শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

দূরত্বে আওয়াম বঞ্চিত এবং মাজলুম হয় আলেম

দূরত্বে আওয়াম বঞ্চিত এবং মাজলুম হয় আলেম

প্রতীকী ছবিতে তাকী উসমানী

দূরত্বে আওয়াম বঞ্চিত এবং মাজলুম হয় আলেম

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আওয়াম ও আলেমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হলে আওয়াম হবে মাহরূম আর আলেম হবে মজলুম! লাখো কোটি কথার মধ্যে একটা বড় দামী কথা এটি। এই কথাটি বলেছেন, তাজুল উলামা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুম।

আওয়াম তথা সাধারণ মানুষ, তারা একদম সাধাসিধে। কোন মারপ্যাঁচ তাদের মাঝে নেই। সাধারন মানুষ গুলোর জেহেন অনেক পরিস্কার থাকে। যাকে বলে “খালিয়ুজ জেহেন”। তাদের জেহেনে যেটা প্রবেশ করানো হবে, সাথে সাথে সেটা তারা লুফে নেয়।

সাধারণ মানুষ গুলো কোন জঞ্জাল তারা চায় না। একেবারে ফ্রেশ থাকতে চায়। আবার ফ্রেশ মানুষ গুলো তারা পছন্দ করে।

“আওয়াম ” সাধারণ মানু্ষগুলোকে আলেমগণ যেভাবে চালান, তারাও সেভাবে চলেন। আলেমদের কথার বাইরে এক কদমও তারা দেয় না।

আর ওলামা মাশায়েখগণ সাধারণ মানুষকে প্রাণাধিক ভালবাসেন। আলেমদের ফিকিরই হলো, কীভাবে একজন সাধারণ মানুষকে সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করা যায়। কিভাবে একজন মানুষকে বাঁকা রাস্তা থেকে ফিরিয়ে সোজা রাস্তায় উঠানো যায়।
একারণে ওলামায়ে কেরামকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সাধারণ মানুষকে কাছে টানতে অনেক কোরবানী করতে হয় আলেম সমাজকে।

সাধারণ মানুষ এবং আলেম সমাজ একে অপরের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আওয়ামের সাথে একটা মধুর সম্পর্ক কাজ করে।

সাধারণ মানুষ যেমন আলেমদের ভালবাসে, তেমনী আলেমগণ জনসাধারণকে ভালবাসায় আগলে রাখে।

আওয়ামের সাথে আলেমদের মধুর ভালবাসায় উপকৃত হয় উভয়ে।

আওয়াম আর আলেম সমাজের সাথে যত দিন মধুর সম্পর্ক বজায় থাকে, তাতে ফায়দা সকলেরই। আলেম সমাজের এবং সাধারণ মানুষের।

এজন্য চেষ্টা করতে হবে যাতে উভয়ের মাঝে সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। বিশেষ করে আলেমদের এক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখা প্রয়োজন।

আমাদের পেয়ারা নবী মুহাম্মাদ ( সাঃ) সাধারণ মানুষের সাথে সবচেয়ে বিনয়ী আচরণ করতেন। তাদের সাথে মোটেও রুঢ় আচরণ করতেন না। বহু গ্রাম্য সাধারণ সাহাবী রাসুল ( সাঃ) এর দরবারে আসতেন, তারা অনেক প্রশ্ন করত। সে সব প্রশ্ন করা নিষেধ ছিল, সেসব প্রশ্ন করে বসত। যেমন কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা নিষেধ ছিল, কিন্তু গ্রাম্য কিছু সাধারণ সাহাবী সে সব বিষয়ে প্রশ্ন করতেন।

রাসুল ( সাঃ) মোটেও উত্তেজিত হতেন না। খুবই কৌশলে তাদের জওয়াব দিতেন। যার দ্বারা সে সব সাহাবাদের মন ভরে যেত।

আমাদের আকাবির আছলাফের জীবনীর দিকে তাকালে দেখা যায়, তারাও সাধারণ মানুষের সাথে অত্যান্ত বিনয়ী আচরণ করেছেন।

হযরত থানবী ( রহঃ) খুবই কড়া লোক ছিলেন। তাঁর খানকায় অনেক কঠোর নিয়ম কানুন ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য অনেক শীথিলতা ছিল। তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলতেন।

আমাদের আকাবির আছলাফ গণের এই হেকমত পুর্ণ আচরণ গুলো থেকে অনেক ছবক রয়েছে আমাদের। কারণ তাঁরা কখনও চাননি, আওয়ামের সাথে কোন দুরত্ব সৃষ্টি হোক। কেননা আওয়ামের সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হলেই তারাই মাহরুম হয়ে যাবে।
সাধারণ জনতার সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হলে উভয়ের ক্ষতি। যেমনটি বলেছেন, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব।

আওয়ামের সাথে দুরত্ব হলে, আলেমদের থেকে তারা কোন কিছু শিখতে পারবে না। কোরআনের কথা, হাদীসের কথা, সব কিছু থেকেই তারা মাহরুম হবে। আওয়াম একা চলতে গেলে তারা চলতে পারবেনা।

আলেমগণ হলেন রেলগাড়ীর ইন্জিনের মত। আর সাধারণ মানুষ তার ডাব্বা। ইন্জিন ছাড়া গাড়ি অচল।

আওয়াম যদি ইন্জিন ছাড়া একাকী চলতে যায়, তাহলে সে দিক ভ্রান্ত হবে। সঠিক রাস্তায় চলতে পারবে না।

ঠিক আওয়াম কে যদি সাথে না নিয়ে আলেম গন চলেন। উভয়ের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, তখন আলেমগণ মজলুম হবেন কোন সন্দেহ নেই।

প্রথমত অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন আলেম সমাজ। দ্বিতীয়ত মূর্খদের রোষানলের শিকার হবেন। যেটা খুবই দুঃখজনক।

পরিশেষে কামনা করি, আলেম ও আওয়ামের সস্পর্ক বজায় থাকুক। সকলেই উপকৃত হোক। আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com