মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

নারী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের ভুল!

নারী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের ভুল!

যুবায়ের বিন আরমান : এক। নারী নেতৃত্ব হারাম, তাইলে নারী সরকারের অধীনে দেশে থাকো কেন?

এই প্রশ্নটা অনেক তরুণ আলেমকেও করতে দেখা যায়। অনেক লিডারও এই প্রশ্ন আওরান।

অথচ বাস্তবতা হলো নারী নেতৃত্ব মানা আর দেশে থাকা দুটো কখনই এক নয়।

দেশে থাকার ব্যাপারে হুকুম হলো, দেশের সরকার যদি কাফের, নাস্তিক, বেদ্বীনও হয় তবুও দেশে থাকা জায়েয। কারণ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে প্রায় অসাধ্য। আর ইসলাম সাধ্যের বাইরে নির্দেশ দেয় না। হ্যাঁ, যদি দেশে থেকে ব্যক্তিগত ইবাদত করতে নিষেধাজ্ঞা থাকে তবে এই অঞ্চল ত্যাগ করে হিজরত করা জরুরি হবে যদি অন্যত্র যাবার জায়গা থাকে।

তাই যারা নারী নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে যাওয়াকে দেশে অবস্থানের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন তারা জেনে বা না জেনে ভুল করছেন। স্পষ্ট ও মারাত্মক ভুল।
দুই। নারী নেতৃত্বের অধীনে যাওয়া জায়েয নয় তা সকলেই মানেন।

কিন্তু কিছু ইসলামী দল জোটে কেন গেলো?

নারী জোটে কেন গেলো? এই প্রশ্নের উত্তরে ইদানীং একটি নেতিবাচক জবাব দেন অনেকে।

তারা বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন কথাটা ঠিক নয়। জোটের সব দলই আলাদা আলাদা আমীরের অধীন। তাই নারী নেতৃত্বাধীন কথাটা ঠিক নয়।
আমার খুব ইচ্ছে নেই এসব নিয়ে বিতর্ক করার। আমি ২০০১ সালে হওয়া জোটের বিপক্ষে নই। আমাদের জানা মতে জোটটি নারী নেতৃত্বাধীনই হয়েছে। তবে তা ছিল দেশ ও ধর্ম রক্ষার স্বার্থে নিরূপায় হয়ে। তাও শর্ত সাপেক্ষে। তাই জায়েয ছিল। যদিও বর্তমানে ফায়দা নেই। নিষ্ফল।

যারা বলেন, জোটে গিয়েও নারী নেতৃত্বাধীন হয়নি তাদের কথা ঠিক নয়।

কারণ জোটের একজন নেতা অবশ্যই আছেন। বিশ দলের নেতৃত্ব অবশ্যই বিএনপির হতে। পত্রিকা স্পষ্টই লিখে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

কই? তখন তো প্রতিবাদ করে বলা হয় না, আমরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নই!

তাছাড়া জোটের যখন মিটিং হয় তখন বেগম জিয়াই সভাপতি থাকেন। অতএব বাস্তবতা অস্বীকার করে উত্তর দেওয়া যায় না।

তবে আমার কাছে এটাও খারাপ লাগে, যারা নিজেদের কাজকর্ম রেখে কথায় কথায় নারী নেতৃত্ব বলে আঘাত করেন তাদের উপর। আঘাত না করে নিজেদের কাজেই মনোযোগী হওয়া চাই।

কারণ আলেমদেরে আঘাত করে বুঝানো অসম্ভব। নিজেদের কাজ করুন। সময়ই মূল্যায়ন করবে। আঘাত করলে প্রতিবন্ধকতা বাড়বেই। বাড়ছেই। এখনো আন্তরিক হই। এর বিকল্প নেই।

তিন। ‘নারী নেতৃত্ব হারাম, গণতন্ত্র আরাম’!

খিস্তিখেউড়ি করে এই কথাটাও অনেকে বলেন।

এটাও একটা ভুল ধারণা।

কারণ গণতন্ত্র স্পষ্ট হারাম। আমি প্রায় সকল ইসলামী দলের গঠনতন্ত্র, সংবিধান পড়েছি। কোনো দলই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেনি। সবার লক্ষ্যই ইসলামী শাসনতন্ত্র, ইসলামী খেলাফত বা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা কেউ বলে না। কোনো ইসলামী দল যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তবে সেটা ইসলামী দল নয়। অবশ্যই ইসলামী দল হতে পারবে না।

কিছু হাস্যকর অজ্ঞতা হলো, ইসলামী দলের অনেক নেতাকর্মীই জানেন না তাদের গঠনতন্ত্র। তারা জানেন না তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই কেউ যখন তাদেরে গণতান্ত্রিক বলে আঘাত করে তখন তারা ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে নিরব হয়ে যান।

অথচ স্পষ্ট কথা হলো হকপন্থী কোনো দলই গণতন্ত্রকামী নয়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া, ভোট প্রদান করা এসবের হুকুম ভিন্ন।

ভোট হলো নেতা নির্বাচনের মাধ্যম। এটার কিছু শরঈ নিয়মকানুন আছে। যারা ভোটের আয়োজন করে তাদের জন্যে এসব নিয়ম পালন জরুরি। তারা যদি নিয়ম না মানে তবে আমাদের জন্যে ভোট বর্জনের কথা ছিল। কিন্তু আমরা যদি বর্জন করে বসে পড়ি তবে খুব সহজেই তারা সব দখল করে নেবে। এজন্যে ছাড় দেওয়া যায় না। তাই বেশ কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে ইসলামী দলের অংশগ্রহণকে বৈধ মনে করেন মুফতিগণ। আর ভোট দেওয়াকে ওয়াজিব বলে রায় দিয়ে থাকেন। (বিস্তারিত জানতে সম্মানিত মুফতিদের জিজ্ঞেস করা যায়)

তাই না বুঝে ইসলামী দলকে গণতান্ত্রিক বলে আঘাত করা অজ্ঞতা বা হিংসার আলামত।


লেখক : গবেষক আলেম

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com