বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

তেরাবাজার মাদারাসার ভবন এবং বড় হুজুরের স্মৃতি

তেরাবাজার মাদারাসার ভবন এবং বড় হুজুরের স্মৃতি

ডাক দিয়ে যাই । লাবীব আবদুল্লাহ

তেরাবাজার মাদারাসার ভবন এবং বড় হুজুরের স্মৃতি

জামিয়া সিদ্দিকীয়া তেরা বাজার, শেরপুর৷ আমার শৈশবের স্মৃতির মাদরাসা৷ আশির দশকের শুরুতে তালেবে ইলম ছিলাম এই মাদরাসায়৷ বড় হুজুর নামে খ্যাত হাফেয মাওলানা নূরুল ইসলাম রহ.-এর মেহনতের ফসল৷ অক্লান্ত পরিশ্রমে তেরাবাজার মাদরাসা৷ পুরো জেলায় চার দশক দীনি ইলমের আলো বিচ্ছুরিত করেছেন৷

আল্লামা গওহরপুরী রহ. এই মাদরাসায় সহীহ বোখারীর দরস দিয়েছেন৷ আমার শ্বশুর মুফতী মুসলিম উদ্দীন রহ. নব্বইয়ের দশক থেকে মুহাদ্দিস ছিলেন৷ শাইখুল হাদীসও৷ গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইন্তেকাল করেন৷ বড় হুজুর শ্বশুরের শাগেরদ ছিলেন৷ আমরা যখন পড়েছি মাদরাসার ময়দান ও পশ্চিমের চারতলা ভবন ছিলো পুকুর৷ ছিলো একটি তালগাছ মসজিদের উত্তরে৷ সেই পুকুরে আজ ময়দান৷ মাহফিল হয় এই ময়দানে৷ আগে উত্তর দক্ষিণ রাস্তায় সভা হতো৷ আমি সেই সভায় সম্ভবত ৮২ সালে ফার্সি ভাষায় সভায় দুজনে সংলাপ করেছিলাম প্রদর্শনীতে৷ আল্লামা নূরুদ্দীন গওহরপুরী রহ. ছিলেন মেহমান৷ স্মৃতিগুলো মনে পড়ে আজ৷ বড় হুজুরের মেয়ে আমার কাছে সহীহ মুসলিম পড়েছেন ময়মনসিংহ মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায়৷

মুফতী মুসলিম উদ্দীন রহ.এর মেয়েও৷ বড় হুজুরের হাতে আব্বু আমাকে তুলে দিয়ে বলেছিলেন, আল্লাহর মাল আল্লাহর রাস্তায় দিলাম৷ মানুষ বানাইয়া দিবেন৷ আমি মাদরাসা থেকে পালাইতাম৷ হারিয়ে যেতাম অজানা পথে৷ হেদায়েতুন্নাহু পড়ে একবারে পালিয়েছিলাম!

আমার স্মৃতির মাদরাসায় গতকাল চারতলা ভবনের ছাদ ঢালাই হয়েছে৷ মিনহাজ ভাইয়ের লাইভে দেখলাম অনেকগুলো পরিচিত মুখ৷ আমার সহপাঠী যারা সেখানের উস্তায৷ আমার দুজন উস্তাযও জীবিত আছেন এখনও৷ মাওলানা রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইলি হজুর ও মাওলানা আব্দুস সালাম হাফিজাহুমাল্লাহ৷ দুই হুজুর আমাকে স্নেহ করতেন৷ ইলমুচ্ছীগা ও খেলাফতে রাশেদার উস্তায এই দুজন৷

আজ বড় হুজুর নেই এই বাগানে৷ নেই আরও অনেক উস্তায৷ বড় হুজুর জীবিত থাকলে আনন্দিত হতেন এই ভবনের কাজ দেখে৷ যারা কাজ করলেন তাদের জন্য দুআ ও ভালোবাসা৷ তেরাবাজার মাদরাসা পুরো শেরপুর জেলায় ইলমের বাতিঘর৷ আলোর মশাল৷ দীনের দুর্গ৷ তিন যুগ পূর্তিতে প্রকাশিত আন নূর স্মারকের সম্পাদক রাখা হয়েছিলো আমাকে৷ বড় হুজুরের জীবনের নানাদিক নিয়ে নানাজনের মূল্যায়ন সেই আন নূরে৷

শ্বশুরের জীবনী নিয়ে একটি কাজ করার ইচ্ছে করেছি৷ শেরপুরে থাকতে হবে কয়েক দিন৷ চার দশক আগে একটি মসজিদের বারান্দা থেকে জামিয়া সিদ্দিকীয়া তেরাবাজারের ইলমী সফর শুরু৷ হাফেয মাওলানা নূরুল ইসলাম রহ পুরো শেরপুরে দীনি অভিভাবক ছিলেন৷ শেরপুরবাসী তেরাবাজার মাদরাসাকে মনের গহীন থেকে ভালোবাসে৷ ভালোবাসতো বড় হুজুরকেও৷

লেখক : কলামিস্ট ও কওমি মাদরাসার উস্তাদ

২৫/১/২০২১

Image may contain: outdoor

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com