বুধবার, ২৬ Jun ২০১৯, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

তাবলিগ দ্বন্দ্বের বলি হাফেজ রাজন মারা গেছেন

তাবলিগ দ্বন্দ্বের বলি হাফেজ রাজন মারা গেছেন

তাবলিগ দ্বন্দ্বের বলি হাফেজ রাজন মারা গেছেন

দগ্ধ সেই হাফেজ আবদুর রহিম আর নেই, নেপথে তাবলিগ দ্বন্দ্ব

শীলন বাংলা রিপোর্ট : সেই হাফেজ আবদুর রহীম রাজন আর বেঁচে নেই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে পেট্রোলের আগুনে পোড়া রাজন কাতরাতে কাতরাতে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। তাবলীগী দ্বন্দ্বের বলি হলেন তিনি। রাজন মাওলানা সাদ কান্ধলবীর অনুসারী ছিলেন।

তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থী ও মাওলানা জুবায়েরপন্থীর দ্বন্দ্বের জেরে জুবায়েরপন্থীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে অবশেষে মৃত্যু হলো আব্দুর রহিম (৩০) নামে এক ব্যক্তির। সোমবার (১০ জুন) বিকাল পৌনে ৩টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মারা যান তিনি। গত ১৯ মে রাতে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দগ্ধ আব্দুর রহিমের বড় ভাই আব্দুর রহমান জানান, গত ১৯ মে রাতে তারাবি নামাজের পরপর মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে পেছন দিক থেকে জুবায়েরপন্থীর লোকজন রহিমের গায়ে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে সেখান থেকে ওই দিন রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করান।

তিনি আরো বলেন, আগে সবাই সাদ অনুসারী ছিল, পরে জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ হওয়ার পর থেকে জুবায়ের অনুসারীরা আমাদেরকে সকাল কর্মকাণ্ডকে বাধা দিয়ে আসছে। আর এ কারণেই আজ তার এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো।

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার পূর্ব পাড়ার মো. মোস্তফার ছেলে আব্দুর রহিম। পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। এক সন্তানের জনক। তিনি তার মামার ব্যবসার (কসমেটিকস ও ব্যাগ) দেখা শুনার কাজ করেন।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল জানিয়েছিলেন, তার শরীরের পেছনের দিক ঘাড় থেকে কোমর দুই হাত মুখসহ ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়।

এ ঘটনায় তার মামা মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এর পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় এক ব্যাবসায়ি বলেন, ‘পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর মত জঘন্য কাজ যারা বাংলাদেশে শুরু করেছে তাদের আদর্শের কেউ এমন কাজ করতে পারে। স্বাভাবিক কারো পক্ষে এমন অমানবিক কাজ করা সম্ভব নয়’।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শামীম মিয়া জানান, রাজনের শরীরে পেট্রোল অথবা কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার শরীরের ২০ শতাংশের ও বেশি পুড়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com