রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১১ অপরাহ্ন

চরমোনাই ও মওদুদীবাদ, হক বাতিলের দ্বন্দ্ব

চরমোনাই ও মওদুদীবাদ, হক বাতিলের দ্বন্দ্ব

চরমোনাই ও মওদুদীবাদ, হক বাতিলের দ্বন্দ্ব

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : এতদিন চরমোনাই-এর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে এসেছেন মওদুদী মতবাদে বিশ্বাসী জামাতিরা। মরহুম পীর সাহেবদের লিখিত বই, তাঁদের বিভিন্ন বক্তৃতা, তাঁদের বিভিন্ন কর্ম-তৎপরতা, চরমোনাই মুরীদদের “ইল্লাল্লাহ” জিকির, আল্লাহর প্রেমে পাগল মুরীদদের পাগলামী, এমন কি পীর-মুরীদী নিয়ে ওরা সমালোচনায় মুখর ছিল সারাজীবন। যে কারণে, চরমোনাই-এর পীর সাহেবদের বিরুদ্ধে ওঁৎ-পেতে থাকতে দেখা গেছে সব-সময়। কখন কোন্‌ কথা ফসকে যায়, আর সেটাকে বিকৃত ও অপব্যাখ্যা দিয়ে ‘তিলকে তাল বানিয়ে’ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ায় যেন তাদের ‘বড় কাজ’! তবে শুধু চরমোনাই নয়, দেওবন্দের সিলসিলার হক্বপন্থী সকল ব্যক্তি ও সংগঠনের বিষয়ে তাদের একই আচরণ। অবশ্য, ব্যক্তি ও দল যেটা যত প্রভাবশালী তাদের চুলকানি তাদের বিরুদ্ধে তত বেশীই দেখা গেছে…!

এবং প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ-মাহফিলে হাজারো মানুষের সামনে ওরা চরমোনাইকে বিকৃত ব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তুলোধুনো করে আসছে জীবনভর। পীর-মুরীদীকে “না-জায়েজ” ফতোয়া দিয়ে এবং নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে, বিকৃত করে আরও হাস্যরসের খোরাক বানাতেও তারা কখনো পিছপাও হয়নি। কারণে-অকারণে চরমোনাই পীর সাহেব ও তাঁর দলের সাথে নানা তালবাহানা করেছে, অপপ্রচার চালিয়ে গেছে বারংবার। সেই মরহুম সৈয়দ ফজলুল করীম (রহঃ) সাহেবের জীবদ্দশায়, পীর সাহেবের সাথে ওয়াদা-ভঙ্গ করে পীর সাহেবকে বেকায়দায় ফেলেছিল ওরা। যেটা এখনও মনে পড়ে সেই আশির দশকের কথা। এরপর আরও কত কথা, কত ঘটনা…।

সম্প্রতি মওদুদী মতবাদে বিশ্বাসী কিছু মওলানাকে চরমোনাই-এর ব্যাপারে নমনীয় দেখা যাচ্ছে। অনেকে এখন আর সরাসরি বিষোদগার করছে না, এমন কি অবাক কাণ্ড হচ্ছে, কেউ কেউ উল্টো প্রশংসাও করছেন! যেমন— চরমোনাই-এর নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম সাহেবের গুণগান শোনা যাচ্ছে ওদের কারো কারো মুখে। ফলে, এখন আর তাদের মুখে পীর-মুরীদী না-জায়েজ ফতোয়াটা প্রকাশ্যে শোনা যাচ্ছে না। বরং ওরা এখন চরমোনাই-ঘরানার বক্তাদের সাথে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। শুধু তা-ই নয়, চরমোনাই-এর পীর সাহেবদের বিরুদ্ধে তাদের আক্রোশমূলক বক্তৃতা দিতেও দেখা যাচ্ছে না। বরং এখন যেন অনেকখানি ‘দরদ মাখা কথা’ বলছে তারা !!

হঠাৎ মওদুদী চেতনায় বিশ্বাসী জামাত-শিবির-লামাজহাব গোষ্ঠীদের চরমোনাইওয়ালাদের সাথে এমন আচরণে ভাবিয়ে তুলেছে সর্বশ্রেণীর মানুষকে। খোদ চরমোনাইপন্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে খুব বেশী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও লেখালেখি হচ্ছে, বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে মানুষজনদের। অনেকে এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, কেউ কেউ ইসলামপন্থীদের বিজয় (!) বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আবার কাউকে বিরূপ মন্তব্য করতেও দেখা যাচ্ছে।

আমি নিজেও বিষয়টা নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করছি, ব্যাপারটা কী? যারা চরমোনাইকে ঘোরতর দুশমন মনে করে, তাদের মুখে আবার চরমোনাই-এর গুনগান? জানি না, “ব্যাঙের আবার সর্দী-জ্বর” হতে শুরু করল কবে থেকে! ভেবে ভেবে কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। আসলে তাদের মতলব কী…?

বহু মানুষের সাথে কথা বললাম— হঠাৎ এত পানি পানি হল কীভাবে মওদুদীপন্থীরা? অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও ঝানু কিছু সাংবাদিকের সাথেও কথা হলো, তারাও হয়রান! বিষয়টা কী? যাদের সাথে দা-কুমড়ার সম্পর্ক, হঠাৎ কী কারণে এত প্রশংসার বাণী শোনা যায় ওদের মুখ দিয়ে!

যাইহোক, অনেক আলোচনা-সমালোচনা, অনেক ধরনের মন্তব্য আমার নজরে এসেছে। এবং এর মধ্য দিয়ে কিছুটা বুঝে এসেছে, ওদের এই নমনীয়তার প্রকৃত কারণ। এবং মনে পড়ে গেছে, শৈশবে পড়া লেজকাটা শেয়ালের গল্পটিও; মনে পড়েছে “মিষ্ট কথা”র অন্তরালে সমাজে অপদস্ত ও নিন্দিত শেয়ালটির কূট পরিকল্পনাটিও। কেননা তার তো গৃহস্থের বাড়ি চুরি করতে গিয়ে ফাঁদে আটকে কোনো রকমে জীবন নিয়ে ফিরলেও লেজটা কাটা গেছে। এখন সে মনুষ্যসমাজে যেমন লেজ না-থাকার কারণে চিহ্নিত চোর, নিজসমাজে সে চেহারার এই কিম্ভুতকিমাকার পরিবর্তনের কারণে প্রশ্নের মুখে পতিত হওয়া বা বিতারিত হওয়ার শংকাভুক্ত। ফলে, নিজসমাজে লেজের অপকারিতা (?) ও কুৎসিকতা (?) নিয়ে তাকে বয়ান করা লাগল। এবং গভীর চিন্তাবর্জিত ও স্বল্প-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুব-শেয়ালদের উদ্বুদ্ধ প্রায় করেই ফেলল, আজ থেকে আমাদের লেজটা আর রাখা-ই যাবে না, এই ক্ষতিকর ও অসুন্দর অঙ্গটি ছেদন করতেই হবে…! এমন সময়, চিন্তাশীল ও বহুবিধ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ বয়ঃবৃদ্ধ একটি শেয়াল ধরে ফেললেন মূল বিষয়টি। সমাজকে জানিয়ে দিলেন, খোদাপ্রদত্ত শেয়ালসমাজের সৌন্দর্যের মূল উপাদান ও দরকারী অঙ্গ যে ওই ধূর্তটির নেই এবং সে কারণেই সে নিজে আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে লেজ কাটিয়ে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে…।

অর্থাৎ, চরম ভ্রান্তিকর লেখালেখির মাধ্যমে এবং তা সংশোধনের তাগিদ চতুর্দিক থেকে আলেমসমাজ কর্তৃক পাওয়ার পরও যখন তিনি সংশোধিত হওয়ার পথে গেলেন না। একের পর এক ভুল করতেই থাকলেন সেই তখনই তো উপমহাদেশের আলেমসমাজ মওদুদির বিরুদ্ধে কলম ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার চরম গোমরাহীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বা ফতোয়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সময়-ই ধর্মীয় দিক থেকে এবং আলেমসমাজের কাছে থেকে জামাত লেজকাটা শেয়ালে পরিণত হয়। এবং বিশেষ করে ১৯৭১-এ স্বাধীনতাবিরোধী চরম বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এ দেশের সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে দলটি ও দলটির নেতারা লেজকাটা শেয়াল হিসেবে আরও স্পষ্টরূপ ধারণ করে। এক কথায়— চরম গোমরাহী আক্বীদা-পোষণ করার কারণে একদিকে তারা ইসলামবিরোধী হিসেবে আলেমসমাজের ও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে নিন্দিত ও বিতাড়িত; অপরদিকে একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী বর্বরোচিত ভূমিকার কারণে দেশের দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারা ঘৃণিত ও বাধাপ্রাপ্ত। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও তারা যেমন তাদের ভুলকে স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে মূলধারার নিকটে আসতে পারেনি, অপর দিকে সহস্র আলেমের এত লেখা, এত সতর্কতা, এত বয়ানের পরও বা ফতোয়ার পরও তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তওবা করে প্রকৃত ইসলামে পথে এগিয়ে আসেনি। ফলে, এই বেশ পুরনো দলটি ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কোনো অঙ্গনেই নিজেদেরকে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় হিসেবে দাঁড় করাতে পারেনি। বরং তাদের “দক্ষ ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি”র কারণে জামাত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের হয়তো আর্থিক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু “বিশ্বাসী ও জনবান্ধব” দল হিসেবে তাদের ব্যর্থতা চূড়ান্তভাবেই রয়ে গেছে। “জোটের ভোটে” তাদের কিছু ক্ষণিকের চমক দেখা গেলেও একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে তারা তাদের অবস্থান বার বার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। অর্থাৎ, তারা সেই “লেজকাটা শেয়ালটি”ই রয়ে গেছে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। ফলে, নিজেদের মতো আরও কিছু লেজকাটা দল পেলে তাদের “বড় ভালো” হয়। এর পেছনের কারণগুলো আর ব্যাখার অপেক্ষা রাখে না…।

এছাড়া আরেক দিক হচ্ছে, একটা বিষয় মওদুদীওয়ালাদের টনক নড়েছে, যেটা তারা আগে বুঝে উঠতে পারেনি। এবং ভাবতেও তারা পারেনি— সেটা হল, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ময়দানে চরমোনাই-এর এই বিপুল জনপ্রিয়তা! বিশেষ করে এত কম দিনে রাজনৈতিক ময়দানে তাদের এই শক্ত অবস্থান ভাবিয়ে তুলেছে। যা তাদের অস্তিত্বের জন্যও হুমকী তারা ভেবে থাকলে অবাক হওয়া কিছু থাকবে না। অথচ ওরা মনে করেছিল, অন্যান্য ইসলামী দলের মতো চরমোনাই খুব তাড়াতাড়িই মুখ থুবড়ে পড়বে। অথবা তাদের লোক ঢুকিয়ে ভেঙ্গে টুকরা-টুকরা করা যাবে। কিন্তু তাদের সে আশা যেমন পূরণ তো হয়ইনি বিপরীতক্রমে তা আপামর জনতার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চরমোনাই। যা ওদের কাছে কল্পনাতীত ব্যাপারও বটে।

কেননা, চরমোনাই এখন সারা বাংলাদেশের সব জায়গাতে। প্রত্যেক জেলা-উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে তাদের কমিটি। এবং দেশের সব জায়গাতে তাদের এক মজবুত অবস্থান তৈরী হয়েছে। ফলে, চরমোনাইওয়ালারা যেখানে যাচ্ছে, সেখানে হাজারো জনতার উপস্থিতি। তাদের লম্বা দাড়ি-টুপি-পাগড়ি-জিকির-মানবসেবা-দেশসেবা অর্থাৎ পোশাক-আশাক, খোদাভীরুতা-আমলিয়াত-দেশপ্রেম ও সুন্দর ব্যবহারে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেকোনো জায়গায় বিশাল জনপ্রিয়তায় উঠে এসেছে চরমোনাই। এমন কি বিগত নির্বাচনের সময় একাই তিনশত আসনে তারা প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে।

আসলে ব্যাপার হচ্ছে— চরমোনাইওয়ালারা কারো লেজুড় ধরে নেই। তাঁরা নিজ গতিতে চলে। চরমোনাইওয়ালারা কাউকে ছাড় দেয় না। তাঁরা আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সকল দলেরই গঠনমূলক সমালোচনা করে। আবার তাঁরা অযথা বিরোধিতা-বিদ্বেষ বা কারো প্রতি স্বজনপ্রীতি চরমোনাইওয়ালা করে না। তাঁরা ইসলামের মূল শিক্ষাকে মাথায় রেখে ইনসাফের সাথে অন্যদের বিষয়ে কথা বলে। আমল-আখলাক তথা ইবাদতের প্রতি তারা সতর্ক ও মনোযোগী। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে। আর এইভাবে নিজ গতিতে চলার কারণে অনেকের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র তাঁরা। এ কারণেই বর্তমান সরকারেরও কিছু নমনীয়তা আছে তাদের প্রতি।

অর্থাৎ, রাজনীতিবিদ-প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী-নানা পেশার মানুষ এবং সাধারণ জনগণের ভেতর চরমোনাই সম্পর্কে একটা সুন্দর ধারণা ও আস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, চরমোনাইওয়ালা সমাজ-রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা করে না, মানুষের ক্ষতি করে রাজনীতি করে না, অযথা কাউকে দোষারোপ করে না, মুসলমান ও অন্যসকল ধর্মের মানুষের প্রতি দরদ রেখে কথা বলে তথা তারা ইসলাম ও স্বাধীনতার পক্ষের গোষ্ঠী। ফলে, নির্বিঘ্নে মিছিল মিটিং করতে পারছে সব জায়গায়।

চরমোনাই-এর উত্থান এবং নির্বিঘ্নে মিছিল মিটিং ঠেকানোর এক কূট-কৌশল হাতে নিয়েছে মওদুদিবাদীরা। ফলে, মওদুদী মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে চরমোনাই-এর সাথে বেশী বেশী সখ্য গড়তে পারলে, কিছুটা হলেও সরকারের ও দেশবাসীর বদ্‌-নজরে আসবে। দেশের প্রশাসনেরও গোচরে থাকবে বিষয়টা। এক পর্যায়ে মওদুদিবাদীদের নানা কূটচালে ও নানা কুমন্ত্রণায় চরমোনাইও বিতর্কিত হয়ে পড়বে অধিকাংশ শ্রেণীর মানুষের কাছে। ফলে, সরকারসহ সারাদেশবাসী যে নমনীয়তা দেখাচ্ছে এখন, গোমরাহী মতবাদী তথা স্বাধীনতাবিরোধী মওদুদীওয়ালাদের সাথে উঠা-বসায় চরমোনাই-এর প্রতি আর সেই নমনীয়তা থাকবে না। তখন মিছিল-মিটিং বন্ধ হবে। আর এতেই মওদুদী গ্রুপ সফল হবে। কারণ, এ দেশে তাদের মওদুদি মতবাদীদের সামনে যে বাঁধা তারা দেখে থাকে তার প্রধান তিনটি হল— দেওবন্দের সিলসিলার কওমী মাদ্রাসা, দাওয়াত ও তবলীগ এবং চরমোনাই-এর জন-ভীত ও জন-শক্তি।

অতএব, জন্য চরমোনাই-এর ধর্মপ্রাণ-সরলমনা নিরীহ মুজাহিদ নেতা-কর্মী ভাইদের অধিক সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

মনে রাখতে হবে, মওদুদী গ্রুপের জন্য চরমোনাই-এর দরজা বন্ধ নয়। খোলা সব-সময়। তবে মওদুদী মতবাদ থেকে তওবা করে আসতে হবে। নেতা নয়, কর্মী হিসেবে অর্থাৎ সাধারণ এক-একজন হিসেবে এই রূহানী সিলসিলায় মিশে যাবে। নয়তো চরমোনাই-এর এই মোবারক সংগঠন বিতর্কিত করে ফেলবে ওরা।

আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করুন। আমিন।

লেখকঃ শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com