথবা নাহুমির পড়ছি। সেদিন জুমার খুতবা কয়েক লাইন পড়েই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। এমনভাবে কাঁদছেন যে তাঁর কান্নার আওয়াজ আমরা শুনতে পাচ্ছি। কান্নায় হেঁচকি উঠে যাচ্ছে।

তিনি খুতবা আর দিতে পারলেন না। নেমে কাতারে বসে পড়লেন। তখন মুফতি আব্দুর রহমান সাহেব হুজুর রহ. উঠে খুতবা দিলেন, আর নামাজ পড়ালেন। নামাজের পরে কয়েক জনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, হযরত হাজি সাহেব হুজুর রহ. সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর এসেছে জুমার একটু আগে। আল্লাহু আকবার। হাজি সাহেব হুজুরের জন্য কতটা মুহাব্বাত উনার অন্তরে ছিল চিন্তা করুন। হুজুরের অসুখের খবরে তিনি এমনভাবে কাঁদছেন যেন নিজের মা-বাবা মারা গেছেন।

বড় কারি সাহেব হুজুর তাহাজ্জুদের সময় জিকির করতেন। উনার জিকিরের সুর ছিল হুবহু হাজি সাহেব হুজুরের জিকিরের সুরের মত। কিছুক্ষণ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আবার কিছুক্ষণ ইলাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ। আবার কিছুক্ষণ আল্লাহু আল্লাহ্‌, আল্লাহু আল্লাহ্‌, আল্লাহু আল্লাহ্‌। হাজি সাহেব হুজুর রহ. জিকির করতেন একটু বড় আওয়াজে বড় কারি সাহেব হুজুর করতেন একটু ছোট আওয়াজে।

আছি ছোট ছিলাম। আমি ত তখন তাহাজ্জুদের সময় উঠতাম না। আমি কেমনে শুনতাম হাজি সাহেব হুজুর আর বড় কারি সাহেব হুজুরের জিকির? শুনতাম কারণ তাহাজ্জুদের সময় আমার আব্বা (শায়খুল হাদিস মাওলানা ইসহাক রহ.) আমাকে পেশাব করানোর জন্য ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। আমার আব্বার রুম ছিল তখন বড় কারি সাহেব হুজুরের রুমের পাশে। মসজিদের পূর্ব পাশে হুজুরদের বাসায় যাওয়ার জন্য যে গেইট ছিল, সেই গেইটের দক্ষিণ পাশে ছিল আমার আব্বার রুম, আর গেইটের উত্তর পাশে ছিল বড় কারি সাহেব হুজুরের রুম। হুজুর আমাকে মাঝে মধ্যে ডাক দিতেন। হাবিবুল্লাহ এই দিকে আয় তো। কাপটা ধুয়ে আন।

তারপর দুই বছর পোকখালী মাদ্রাসায় পড়ে আবার যখন পটিয়া মাদ্রাসায় আসলাম, তখন দেখলাম হুজুর আমাকে হাবিবুল্লাহ ডাকার পরিবর্তে আহমদুল্লাহ ডাকছেন। আমি বুঝতে পারছি যে, এই দুই বছর আমার মেজ ভাই আহমদুল্লাহ হুজুরের কাছে কেরাত পড়েছেন। তাই আহমদুল্লাহ নামটাই হুজুরের মুখে চলে আসছে। আবার একটু পরে হুজুর নিজেই বলছেন, তুই ত আহমদুল্লাহ না। তুই ত হাবিবুল্লাহ। আমি বলতাম জি হুজুর। আহমদুল্লাহ কোথায়? তিনি অমুক মাদ্রাসায় চাকরি করেন। ও আচ্ছা। সে ভাল আছে ত? জি হুজুর। ভাল আছে। আহ, কত মুহাব্বাত করতেন আমাদেরকে।

বড় কারি সাহেব হুজুর নামাজ পড়ানোর সময় যে তাকবির বলতেন সেটা দূর থেকে শুনেও বলে দেয়া যেতো যে এটা রুকুতে যাওয়ার তাকবির, আর এটা প্রথম সিজদা বা দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠার তাকবির, আর এটা আত তাহিয়াতুর জন্য বসার তাকবির অথবা এটা তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠার তাকবির।

আমরা একে একে আমাদের মুরব্বিদেরকে হারিয়ে ফেলছি। ক’দিন আগে চলে গেলেন মাওলানা রহমতুল্লাহ সাহেব হুজুর রহ.। তাঁর আগে চলে গেলেন মাওলানা ইসমাইল সাহেব হুজুর রহ.। হযরত খতিবে আজম সাহেব হুজুর রহ., হযরত মির সাহেব হুজুর রহ., হযরত হাজি সাহেব হুজুর রহ. হযরত ইমাম সাহেব হুজুর রহ. হযরত বোয়ালভী সাহেব হুজুর রহ. হযরত হারুন ইসলামাবাদী রহ., হযরত গাজি সাহেব হুজুর রহ., হযরত নজিরুল ইসলাম সাহেব হুজুর রহ., হযরত মুহাম্মদ শরিফ সাহেব রহ.,হযরত আনোয়ারুল আজিম সাহেব হুজুর রহ., হযরত কদিম সাহেব হুজুর রহ. হযরত জাদিদ সাহেব হুজুর রহ. হযরত আইয়ুব সাহেব হুজুর রহ. হযরত ছিদ্দিকুল্লাহ সাহেব হুজুর রহ, হযরত মীর কাছেম সাহেব হুজুর রহ.সহ আরো অনেক মুরব্বি চলে গেলেন আল্লাহর কাছে। আল্লাহ্‌ তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।

আর আমাদের যেসব পিতৃতুল্য মুরব্বি এখনো আমাদের মাথার উপর ছায়া হয়ে আছেন আল্লাহ্‌ তাদেরকে হায়াতে তাইয়িবাহ দান করুন।
تازہ خواہی داشتن گر داغہاے سینہ را
گاہ گاہ باز خوانی قصہئے پارینہ را

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com