বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০০ অপরাহ্ন

চোখের উপর বিশালাকৃতির টিউমার

চোখের উপর বিশালাকৃতির টিউমার

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি • নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাংলা গ্রামের মফির উদ্দীন বাবু। ৩৫ বছরের এ যুবক প্রায় ১৪ বছর থেকে এক চোখে পথ চলছেন। আর অপর চোখের উপর প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার। দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় টাকার অভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর বয়সে ঢেঁকির উপর বাবু পড়ে গিয়েছিল। এতে তার বাম চোখের ভ্র’র উপর আঘাত পেয়ে ফুলে ওঠে। কবিরাজি ও হাতুড়ে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দিয়ে কোন সুফল পাওয়া যায়নি। আস্তে আস্তে সেটি বড় হতে থাকে। আর ফুলে ওঠাটাই এখন তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সেটি টিউমারে রূপ নিয়েছে। এ টিউমারটি তাকে পথে নামিয়েছে। এখন ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে হয়েছে। ছোট বাচ্চারা তার এ অবস্থা দেখে ভয় পায়।

একঘর বিশিষ্ট টিনের ছাপড়া। বারান্দায় তালপাতার ছাউনি। সেখানেই রান্না। ঝড় বৃষ্টিতে পানি পড়ে। একটি ঘর ছাড়া জমিজমা বলতে কিছুই নেই। আর এ ঘরেই ৩ ছেলে মেয়েকে নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস। বড় ছেলে আশিক (১২), ছোট মেয়ে বাবলি (৯) ও তানিয়া (৩)।

এক সময় কৃষি কাজ ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত বাবু। কিন্তু টিউমারটি যতই বড় হতে থাকে বাড়তে থাকে অসুবিধা। হেলে থেকে কৃষি কাজ করতে সমস্যা হতো। নিচের দিকে মুখ করে কাজ করা সম্ভব হতো না। এছাড়া ভ্যান চালানোর সময় কষ্ট হতো। এতে কৃষি কাজ ও ভ্যান চালানো বাদ পড়ে যায়। সংসারে অভাব দেখা দিলে স্ত্রী পারভীন আক্তার অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। টানাপোড়নের সংসারে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেঁছে নিতে হয়। টিউমারটির অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে নওগাঁ, বদলগাছী, নজিপুর, মহাদেবপুর, ধামইরহাট ও পার্শ্ববর্তী জেলা জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে।

বাবুর চাচা তাজির উদ্দিন, প্রতিবেশী ইদ্রীস আলী ও মকলেছার রহমান সহ কয়েকজন বলেন, টিউমারটি অপারেশনের জন্য সে ভিক্ষা করে সামান্য কিছু টাকা সংগ্রহ করেছিল। আমরাও সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু টাকার অভাবে তা আর হয়ে উঠেনি।

মফির উদ্দীন বাবু বলেন, মানুষের কাছে হাত পাততে ভাল লাগে না। কিন্ত পেটে খিদা রেখে লজ্জা করে আর কি হবে। দুই কেজি ওজনের এই টিউমারটি বহন করতে খুব বেগ পেতে হয়। সাবধানে থাকতে হয়। টিউমার থেকে অভিশাপমুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে চাই।

স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, স্বামীর এ অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়। স্বামীর চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানসহ প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন বলেন, তাকে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। আর্থিক অবস্থার কারণে তার পক্ষে হয়তো চিকিৎসার করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক টাকারও প্রয়োজন। তবে ঢাকাতে নিয়ে চিকিৎসা করালে ভাল হওয়া সম্ভব।

শীলন/৩০৮

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com