সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

থেমে নেই তাবলীগ জামাতের কাজ

থেমে নেই তাবলীগ জামাতের কাজ

ফাইল ছবি

থেমে নেই তাবলীগ জামাতের কাজ

বের হয়েছে বোবাদের তিন চিল্লার জামাত

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : গতকাল এক মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। নামাজের সালাম ফেরানোর পর দেখলাম, দুটো লোক দাঁড়িয়ে গেল। তার মধ্য থেকে একজন লোক হাতের ইশারায় কি যেন বলছে। ভাল বুঝতে পারলাম না। সাথে সাথে পাশে থাকা ব্যক্তিটি তার কথার তরজমা করলেন, ” বাকি নামাজের পরে দ্বীনের কথা হবে, আপনারা সকলেই বসার চেষ্টা করবেন”।

নামাজের পরে খোঁজ নিলাম, মসজিদে তবলীগের জামাত এসেছে। জামাতের সাথী পনের ষোলজন। তার মধ্যে ৮ জন সাথী বোবা। কথা বলতে পারে না। হাতের ইশারায় সব কিছু চলে।

জামাতে বোবা সাথী দেখে কৌতূহল হলো। আরো একটু কাছাকাছি হবার চেষ্টা করলাম তাদের। জিজ্ঞেস করলাম দোভাষীর কাছে, বাড়ী কোথায়? তারা কি করে? তারা কত দিনের জন্য জামাতে এসেছে?

জানতে পারলাম, বোবা সাথীদের বাড়ি খুলনায়। তারা কেউ কেউ জুট মিলে চাকরি করে। কেউ অন্য পেশায় ও আছে। তারা সবাই তিন চিল্লা চার মাসের জন্য বেরিয়েছে।

জামাতে বোবা সাথীদের দেখে অবাক লাগল। ওরা কথা বলতে পারে না। ওরা তো প্রতিবন্ধী। তারপরেও তারা বসে নেই। দ্বীনের দাওয়াতের মেহনত নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন ঘর থেকে। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মানুষকে সৎ পথে আহ্বান করে যাচ্ছেন।

ওসব বোবা সাথীরা ইশারায় সব কথা বলে। তাদেরকে ইশারা করে বোঝানো হয়। যত বয়ান হচ্ছে, সব ইশারার মাধ্যমে তাদের বোঝানো হচ্ছে।

একটু চিন্তা করুন, আমরা যারা সুস্থ। কথা বলতে পারি, তাদের কয়জন আছেন, এভাবে ইহতেমামের সহিত তিন চিল্লায় চলে যাব। কিন্তু ওরা বোবা হওয়া সত্ত্বেও তারা ঘরে বসে নেই। মানুষের দ্বারে দ্বারে বেরিয়ে পড়েছেন।

জামাতে যারা দোভাষী আছেন, তারাও খুব মেহনতী। এসব বোবা সাথীদের নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করছেন। জামাতের সকল সাথী ভাই অনেক আন্তরিক। খুব মিল মহব্বতের সাথে তারা আছেন।

আসলে দাওয়াত ও তবলীগের যে মেহনত বিশ্বব্যাপী চলছে, এই কাজের সাথে কোন তুলনা হয় না। দ্বীনের দায়ীগণ নিবিড়ভাবে মেহনত করে যাচ্ছেন। এমন কোন সেক্টর বাকি নেই, যেখানে তবলীগের সাথীগণ দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যান নি। বিশ্বের আনাচে- কানাচে সব জায়গায় মেহনত চলছে। সর্বস্তরের মানুষের মাঝে দাওয়াতের কাজ নিয়ে তারা এগিয়ে চলেছেন।

আমরা কিন্তু এসব লোকদের অবহেলা করি। বোবা দেখে, প্রতিবন্ধী দেখে তাদের কাছে ঘেঁষতে চাই না। কিন্তু তবলীগের ভাইয়েরা বসে নেই। তারা নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবলীগের ভাইদের কোন বাছাবাছি নেই।যাকে পান তাকেই দাওয়াত দিতে থাকেন। সমাজের নিম্ন শ্রেণী থেকে নিয়ে একেবারে উচ্চ পর্যায়ের সব জায়গায় দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে।ধনী, গরীব, কৃষক,শ্রমিক,ক্ষেত মুজুর, ব্যাবসায়ী, চাকুরী জীবী, ডাক্তার, ইন্জিনিয়র,
রাজনীতিবিদ, সমাজ পতি,এম পি, মন্ত্রী কেউ বাদ যায় না তাদের দাওয়াতী মিশন থেকে। সকল পর্যায়ের মানুষ কে দ্বীনের প্রতি আহবান করা হয়।

একবার হজ্জের সফরে দেখেছিলাম, হিজড়াদের এক জামাত। যারা আগে এক সময় সাধারণ হিজড়াদের মত রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। নানান অনৈতিক কাজে জড়িত থাকতেন। সে সব হিজড়াদের তবলীগের ভাইয়েরা মেহনত করে তবলীগের কাজের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তারা হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফে গিয়ে হাজির হয়েছেন।

এজন্য দ্বীনের দায়ীগণ বসে নেই। তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বময়। সর্ব সেক্টরে মেহনত করছেন তারা। সফলতার মুখও দেখতে পাচ্ছেন। হাজার হাজার পথহারা মানুষ দ্বীন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সমবেত হচ্ছেন। দ্বীন ইসলামের কাজ এগিয়ে চলেছে। এটা নিশ্চয়ই আনন্দের।

আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com