বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় বসছে কওমীর ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় বসছে কওমীর ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় বসছে কওমীর ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

শীলন বাংলা রিপোর্ট :  ইতায়াত ও ওয়াজাহাতী দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে দেশের কওমী মাদরাসার ২৭ হাজার শিক্ষার্থী। এবার নিয়ে তৃতীয় বারের মতো স্বীকৃতি আদাইয়ের পর এই পরীক্ষা হচ্ছে। ৬ কওমি মাদরাসাভিত্তিক সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষা সংস্থা ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ অধীনে কওমি মাদরাসা চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল) পরীক্ষা ৮ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার শুরু হচ্ছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছেন আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কওমী মাদরাসার এই সর্বোচ্চ জামায়াতের সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে ঘটেছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শুধু মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী হওয়ার কারণে ছয়টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। তাদের কাঙ্ক্ষিত এই জীবনের শেষ পরীক্ষায় তাবলীগদ্বন্দ্বের কারণে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।

তবে গত ১৭ মার্চ (রোববার) ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর এতায়াতের কারণে সাদপন্থী মাদরাসাগুলোর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসাসহ দেশের কয়েকটি মাদরাসার প্রায় ১৭৭ জন দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।  এই পরিপ্রেক্ষিতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ও হাইয়াতুল উলইয়া থেকে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন বঞ্চিত মাদরাসার দায়িত্বশীলগণ।

৬ কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস বাদল এর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ.আর.এম. নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিটের শুনানি শেষে মাদরাসাগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে বলে নির্দেশ দেন।

রিট আবেদনকারী মাদরাসাগুলো হলো- রাজধানীর বারিধারার আল মাদরাসাতুল মঈনুল ইসলাম, সাভারের মারকাজুল উলূম আশ শরীয়াহ, নন্দিপাড়ার মাদরাসাতুস সুফফা আল ইসলামিয়া, চাঁদপুরের জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলুম, কিশোরগঞ্জ গাইটাইলের মাদরাসায়ে রাহমানিয়া, ময়মনসিংহ ভালুকার জামিয়া ইসলামিয়া রাহে জান্নাত মহিলা মাদরাসা।

দ্বন্দ্ব তাবলীগ জামায়াতের। মাদরাসার কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন এমনই বিপাকে। তাদের পরীক্ষা অনিশ্চিত প্রায়! মাদরাসাগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানিয়েছেন, তারা এতদিন আশাবাদি ছিলেন, এখন অনেকটা অনিশ্চিত বাচ্চাদের পরীক্ষা!

হাইকোর্টের রুলের পর আশাবাদি ছিলেন জানিয়ে মাওলানা ফয়জুল করীম জানিয়েছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, হাইকোর্টের রুলের পরও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে এমন টালবাহানা করা হলো। আমরা বিস্মিত, হতবাক।

আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশর কো চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, আমরা কোনও শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করিনি বরং যেসব সাদপন্থী মাদরাসায় হাইয়ার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল, সে সব কেন্দ্র স্থগিত করি।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন,  বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেছেন, আপনাদের মাদরাসার প্যাডে এই মর্মে রুজুনামা লেখেন যে, আমরা মাওলানা সাদের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে রুজু করছি এবং আল্লামা আহমদ শফীর নির্দেশনা মেনে চলব। কর্তৃপক্ষ এই রুজুনামা পেলে আপনার ছাত্ররা পরীক্ষা দিতে পারবে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে ১৯ সেপ্টেম্বর ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

আইন পাস হওয়ার পরে সংস্থাটির অধীনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা এর আগেও দুইবার (১৬-১৭ ও ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com