বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

কেন এই বিশ্ব ইজতেমা

ফাইল ছবি

কেন এই বিশ্ব ইজতেমা

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : বাংলাদেশে সর্ব প্রথম তবলীগের কাজ শুরু হয় ১৯৪৪ সালে। বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন মাওলানা আব্দুল আজীজ ( রহঃ) এর হাত ধরে এদেশে তবলীগের কাজ শুরু।
১৯১০ সনে মাওলানা ইলিয়াছ ( রহঃ) তবলীগের কাজ শুরু করেন, তার পর থেকেই ভারতে ইজতেমা শুরু হয়। ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলায় এবং রাজধানী দিল্লির অদুরে মেওয়াত জেলায় ও ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মাওলানা ইলিয়াছ ( রহঃ) তাঁর জীবদ্দশায় সে সব ইজতেমা গুলো হয়ে ছিল।

আমাদের বাংলাদেশে তবলীগের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এদেশে ইজতেমা শুরু হয়। বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা হয়েছিল ১৯৫৪ সনে কাকরাইল মসজিদে। এরপর ইজতেমা হয় ১৯৫৮ সনে নারায়নগন্জের সিদ্ধির গন্জ এলাকায়।

এরপর রমনা পার্কের এক প্রান্তে কাকরাইল মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনে দিনে যখন ইজতেমায় লোক সংখ্যা বাড়তে লাগল, এর পর স্হানান্তর করে টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে নেওয়া হল।

১৮৬৫ সাল থেকে টঙ্গীতে ইজতেমা শুরু হয়।
এই তুরাগ নদীর পাড়েই বিশ্ব ইজতেমা সারা বিশ্বের মাঝে খ্যাতি লাভ করে। দেশ বিদেশের মানুষ এই ইজতেমাতে শরীক হন। বিশ্বের বহু কান্ট্রির লোকেরা এই ইজতেমার অতিথি। তাতে দেশে বিদেশের লোক দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ ঘটে।

তবে কেন এই ইজতেমা? কেনই এর খ্যাতি?

মাওলানা ইলিয়াছ ( রহঃ) সে সময়ে মুসলমানদের মাঝে গোমরাহী এবং দিনে দিনে মানুষের দ্বীন ইসলাম থেকে পদছ্খলন দেখে তিনি ফিকির করতে লাগলেন। কিভাবে মানুষকে একাত্ববাদের তালীম দেওয়া যায়, মানুষ যাতে আল্লাহর গোলামী করে এবং রাসুল ( সাঃ) বাতলানো রাস্তায় চলতে পারে। এসব উদ্দেশ্য সামনে রেখে তিনি তবলীগের এই মহান কাজ চালু করেন।

এই কাজের একটা নিয়ম নীতি হলো, ইজতেমা করা। যেখানে নতুন পুরাতন সব সাথী জমায়েত হবে। বিগত দিনের কারগুজারী শোনানো। আগামী দিনের কাজের রোড ম্যাপ দেওয়া হয়। তা’লীম, গাসত, কিভাবে করতে হবে সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে।নতুন সাথী জোড়ানো। এবং নতুন করে জামাত বদ্ধ হয়ে সারা বিশ্ব ব্যাপি কিভাবে ছড়িয়ে পড়বে, এবং যেসকল জায়গা তবলীগের দাওয়াত এখন পৌছে নাই, সে সব জায়গায় কিভাবে দাওয়াত পৌছাতে হবে, তার কর্ম কৌশল এই ইজতেমা থেকে দেওয়া হয়।

এ সকল ইজতেমায় দেশ বিদেশের খ্যাত নামা আলেম এবং দ্বীনের দায়ীগণ উপস্হিত হয়ে থাকেন। যারা দ্বীন ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন। দায়ীগণ তাদের কাজের ফিরিস্তি বর্ননা করেন।
আলেম উলামার বয়ান এবং দায়ী গণের কর্ম পদ্ধতি যেটা সাধারণ সাথী এবং মুবাল্লিগদের মাঝে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে দাওয়াতী কাজে স্পিরিট বেড়ে যায়।

এই বিশ্ব ইজতেমায় নানান দেশের মানুষ জমা হয়ে থাকে। বহু দেশের দায়ীদের মিলন মেলা ঘটে এখানে। সচারাচর কোন দেশের লোক এরকম দেখা যায় না, যে রকম বিশ্ব ইজতেমা কে কেন্দ্র করে বিশ্বের আনাচ কানাচ থেকে এখানে আসে।
এই ইজতেমার কারণে বিশ্ব বাসীর কাছে এক বিশাল পরিচিতি লাভ করেছে। বহু দেশের মানুষের কাছে ঢাকার চেয়ে টঙ্গী ইজতেমা বেশী পরিচিত। তারা ঢাকা চেনেনা।কিন্তু টঙ্গী ইজতেমা কে চেনে।

আসলে এদেশের আলেম উলামা এবং মুবাল্লিগদের মেহনতে বিশ্ব বাসীর কাছে টঙ্গী ইজতেমার গ্রহণ যোগ্যতা বেড়ে গিয়েছে। দিনে দিনে ইজতেমার সুনাম সুখ্যাতি বেড়েই চলেছে।

এবারও টঙ্গীতে দুই পর্বের ইজতেমা হচ্ছে। প্রথম পর্ব শেষ। এখন দ্বিতীয় পর্ব চলছে।

আল্লাহ তায়ালা ইজতেমাকে কবুল করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com