বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

চলো যাই চরমোনাই

চলো যাই চরমোনাই

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : বরিশাল শহরের পুর্ব কোণে, কীর্তন খোলা নদীর কুল ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, চরমোনাই মাদ্রাসা ও খানকা।

এ খানকার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ইসহাক ( রহঃ)। এ খানকার সম্প্রসারণ করেছেন, এবং দেশ বিদেশের মানুষের মাঝে খ্যাতি ছড়িয়ে ছিলেন, সৈয়দ ইসহাক( রহঃ)এর প্রাণ প্রিয় সাহেবজাদা সৈয়দ ফজলুল করীম ( রহঃ)।
পিতা এবং পুত্র দুজনই মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেছেন অনেক আগেই। তাই বলে চরমোনাই এর খানকা থেমে যায় নি। তাদের কাজের গতি স্লথ হয়নি। বরং তাদের উত্তরসুরীগণ চরমোনাই মাদ্রাসা এবং খানকাকে দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আগে ছিল চরমোনাই এর খানকার সুনাম বাংলাদেশে। এখন চরমোনাই আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

চরমোনাই এর খানকা কোন দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধির জায়গা নয়। এ ময়দানে যারা যান, তারা এখানে কেউ দুনিয়া পাওয়ার ফিকির নিয়ে যান না।

চরমোনাই ময়দান হলো ইসলাহে নফসের ময়দান। নিজেকে সংশোধনের এক মহান জায়গা।

এখানে অন্যান্য দরবারের মত কাউকে কোন খানা পিনা দেওয়া হয়না। কাউকে কোন অর্থের বিনিময়ে এখানে নেওয়া হয় না।

বরং এই ময়দানে যারা যান, নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে সেখানে গিয়ে নিজের সংশোধনের জন্য হাজির হন।

এই চরমোনাই খানকার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এ ময়দানে আলেমদের সমাগম চোখে পড়ার মত।
এদেশে বহু খানকা আছে,যেখানে আলেমদের খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কিন্তু এবিষয়ে চরমোনাই ব্যতিক্রম। চরমোনাইতে এখন ওলামায়ে কেরামের স্রোত। দলে দলে আলেম সমাজ চরমোনাইতে আশা যাওয়া করে থাকেন।এবং চরমোনাইতে মাহফিলের সময় দেশ বিদেশের খ্যাতনামা আলেম বয়ান করে থাকেন।
কোন অশিক্ষিত মুর্খ কেউ এই খানকার কর্ণধর নন। খানকার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে যারাই দায়িত্বে ছিলেন, সকলেই মুহাক্কিক আলেম ছিলেন। বর্তমানেও যারা এই খানকার দায়িত্ব শীল, তারা উভয়ে বড় মাপের আলেম। একজন পীরের যে যোগ্যতা থাকতে হয়, তার সকল যোগ্যতা পীর সাহেব দ্বয়ের মাঝে রয়েছে।
এ খানকা মুরীদ পালা খানকা নয়। এটা হলো ইসলাহের জায়গা। এই খানকার সাথে যারা যোগাযোগ রাখেন, তারা কেউ বে আমল থাকতে পারেন না। যারাই এখানে বায়আত গ্রহণ করেন,প্রত্যেককেই সুন্নতী জীবন যাপন করতে হয়। গোনাহ থেকে বাঁচার অভ্যাস গড়তে হয়।

চরমোনাই এর সাথে যারাই যোগাযোগ রাখেন, তাকে আর ইসলাম সম্পর্কে মূর্খ থাকতে দেওয়া হয় না। এই খানকার সিলেবাস মেনে চলা প্রত্যেক মুরীদদের জন্য জরুরী। যে সিলেবাস মানলে কোন মুরীদ আর মুর্খ থাকেনা বরং সকলেরই ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান হাসিল হয়।

প্রত্যেক বছর চরমোনাইতে দুইবার ইসলাহী মাহফিল হয়ে থাকে।

মাহফিল গুলো তিনদিন ব্যাপি হয়। একটা মাহফিল হয় বাংলা অগ্রহায়ন মাসে।

আরেকটা মাহফিল ফাল্গুনে হয়।

সে হিসেব মতে এবার ৮,৯,১০ ফ্লাগুন মোতাবেক ২০,২১,২২ ফেব্রয়ারি, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্রবার তিন দিন ইসলাহী মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

তাই বন্ধু, আমাদের মধ্যে যার সময় আছে, চরমোনাই মাহফিল থেকে ঘুরে আসি।

আল্লাহ তায়ালা এই ইসলাহী মাহফিলকে কবুল করুন।আমিন।

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com