সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

দ্য গ্র্যাট আল্লামা কাসেমী

দ্য গ্র্যাট আল্লামা কাসেমী

মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

দ্য গ্র্যাট আল্লামা কাসেমী

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী দামাতবারাকাতুহুম এক অবিসংবাদিত আলেমেদ্বীন এবং ইসলামী রাজনীতির সংগ্রামী এক ব্যক্তিত্ব। আপদামস্তক যার নুরানী শোভায় শুশোভিত। ইলমী জগতে তাঁর মাকাম আকাশ ছোঁয়া। আমলী এবং ইখলাসের পরিপুর্ণ এক মণিষা। নিরহংকার একজন মানুষ। নিষ্ঠার সাথে তিনি তাঁর প্রতিটি কর্ম সম্পাদন করেন। বর্তমান সময়ে ইসলামী রাজনীতিতে তাঁরমত ব্যক্তিত্ব, তাঁরমত পরিশ্রমি, তাঁরমত তীক্ষ্ন মেধাবী মানুষ অনেক কম। হাতে গোনা দু – চারজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পাওয়া যাবে। একজন বিরল ব্যক্তিত্ব বলা যায় তাঁকে।

আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী সাহেব যিনি ঢাকা বারিধারা মাদ্রাসার মোহতামিম ও শায়খুল হাদীস। জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল। সেই সাথে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর এবং ঢাকা মহানগরীর সভাপতি।

আমার দেখা একজন মুখলিস আলেম এবং রাজনীতিবিদ। তিনি এখন গোটা বাংলাদেশ, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার আলেম সমাজের অন্যতম মুরুব্বী। তাঁর এই শীর্ষ পর্যায়ে আসার পিছনে সবচেয়ে বড় যে হাতিয়ার কাজ করেছে, সেটা হল তাঁর ইখলাস। আমার জানামতে আজ পর্যন্ত কোনদিন কোথাও নেতা হতে চান নি। বরং কোন দায়িত্ব কাঁধে নেন নি কখনো। বরং জোরপুর্বক তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব সময় নিজেকে যিনি ক্ষুদ্র মনে করেন। অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া পছন্দ করেন। এজন্য কোথাও কোন কমিটি হলে, তিনি অন্যের নাম প্রস্তাব করেন। অথচ তিনি নিজে অনেক যোগ্য। তারপরেও তিনি নিজেকে ছোট মনে করে পাশ কাটিয়ে চলে যান।

তিনি অত্যান্ত পরিশ্রমি। তিনি নেতা হিসেবে নয়, সাধারণ কর্মি হিসেবে কাজ করতে চান। বসে থাকা বান্দা নয়। অসুস্হ শরীর নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফর করেন।

আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ, কে দেখতাম, কোথাও কোন আলেমদের কমিটি গঠন হলে, তিনি দায়িত্ব নিতে চান নি। অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতেন। কাজী সাহেবকে দায়িত্ব দিলে ওজরখাহী পেশ করতেন। অন্যকে নিজের থেকে যোগ্য মনে করতেন।

ঠিক আল্লামা কাসেমী সাহেব ঐরকম সিফাতের। হুবহু আমাদের আকাবির – আছলাফের অনুসারী। বলা যায়, ওলামায়ে দেওবন্দের বাস্তব নমুনা তিনি।

আকাবিরে দেওবন্দের যোগ্যউত্তরসুরী। আকাবিরগণ যেভাবে নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে চলেছেন,ঠিক তিনিও সেরকম নিজেকে মনে করেন।

একজন সুন্নতের পাবন্দী ব্যক্তিত্ব। নবী প্রেমে যিনি মাতুয়ারা। তাঁর কথা, তাঁর চাল-চলন, তাঁর সবকিছু পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরিকা মোতাবেক। ইশকে রাসুল, হুব্বে রাসুল তাঁর মধ্যে বিরাজ করে পরিপুর্ণ ভাবে।

কাসেমী সাহেবের বক্তৃতাগুলো অত্যান্ত চমৎকার।হৃদয়গ্রাহী আলোচনা। বহু বক্তৃতা আমি শুনেছি তাঁর। ওয়াজ মাহফিল থেকে নিয়ে রাজনৈতিক প্রোগ্রামের আলোচনা শোনার তাওফিক হয়েছে আমার। আজো মনে পড়ে তাঁর ঝাঁঝালো কন্ঠের আলোচনা। বিশেষ করে শ্রোতামন্ডলীকে হতবাক করে দেয়।

অনেকবছর আগে আমরা একবার গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায় গেলাম, সেখানে আলেমদের এক সন্মেলন ছিল। মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ, সে প্রোগ্রামে তাশরীফ এনেছিলেন। মুফতী আমিনী সাহেবের সফরসঙ্গীদের অন্যতম ছিলেন তখন আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী সাহেব। গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায় আল্লামা কাসেমী সাহেব যে ভাষন দিয়েছিলেন, তা আজো স্মরণ করে মানুষ। বিশেষ করে আলেমদের হৃদয় ভরে গিয়েছিল।

মুফতী ফজলুল আমিনী সাহেব রহ, আল্লামা কাসেমীকে অত্যান্ত শ্রদ্ধা- ভালবাসায় আগলে রাখতেন। এটা ছিল আল্লামা কাসেমীর গুণাবলী, যোগ্যতা এবং ইখলাসের কারণে। তিনি তো আজীবন আমল- ইখলাসের পরিপুর্ণ একজন ব্যক্তি। যেখানে যান, সেখানেই তাঁর গুনাবলী ফুটে ওঠে।

আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী একজন ছাত্র গড়ার কারিগর। আসলে এই বাংলাদেশে তিনজন ব্যক্তিকে ছাত্র গড়ার কারিগর মনে করত তৎকালিন আলেম সমাজ। যাদের সংস্পর্শে হাজারো ছাত্র তৈরী হয়েছে। দেশ বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করেছে। সেই তিনজন মহান ব্যক্তি হলেন,
১/ আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ,
২/ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দাঃবাঃ
৩/ আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী দাঃ বাঃ

এই তিন মনিষী কওমী অঙ্গনে দ্যুতি ছড়িয়ে ছিলেন।কঠিন অধ্যাবসায়ে ছাত্রদের গড়ে তুলে ছিলেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে হাজারো গর্বিত আলেম তৈরী হয়েছে।

এই তো প্রায় আটমাস আগে ঢাকা শহরের একজন উল্লেখযোগ্য আলেম, লেখক, গবেষক এসেছিলেন আমাদের মাদ্রাসায়। তিনি তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করলেন, ঐ তিন মহান ব্যক্তির কথা। তাঁরা যেভাবে আমাকে গড়ে তুলেছেন, তাদের অবদান কোনদিন ভুলতে পারব না।

আল্লামা কাসেমী সাহেব এমনই এক ব্যক্তিত্ব। জীবনের বড় একটা অংশ তাঁর কেটেছে ছাত্র তৈরীর কাজে। তাঁর সেই কোরবানীর বদৌলতে মেধাবী ছাত্রগুলো সঠিক রাস্তা দেখেছে। তারা নিজেদের মানুষের মত মানুষ রুপে গড়ে তুলতে পেরেছে।
একজন শায়েখে কামেল আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী সাহেব। ছুলুকের লাইনে তাঁর পদচারণা। দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক প্রধান মুফতী, শায়েখ জাকারিয়া রহ, এর জা- নশীন, ফকীহুল উম্মাহ মুফতী মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রহ, এর বিশিষ্ট খলিফা তিনি। সেই নব্বই দশকে তিনি খেলাফত লাভ করেন।

জামেয়া মাদানীয়া বারিধারাতে তাঁর ইসলাহী মজলিস বসে। দুর- দুরান্তের ওলামায়ে কেরাম জমা হন সেখানে। বিশেষ করে মাহে রমজান ইতিকাফে কাটিয়ে দেন এই মহান ব্যক্তি।

আল্লামা কাসেমী আসলে অতুলনীয় এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর হাতে ইলমী মশাল প্রজ্বলিত হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। পাশাপাশি আরো জ্বলছে, ইলমে তাছাউফ ও রাজনীতির মশাল। যার আলোয় উপকৃত হচ্ছে লক্ষ- কোটি মানুষ।

হেফাজতে ইসলামের অন্যতম মুরুব্বী এখন আল্লামা কাসেমী সাহেব। যার প্রচেষ্টায় হেফাজত যেন আগের থেকে অনেক এগিয়ে।বিগত ২ নভেম্বর হেফাজত যে কারিশমা দেখাল ঢাকাতে, তাতে হতবাক বিশ্ববাসি। ২০১৩ থেকেও বেশী বড় প্রোগ্রাম মনে হয়েছে এবার। তবে এর সব কিছুর পিছনে রয়েছে আল্লামা কাসেমী সাহেবের মেহনত। তাঁর নিষ্ঠার সাথে ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ায় সফলতা পাচ্ছে প্রতিটি আন্দোলন – সংগ্রাম।

অনেক বৃদ্ধ এখন তিনি। তবুও কিন্তু ফুরিয়ে যান নি। যুবকদের মত বক্তৃতা করেন। এই তো কয়েকদিন আগে এক প্রোগ্রামে যেভাবে জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন, তাতে তো অবাক হয়েছে সবাই। নবীপ্রেমের আগুন জ্বলে ওঠেছে তাঁর হৃদয়ে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন তিনি।

এজন্য অনেকে বলেন, আল্লামা কাসেমী দ্য গ্রেট। তিনি দুরান্ত – দুর্বার। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। এক অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব। ছুটে চলেছেন তিনি বাংলাদেশের আনাচে – কানাচে। মানুষের আস্হা অর্জনে সক্ষম তিনি। তাঁর মেহনত- মোজাহাদায় ইসলামী অঙ্গনে এখন বইছে সুবাতাস। এই মহান আলেমের নেক হায়াত এবং সু-স্হাস্হ্য কামনা করি। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে উভয় জাহানে কামিয়াব করুন। আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com