সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

নারীর পর্দা আমাদের সুরক্ষা

নারীর পর্দা আমাদের সুরক্ষা

আবু আরীবা আমিন আজহারি

দুনিয়া দারুল ইমতিহান। পরীক্ষার জায়গা। আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বালা-মুসিবত দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। দুনিয়াতে মানুষের জীবন এক অবস্থায় থাকে না। অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। আর এটা যেমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সত্য তেমনি সত্য জাতি-গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও। এ জীবনে যেমন আসে সুখের পর দুঃখ, সুস্থতার পর অসুস্থতা তেমনি আবার আসে দুঃখের পর সুখ এবং অসুস্থতা পর সুস্থতা। সছলতার পর অসছলতা আবার অসছলতার পর সছলতা। পরিবর্তনের এই চলমান ধারাই হলো পার্থিব জীবন। এরশাদ হছে, আল্লাহ কষ্টের পর দিবেন স্বস্তি,। [সূরা তালাক : আয়াত ৭] অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি। [সূরা আলাম নাশরাহ : ৬] রাসূল ( সা.) বলেন, আরো জেনে রাখো-ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বছলতা আসে। [মুসনাদে আহমদ : ২৮০৩]

স্বছলতা -অস্বছলতা ও সুখ-দুঃখ উভয় অবস্থাই মুমিন বান্দার জন্য পরীক্ষা। তাই স্বছলতায় খুশি এবং অস্বছলতায় দুঃখিত হতে নেই।হযরত আলী রাযি.বলেন,হে বনী আদম! তুমি প্রাচুর্যের কারণে খুশি এবং দরিদ্রতার কারণে নিরাশ হয়োনা। বিপদে দুঃখিত এবং স্বছলতায় আনন্দিত হয়োনা। কেননা, স্বর্ণকে আগুন দ্বারা পরীক্ষা করা হয় আর নেককার বান্দাকে পরীক্ষা করা হয় বালা-মুসিবত দ্বারা। [রিসালাতুল মুসতারশিদীন : ৫১-৫২]

আল্লামা ফিরোজ আবাদী রহ.বলেন, আল্লাহতায়ালা বান্দাকে কখনো সুখ দিয়ে পরীক্ষা করেন, যেন তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আবার কখনো পরীক্ষা করেন দুঃখ দিয়ে, যেন কষ্টে ধৈর্য্য ধারণ করে। সুতরাং দুঃখ-কষ্ট ও সুখ-শান্তি উভয়টাই বান্দার জন্য পরীক্ষা। [রিসালাতুল মুসতারশিদীন : ৫২]

কোরআনে কারীমে আল্লাহতায়ালা বলেন, আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি। [সূরা আম্বিয়া : ৩৫]

দুনিয়াতে প্রতিটি ইবতিলা বা বালা-মুসিবত মুমিনের পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সময় বান্দাকে বিভিন্ন ইবতিলায় পতিত করেন। এ সব ইবতিলার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষা করে থাকেন, যেন বান্দার ঈমানের সত্যতা ও ধৈর্য্য এবং কৃতজ্ঞতার বিষয়টি জানতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি জেনে নিতে পারি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদকারী ও ধৈর্যশীল। এবং আমি তোমাদের কার্যবলী পরীক্ষা করি। [সূরা মুহাম্মাদ : ৩১]
একজন মুমিন যখন এ বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করেন তখন তার অন্তর শান্ত হয় এবং প্রশান্তি লাভ করে। সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যা কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন, সবকিছুই তার জন্য কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক। রাসূল সা. বলেছেন, মুমিনের অবস্থা ভারী অদ্ভূত। তাঁর সমস্ত কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ব্যতীত অন্য কারও জন্য একল্যাণ লাভের ব্যবস্থা নেই। সুতরাং তাঁর সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়। [মুসলিম : ৭২২৯] পর্দা শব্দটির সঙ্গে সমাজের শিক্ষিত ও অশিক্ষিত সবাই পরিচিত। পর্দা হছে বস্ত্রাদি তৈরি আবরণ বা আছাদন। পর্দা বলতে পর্দা-পুশিদাকেও বোঝায়, যার অর্থ অন্তরাল বা গোপনীয়তা। পর্দানশিন হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। মোট কথা পর্দা শব্দটি নারী এবং নারীসমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ইসলামে পর্দা একটি ইবাদত, সালাত যেমন ইবাদত। এটি আল্লাহর নির্দেশ। সুতরাং বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়। তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে।ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু। [সূরা আহযাব : ৫৯]

পর্দা প্রকৃত অর্থে নারীর ভূষণ। নারীর অলঙ্কার যাকে সাজসজ্জা বা সৌন্দর্য বলা হয়েছে। পর্দা নারীর, পরিবার, সমাজ ও জাতির সুরক্ষা দূর্গ। যে সমাজ ও রাষ্ট্রের নারীরা পর্দাবৃত হবে সে সমাজ ও রাষ্ট্রের লোকেরা বালা-মুসিবত থেকে সুরক্ষিত থাকবে। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, যে সমাজ বা রাষ্ট্রে চার শ্রেণির লোক থাকবে সে সমাজ বা রাষ্ট্রের লোকেরা আসমানী বালা-মুসিবত থেকে সুরক্ষিত থাকবে। যেমন- এক. ইনসাফগার ইমাম বা নেতা, যে যুলুম করে না।

দুই. হক্কানী আলেম।

তিন. শায়েখ-মাশায়েখ, যারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করে এবং মানুষকে ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও কোরআন শিক্ষার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে।

চার. তাদের নারী বা স্ত্রীরা,যারা পর্দায় আবৃত থাকে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়ায় না। [আল জামি লি আহকামিল কোরআন ৪/৪৯]

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালাও মুসলিম নারীদেরকে প্রাচীন জাহেলী যুগের নারীদের মত খোলামেলা চলাফেরা করতে নিষেধ করেছেন। [সূরা আহযাব : ৩৩] কাজেই আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতি এবং রাষ্ট্রকে খোদায়ী গজব থেকে হেফাজত করার জন্য মা-বোন ও মেয়ে এবং স্ত্রীদের পর্দার ব্যাপারে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

লেখক : এমফিল গবেষক : আল আযহার ইউনিভার্সিটি কায়রো, মিসর

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com