শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪১ অপরাহ্ন

গরিব-দুঃখীর বন্ধু

গরিব-দুঃখীর বন্ধু

সিদ্দিকুর রহমান : মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলদেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য এক মনে কাজ করছিলেন তখনই ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকে জনগণের কাছ থেকে শারীরিকভাবে কেড়ে নেয়। বঙ্গবন্ধু প্রায়ই বলতেনÑ ‘এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এ স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি আমার মা বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি যুবক শ্রেণি চাকরি না পায় বা কাজ না পায়’। মাত্র সাড়ে তিন বছরের দেশ শাসনের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, সেতু, রেল, বন্দরসহ সকল ভৌত অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণে সফল হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালসহ সামাজিক অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণ করতে সক্ষম হন। স্বল্পতম সময়ে দেশের সংবিধান, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা তৈরি করেন। আরো হয়তো অনেক কিছুই তিনি করতে পারতেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের বুলেটে স্তব্ধ হয়ে যায় এই মহাপ্রাণ।

বঙ্গবন্ধু দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ খুব কাছে থেকে দেখেছেন এবং তরুণ বয়সেই প্রতিজ্ঞা করেছেন সেই দুঃখ মোচনের জন্য তিনি কাজ করবেন। তার রাজনৈতিক জীবনের বড় এক অংশই কেটেছে কারাগারে। তার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ পড়লেই বোঝা যায় তিনি গরিব-দুঃখী মানুষের দুঃখ কতোটা গভীরভাবে হৃদয়াঙ্গম করেছেন। যারা কারাবন্দি ছিলেন এবং তার রান্নাবান্নাসহ নানা কাজে সাহায্য করতেন সেই সব দুঃখী মানুষের জীবনের দুখ-বেদনার কথা গভীর মনোযোগ সহকারে শুনতেন। আর মনে মনে ভাবতেন এদের মতো মানুষের দুঃখ কি করে মোচন করা যায়।

আজ দেশ চালানোর ভার তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাঁধে। যদি আজকের উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে দেখি, সেটা রূপকল্প ২০২১ হোক বা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, আমরা বঙ্গবন্ধুর কথাগুলোরই প্রতিফলন দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর কৃষি-শিল্প-বিদ্যুৎ-স্বাস্থ্য-যোগাযোগ-অবকাঠামো-মানবসম্পদ উন্নয়ন-হতদরিদ্রদের সামাজিক সুরক্ষা ভাবনার আলোকেই বর্তমান সরকার কল্যাণধর্মী ও উন্নয়ন বান্ধব টেকসই কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দুরদর্শী, প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন একে একে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন হারানোর বেদনা হৃদয়ে ধারণ করেও দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলছেন। তার লক্ষ্য ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশ এখন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ মুছে ফেলে আজ পৃথিবীর সামনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক রোল মডেল হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন হলো ‘মিরাকল ডেভেলপমেন্ট’।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন বলেই আজকের এই বিস্ময়কর উন্নতি তথা রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতি থেকে এখন সমৃদ্ধ শিল্প অর্থনীতির পথে দ্রুত এগিয়ে চলছে। আজ জাতির আফসোস, বঙ্গবন্ধু নেই। তিনি থাকলে আজকের এই উন্নতি বাংলাদেশ আরো তিন যুগ আগেই অর্জন করতে পারতো।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com