বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

চলে গেলেন নাজিরহাটের আল্লামা ইদ্রিস রহ.

চলে গেলেন নাজিরহাটের আল্লামা ইদ্রিস রহ.

স্মরণ । আমিনুল ইসলাম কাসেমী

চলে গেলেন নাজিরহাটের আল্লামা ইদ্রিস রহ.

অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয় নিয়ে লিখছি। শোকের পর শোক। এক মুরুব্বীর বিদায়ের খবর লিখতে লিখতে আরেক মুরুব্বীর ইন্তেকাল। বড় কষ্ট,দুঃখ- বেদনায় ভরে যাচ্ছে এ বুকটা। এই তো কদিন আগে লিখলাম, দেওবন্দের সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহ, এর ইন্তেকালের সংবাদ। এরপরেই লিখলাম, বিশিষ্টি লেখক, গবেষক, কওমী অঙ্গনের এক উজ্জল নক্ষত্র আবু সুফিয়ান যাকী সাহেবের বিদায়ের খবর।

ঠিক ঈদের রাত। একমাস রোজা এবং রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করে ঈদের মোবারক রাতে বিদায় নিলেন, চট্রগ্রামের জিরি মাদ্রাসার মোহতামিম, আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়ব রহ,।

শওয়াল মাসের চার তারিখ। ঈদের গন্ধ – বাতাস এখনো যায়নি। বিদায় নিলেন সেই চট্রগ্রামের আরেক মাদ্রাসার মোহতামিম, আমাদের আলেম সমাজের মাথার তাজ, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা ইদ্রিস রহ.।

আহ,, মুরুব্বীগণ সব বিদায় নিচ্ছেন। দিনে দিনে আমরা আমাদের ছারে তাজদের হারিয়ে অসহায় হয়ে যাচ্ছি।
শায়খুল হাদীস আল্লামা ইদ্রিস সাহেব তিনিও একজন উঁচু মানের আলেম ছিলেন। চট্রগ্রামের নজিরহাট মাদ্রাসার মোহতামিম। আলেম সমাজের গৌরব।

বৃহত্তর চট্রগ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হল, নজিরহাট বড় মাদ্রাসা। স্হানীয় লোকেরা, চিচাগাং এর মানুষ নজির হাট বড় মাদ্রাসা নামে চেনে। একবার চট্রগ্রাম সফরে নজিরহাট বড় মাদ্রাসায় যাওয়া হয়েছিল। শহর থেকে সি এন জি ভাড়া করে মাদ্রাসায় পৌঁছে ছিলাম। বিশাল এক প্রতিষ্ঠান। আমার সাথে আরো দুজন সফরসঙ্গী ছিল।

একদম নতুন। কোনদিন যাওয়া হয়নি নজির হাট বড় মাদ্রাসায়। সরাসরি মাদ্রাসার ভিতরে ঢুকে মুরুব্বীদের সাথে সাক্ষাত করলাম। আমরা অপরিচিত। নিজেদের পরিচয় দিলাম। বললাম ফরিদপুর- রাজবাড়ি থেকে এসেছি আপনাদের সাথে দেখা করতে। আপনাদের প্রতিষ্ঠান দেখতে। বড্ড খুশি হলেন তাঁরা।

আমরা অচেনা – অজানা হলেও আথিথেয়তা করতে ভুল করলেন না। ভি আই পি মেহমান খানায় স্হান হল আমাদের। অনেক মুল্যবান খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হল। সব এখন স্মৃতি। মনে পড়ে গেল। আমি কি জানতাম, আজ তাঁদের বিদায়ের কথা লিখতে হবে। তাঁদের কীর্তি গুলো রয়েছে গেছে আমাদের সামনে।

নদী মরে গেলেও রেখা বাকি থাকে। আমাদের মুরুব্বীগণ বিদায় নিলেও তাঁদের কীর্তি- অবদান মুছে যাবেনা কোনদিন। স্বর্ণাক্ষারে লেখা থাকবে তাদের কর্ম গুলো। যুগ থেকে যুগান্তরে, কাল থেকে মহাকাল স্মৃতির পাতায় ভাসতে থাকবে। তাঁরা যে সব কাজ গুলো করেছেন, সদকায়ে জারিয়া হয়ে রবে চিরদিন।

হাজার হাজার আলেমের জামাত তৈরী করেছেন তারা। এক নুরানী কাফেলা। যেন এক পুত:পবিত্র মানুষের মিছিল। বড় কোরবানী আর মুজাহাদায় তৈরী হয়েছে এ জামাত। যারা এখন দ্বীন ইসলামের বার্তা নিয়ে ছুটে চলেছে মানুষের খেদমতে। নিঃসন্দেহে আমাদের মুরুব্বীগণ এই মেহনতের জাযা মহান আল্লাহর কাছে পাবেন।

হে দয়াময় আল্লাহ! আমাদের ছারে তাজ মুরুব্বীদের ক্ষমা কর। জান্নাতুল ফিরদাউসে তাদের স্থান বানিয়ে দাও। আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক : শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com