বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

নামাজ পড়ে ঘুষ খাওয়া আল্লাহর সঙ্গে ধাপ্পাবাজি : আল্লামা মাসঊদ

নামাজ পড়ে ঘুষ খাওয়া আল্লাহর সঙ্গে ধাপ্পাবাজি : আল্লামা মাসঊদ

ফরীদ উদ্দীন মাঊদ, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম

নামাজ পড়ে ঘুষ খাওয়া আল্লাহর সঙ্গে ধাপ্পাবাজি : আল্লামা মাসঊদ

শীলন বাংলা রিপোর্ট : নামাজ পড়ে ঘুষ খাওয়া আল্লাহর সঙ্গে ধাপ্পাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, মালে ভেজাল দেয়, গীবত করে, মানুষকে ধোঁকা দেয়- এসব আল্লাহর সাথে বাটপাড়ি করার শামিল। আর পাক্কা মুমিন, পাক্কা নামাজে কখনো আল্লাহর সাথে বাটপাড়ি করতে পারে না।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, মুসলমানের জীবন মসজিদকে নিয়েই। এজন্য মসজিদের আদব রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মসজিদে আসার আদবসমূহের মধ্যে প্রথম আদব হলো পবিত্রতা অর্জন করা। আর বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জনের আগেই হৃদয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

মসজিদে ওজু করে আসার আহ্বান জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড বলেন, মসজিদে ওজু করে আসুন, সওয়াবের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন। আমাদের সমাজে অনেক মুসলমানকে দেখা যায়, যারা মসজিদে গিয়ে ওজু করে নামাজ আদায় করে থাকেন। তবে মসজিদে গিয়ে ওজু করা আর বাড়ি থেকে ওজু করে মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, এ সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর হাদিস পড়লে পার্থক্যটুকু আমরা সহজেই নিরূপণ করতে পারি। নবীজী বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে অজু করে আল্লাহর কোনো ঘরের দিকে এই উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত কোনো ফরয ইবাদত (নামাজ) আদায় করবে, তাহলে তার কৃত প্রতিটি দুই পদক্ষেপের মধ্যে একটিতে একটি করে গুনাহ মিটাবে এবং অপরটিতে একটি করে মর্যাদা উন্নত করবে।’

গত সপ্তাহের আলোচনার সূত্র ধরেই ১১ অক্টোবরও একই আলোচনা করেন আল্লামা মাসঊদ। তিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, কাপড় যেমন সাবান দিয়ে ধৌত করতে হয় তেমনি হৃদয়কেও পরিষ্কার করার নিয়ম আছে। হৃদয়কে পরিষ্কারের নিয়ম হলো খালেস দিলে তাওবা করা। যিনি তওবা করেন তিনি সবচেয়ে দামী হয়ে যান। আল্লাহর নিকট অনুশোচিত হয়ে আসতাগফিরুল্লাহ বলা।

আসতাগফিরুল্লাহ কেবল কোনো জিকির নয় দাবি করে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আজকাল আসতাগফিরুল্লাহ আসতাগফিরুল্লাহ বলে জিকির তোলা হয়। বাস্তবতা হলো, আসতাগফিরুল্লাহ হৃদয়কে কলুষমুক্ত করার ঔষধ। মুখে মুখে জপে কী লাভ। যদি অন্তর কলুষমুক্ত না হয় মানুষের ব্যক্তি জীবনে কোনো সফলতা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com