সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

দারুল উলূম নড়াইলের শিশুদের প্রাণময়তা

দারুল উলূম নড়াইলের শিশুদের প্রাণময়তা

দারুল উলূম নড়াইলের শিশুদের প্রাণময়তা

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

রাজবাড়ি থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দুর। নড়াইল শহরতলীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ” দারুল উলুম নড়াইল”। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে যখন মাদ্রাসায় পৌঁছালাম, তখন সেখানকার ছোট্ট শিশুদের ভালবাসায় যেন ক্লান্তি দুর হয়ে গেল। তাদের পারফরম্যান্স দেখে মনটা ভরে গেল। ওরা যেভাবে অতি অল্প সময়ে নিজেকে গড়েছে, তাদের সেসব দৃশ্যে যেন মনটা কেড়ে নিল আমার।

বেশীদিন আগের কথা নয়। মাত্র ছয়মাস হল প্রতিষ্ঠানটির বয়স। এখনো এক বছর হয়নি। তাতেই তারা যেন অনেক কিছু অর্জন করেছে। এযেন বড় কোন মাদ্রাসার ছাত্রদের মত তাদের আখলাক। তারা যেভাবে অতিথিদের বরণ করে নিল সেটা দেখে হতবাক হলাম।

মাদ্রাসার বাউন্ডারীতে যখন প্রবেশ করলাম, তখনো মাগরীবের আজান হয়নি। আমাদের দেখে ছুটে আসল ছাত্ররা। সবাই অতিথিদের সাথে মুসাফাহা করতে লাগল। অত্যন্ত আদব- ইহতেরামের সাথে কুশল বিনিময় করল তারা। অবাক হলাম, ছোট্ট বাচ্চাদের অনেকের মাথায় পাগড়ি শোভা পাচ্ছে। প্রত্যেকের চেহারাতে যেন নুর চমকাচ্ছে। এমনি এসব বাচ্চারা নাবালেগ-মাসুম। তারপরে আবার পাগড়ি পরে আছে, সেটা দেখে যেন প্রাণ ছুঁয়ে গেল।

মাদ্রাসায় প্রবেশের সাথে সাথে অতিথিদের জুতা নিয়ে যেন কাড়াকাড়ি লেগে গেল। কে মেহমানের জুতা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখবে তার প্রতিযোগিতা। এরপর মাগরিবের আজান হল, মসজিদে ঢোকার সময় দেখলাম আরেক দৃশ্য। দুই তিনজন ছাত্র মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের জুতা সোজা করে রাখছেন।এলোমেলো জুতা সাজিয়ে রাখছে তারা। অবাক হয়ে তাদের কর্মকান্ডগুলো দেখলাম।

মাগরিবের পরে মাদ্রাসার হল রুমে শুরু হল ছাত্রদের পড়ালেখা যাচাই। তাতে তারা যেন সকলকে অবাক করে দিল। চল্লিশ হাদীস মুখস্থ। তাও অর্থসহ। নির্ভুল ভাবে শোনাতে লাগল। এরপর দৈনন্দিন দোয়া- দরুদ, মাসায়েল,সব কিছু যেন তাদের ঠোঁটের আগায়। সবাই অবাক হল তাদের পারফরম্যান্স দেখে। সকলে বলাবলি করতে লাগল, যে বয়সে বাচ্চারা ন্যাংটা হয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেই বয়সে কওমীতে এসে তারা চল্লিশ হাদীস এবং দুআ মুখস্হ করে নিয়েছে।সত্যি সেটা অত্যন্ত গর্বের।

আসলে কওমী মাদ্রাসাগুলো এমনি।দেশের প্রত্যেকটি কওমী মাদ্রাসাতে আদর্শবান ছাত্র গড়ে তোলা হয়। আমাদের প্রচার- পাবলিসিটি কম। কেউ সেটা ভাইরাল করেনা।কিন্তু কওমীতে অতি অল্প সময়ে যেভাবে ছাত্রদের তালিম দেওয়া হয়,সেটা অকল্পনীয়।

বলুন তো, কোন প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে অতি অল্প সময়ে এরকম কোমলমতি বাচ্চাদের চল্লিশ হাদীস শেখাবে। খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কত মানুষ আছে, যারা দেশ- বিদেশের ডিগ্রি অর্জন করে,কিন্তু এই সব প্রাথমিক শিক্ষা তারা অর্জন করতে পারিনি। কত মানুষ আছে, বিভিন্ন দেশের থেকে লেখাপড়া করে সুনাম অর্জন করেছে। অনেক বড় ডিগ্রি পেয়েছেন।কিন্তু দুঃখের বিষয়, মা- বাবা মারা গেলে জানাযার নামাজ পড়াতে অক্ষম। তারা নিজের মা- বাবার জানাজা পড়াতে পারেন না। এমনকি জানাযার দুআ তাদের জানা নেই।

আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি, কওমী মাদ্রাসা এদেশের প্রাণ।তারাই জাতিকে আসল শিক্ষা দিচ্ছে। যে শিক্ষাটা মানুষের আগে দরকার সেটা তারা দিচ্ছে।
এজন্য কওমী মাদ্রাসা হল আদর্শ মানুষ তৈরীর কারখানা। এখানে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা হয়।

নড়াইল দারুল উলুম পরিদর্শন করে এমনই এক অভিজ্ঞতা হল, এসব প্রতিষ্ঠানে আসলেই আদর্শবান লোক তৈরী হচ্ছে। এবং তারা দেশ- বিদেশের মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিচ্ছে।

আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমিন
লেখক : মাদরাসার মুহতামিম

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com