শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

দেশবাসীর প্রতি খোলা চিঠি

দেশবাসীর প্রতি খোলা চিঠি

দেশবাসীর প্রতি খোলা চিঠি

মিযানুর রহমান জামীল

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

 

প্রিয় দেশবাসী! আপনাদের অবগতির জন্য এ চিঠি। যা আরো আগে দেয়ার দরকার ছিল। অন্তত শত বছর আগে। তখন যারা ছিলেন তারা দিয়েছেন তাদের মতো করে এবং তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে। সেই থেকে এই পর্যন্ত অনেক চিঠি খাম থেকে খোলার আগে উম্মাহর বিপদের দরজা খুলে যায়! সুতরাং প্রয়োজন ছিল চিঠিগুলো খোলার এবং ব্যাপকভাবে সচেতন হওয়ার।

আপনারা আমার দীনের ভাই। দীনের অঙ্গ! ভাই আগুনে ঝাঁপ দিতে গেলে পাশের ভাইয়ের দায়িত্ব তাকে সেখান থেকে যে কোনো ভাবে ফিরানো। মূলত আমরা অনেকেই এ অজানা আগুনের দিকে হরদম এগিয়ে যাচ্ছি। এ মুহূর্তে খবর পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব হিসেবে এই চিঠি লেখা। কর্তব্য হিসেবে এ কাজে অাত্মনিয়োগ করা।

প্রিয় দেশ-দরদী!
আপনারা জানেন। স্পেনের জ্ঞান-বিজ্ঞান আর শিল্প-সাহিত্যের সমৃদ্ধ প্রেক্ষপট এক সময় গোটা দুনিয়াকে উদ্ভাসিত করেছে। বিপ্লব ঘটিয়েছে মানুষের চিন্তা-চেতনায়। ইটালীর রাজা স্পেনের মুসলমানদের কাছে চিঠি লিখেছে- “আজ আমরা ইটালির একটি ভিসার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছি। আমাদের যুবকরা সাহারা মরুভূমিতে মারা যাচ্ছে। স্পেনে প্রবেশ করার জন্য সেই দিনের রাজা মুসলমানদের কাছে চিঠি লিখে- “আমাদের এখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। জ্ঞান অর্জনের কোনো কেন্দ্র নেই কোনো বিজ্ঞানী নেই। আপনাদের দেশে অনেক জ্ঞানী-বিজ্ঞানী আছে। আমরা কিছু নির্বাচিত ছ্ত্রাকে আপনাদের নিকট পাঠালাম, এদের একটু জ্ঞান দিয়ে বিজ্ঞান শিখিয়ে আমাদের দেশে পাঠান।”

প্রিয় দেশপ্রেমিক!
একদিন ফকীরের মতো ইটালির রাজা মুসলমানদের কাছে অনুরোধ করেছিল, সেই চিঠি আজও সংরক্ষিত আছে। এরপর অনেক পানি গড়িয়েছে, চাকা ঘুরে গেছে। আমরা হয়েছি ভিক্ষুক, তারা হয়েছে দাতা।
স্পেনেরে আকাশ বাতাস আমাদের লক্ষ্য করে আজো বলছে-
হে মুসলমান! আজ থেকে কয়েক’শ বছর আগে তোমাদের একটি ভূ-খণ্ড ছিল। ইউরোপের প্রবেশদার স্পেন, ইন্দুলুস, কর্ডোভা এবং গ্রানাডার এই নগরগুলো তোমাদের আয়ত্বে ছিল। এখানে পত পত করে উড়তো ইসলামের পতাকা। মিনারা থেকে উচ্চারিত হতো পবিত্র আযানের ধ্বণি। হাজার হাজার মসজিদে লক্ষ লক্ষ মানুষ মহান আল্লাহর দরবারে সিজদা করতো, ফরিয়াদ করত।

প্রিয় দেশ-বাসিন্দা!
মুসলমানরা স্পেন জয়ের পর মুসলিম খলীফাগণ আটশত বছর ইউরোপে স্পেন শাসন করেছিলেন। ১৪৯২ সালে আবার খৃস্টানরা তা দখল করে নিয়েছিল। কর্ডোভা গ্রানাডাসহ বিভিন্ন নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বড় বড় মসজিদ পাঠশালা। সেখানে বসে আলেমরা কুরআন-হাদীসের দরস দিতেন। প্রতিটি মসজিদের মধ্যে তাফসীরের বড় বড় কিতাব রচিত হয়। কর্ডোভার মধ্যে ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয় ছিল। খৃস্টানরা পড়ালেখার জন্য কর্ডোভার মসজিদগুলোতে আসতো। কালের পরিক্রমায় এক সময় খৃস্টানরা সে বিশাল অঞ্চলকে দখল করে ফেলে। স্পেন আজ আমাদের হাতছাড়া।

প্রিয় দেশজনতা!
হযরত ঈসা আ. যখন ইহুদী জাতির মধ্যে নতুন এ কিতাব নিয়ে আসলেন এবং তাওরাতকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সংগ্রাম করলেন তখন ইহুদী পাদ্রীরা তার উপর ক্ষেপে গেল। তারা বলল, ঈসাকে যদি নির্যাতন করা না হয়, মেরে ফেলা না হয়, তাহলে আমাদের পাদ্রীরা থাকবে না, লোকেরা আমাদের কথা শুনবে না। কথা মতো চলবে না। আমাদের শ্রদ্ধাও করবে না। তারা হযরত ঈসা আ. এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তখন রোম সাম্রাজ্যের যারা ক্ষমতাসীন ছিল,ইহুদী পাদ্রীরা তাদের সাথে যোগ সাজশ করে সম্পর্ক তৈরি করে। ইহুদীরা তাদের এ মর্মে প্ররোচিত করে যে, হে রোম সরকার! ঈসাকে যদি দমন না করো তাহলে ঈসার মাধ্যমে তোমাদের ক্ষমতার মসনদ উল্টে যেতে পারে। তোমরা আমাদের সাথে একজোট হও, আমরা তাকে ধর্মীয়ভাবে মোকবেলা করবো এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তোমরা তার মোকাবেলা করো আর তার উপর নির্যাতন করো। তাকে যদি উৎখাত করতে না পারো তাহলে তোমরা ক্ষমতা থাকতে পারবে না। ইহুদী কুচক্রী পাদ্রীরা এবং রোম সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে হযরত ইসা আ. এর উপর নির্যাতন শুরু করলো। ঈস আ.কে দীনের দাওয়াত দিকে বাধা সৃষ্টি করলো।

প্রিয় দেশ-সচেতন!
কেবল এখানেই ক্ষ্যন্ত নয়! রোম সম্রাট তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য ইসা আ. যখন রোম আদালতে গেলেন, বিচার প্রতি বলল- ‘যাও তোমার বিচার আমি করতে পারবো না। তোমার মামলা হবে অন্য আদালতে। এভাবে হযরত ঈসা আ. অন্য আদালতে ছুটে যান আর সেখানেও তার সাথে এ আচরণ করা হয়। আসলে বিচার করা উদ্দেশ্য নয় বরং তাঁকে ধোকা দেয়া, বোকা বানানো আর অপমান করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। আর এই ঘটনা তারা ঘটায় এপ্রিলের প্রথম তারিখ। ঈসা আ.কে হয়রানী, আদালতে হয়রানী, মামলার নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন বিচারপ্রতির কাছে ঘুরানোর প্রেক্ষিতে ইহুদী জাতির কাছে পালনীয় দিন এপ্রিল ফুল।

প্রিয় দেশ-বন্ধু!
এরপর ধর্মীয় নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে ঈসা আ. বাড়ি-ঘর ছেড়ে দিয়ে একাকী কোনো এক গোপন আস্তানায় চলে গেলেন। হযরত ঈসা আ. এর কিছু আপন সঙ্গী বা সহচর ছিল। যাদেরকে বলা হতো হাওয়ারী। যেমনি ভাবে রাসুলের সহচরদের বলা হয় সাহাবী। ইহুদী রোম সরকার এবং তাদের পুলিশ বাহিনী তাঁকে খুঁজে না পেয়ে তার এক হাওয়ারীকে জিজ্ঞেস করে। এক পর্যায়ে তারা তাকে অর্থের প্রলোভন দেখায়। এতে সে রাজী হয়ে যায় এবং ঈসা আ. এর অবস্থান বলে দেয়। পরবর্তিতে তারা আট জনের একটি দল নিয়ে ঈসা আ. কে গ্রেফতার করতে গেল। ঈসা আ. এর কক্ষেও তারা প্রবেশ করলো এবং ঈসা আ. কে দেখে খুন করার জন্য তৈরি হলো। তখন আল্লাহ ঈসা আ. কে হেফাজতের জন্য তাদেরই একজনকে ঈসার আকৃতিতে রূপান্তরিত করলেন। সকলে তাকে ঈসা আ. মনে করে ধরলো। অথচ তারা এটা জানতো না যে সে তাদেরই লোক ছিল। পরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাকে হত্যা করা হলো।

প্রিয় দেশ-মুমিন!
এবার তারা চিন্তা করলো যে আমরা তো আটজন গিয়েছিলাম। যাকে হত্যা করলাম সে যদি হযরত ঈসা হয় তবে আমাদের অষ্টম ব্যক্তি কোথায়? আর এটা যদি ঈসা না হয় তবে ঈসা গেল -কাথায়? পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “ঈসাকে তারা হত্যা করতে পারেনি। ঈসাকে তারা ফাঁসিতে ঝুলাতে পারেনি। ঈসা আ. কে আল্লাহ বিশেষ কুদরতে আসমানে তুলে নিয়েছেন। আল্লাহর নবীকে আল্লাহ নিজেই হেফাজত করেছেন আর তাদের লোককে তারাই হত্যা করেছে।” ঘটনাগুলো ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা’ -এর ৮ম খণ্ডের ২২২ নং পৃষ্ঠায় ইংরেজী সংস্করণে উল্লেখ রয়েছে।

প্রিয় দেশ-শুভাকাঙ্ক্ষী!
সেই তারাই স্পেন আর পূর্ব তিমুর শেষ করে সওদাগরের বেশ ধরে ভারত বর্ষে ২০০ বছর শাসন চালিয়ে আজ সেবার নামে বাংলাদেশে জোয়ারের পানির মতো ঢুকে পড়েছে। এ জন্য তারা কূট কৌশল আর মাথা খাটিয়ে তাদের উপর অন্য জাতির পক্ষ থেকে মোকাবেলা করার সকল পথ বদ্ধ করে রাখলেও একটি পথই খালি রয়ে গেলো। আর তা হলো শিক্ষা-সংস্কৃতি। এ জন্য আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. বলেন- “৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার মক্তব নির্মাণ করুন!”

প্রিয় দেশ-হিতাকাঙ্ক্ষী!
বর্তমানে লিফলেট, হ্যানবিল, পোস্টার ও বিভিন্ন চটি বইয়ের মাধ্যমে মুসলমানের ঈমানে তারা কঠিনভাবে আঘাত হানছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গোপনে কাজ করে এমন মতবাদের সংখ্যাও কম নয়। অন্যদিকে মিডিয়ার মাধ্যমে ধর্মের নামে কিছু বানোয়াট ইস্যু টেনে সভ্যতার বিভিন্ন অঙ্গনকে নীরবে হেনস্তা করে যাচ্ছে। এর মোকাবেলায় সচেতন মুসলিম সমাজ যদি এখন থেকে কোনো পদ্বক্ষেপ না নিয়ে থাকেন তবে (আল্লাহ মাফ করুন) আমাদের ভাগ্যে স্পেন পূর্বতিমুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো গণহত্যার একটি অনাঙ্ক্ষিত কালো অধ্যায় সূচিত হতে পারে!
লেখক : মিযানুর রহমান জামীল, সম্পাদক, কলমসৈনিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com