সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

করোনার বছর : শিক্ষার্থীদের মনোযোগ জরুরি

করোনার বছর : শিক্ষার্থীদের মনোযোগ জরুরি

করোনার বছর

শিক্ষার্থীদের মনোযোগ জরুরি

মুফতী সাইফুল ইসলাম

করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরে গেছি। প্রায় দেড় বছর যাবৎ আমাদের শিক্ষা একেবারে বন্ধই রয়েছে। তবে কওমি মাদরাসা কিছুদিনের জন্য খোলা ছিলো। এ বছর এখনও খোলা হয়নি। কওমি মাদরাসা একটা আশাবাদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, শিগগিরই খোলা হবে।

আলহামদুলিল্লাহ, গত বুধবার (২৫ আগস্ট ২০২১) দুপুরে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ৮ জনের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং সরকারের কাছে কওমি মাদরাসাসমূহ খুলে দেয়ার জোর দাবি জানান।

আশার কথা হলো, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই হিফজ ও মক্তব বিভাগসহ সারাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক কিছু বলতে পারবেন মর্মে আশ্বাস দিয়েছেন।

অবশ্য আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব বলেন, কওমি মাদরাসাগুলোতে কুরআন-হাদিসভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হয় এবং কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দুআ, তাহাজ্জুদ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে মহামারি ও বালা-মসিবত হতে মুক্তির জন্য বিশেষভাবে মুনাজাত করা হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে জাতি করোনাসহ সবরকম বালা-মুসিবত থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। মাদরাসাগুলো বন্ধ থাকায় মহান আল্লাহর দরবারে সম্মিলিত ও ব্যাপক দুআ ও কান্নাকাটিও বন্ধ হয়ে আছে।

তিনি আরো বলেন, প্রায় দেড় বছর হতে চলল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অহেতুক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। এহেন অবস্থায় সার্বিক বিবেচনায় সারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অতি দ্রুত হিফজ ও মক্তব বিভাগ খুলে দেয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কওমি মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রিয় শিক্ষার্থীদের শিগগিরই যে মাদরাসায় ফিরতে হবেÑএমন আশাবাদ আমরা পাচ্ছি। কিন্তু এরই সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে আমাদের শিক্ষাবর্ষ ১৪৪২-৪৩-এর বেশ কয়েকটি মাস। সুতরাং নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করাটা অবশ্যই কঠিন। স্বাভাবিক অবস্থার উল্টো এই শিক্ষাবর্ষে আমরা কীভাবে সিলেবাস শেষ করবো? করোনা মহামারির কারণে বিপর্যস্ত শিক্ষাবর্ষের সব শিক্ষকই এমন একটি টেনশনে আছেন। প্রথমত, আমাদের বোর্ড বা সর্বোচ্চ পরীক্ষা অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ অবশ্যই কোনো একটা সুরাহার কথা বলবে। আমাদের সিলেবাস শেষ করার বিষয়ে বোর্ড বা সর্বোচ্চ অথরিটির পরামর্শ অনুসারেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

তবে নাহু-সরফের বিষয়গুলোকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। কারণ এগুলো হলো উপরের ক্লাসের কিতাবাদির জন্য ভিত্তিস্বরূপ। কারও ভিত্তি দুর্বল হলে বড় কিতাবগুলো পড়ার সময় বিপদে পড়বে শিক্ষার্থীরা। যতই কম সময় থাকুক, যতই সুযোগ কম থাকুক, শিক্ষার্থীদের ভিত্তি গড়ার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করা যাবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ভিত্তিমূল কিতাবগুলো আরো যত্নের সঙ্গে পড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত বার্ষিক যেসব ছুটি আছে সেগুলো এবার অন্তত বাতিল করা যেতে পারে। ছুটিগুলোকে কাজে লাগিয়ে পড়ানোর সময় বাড়ানো যেতে পারে।

কওমি মাদরাসার হাদিস ও ফেকাহ’র দারসগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ অধ্যায়কে আমরা বারবার না পড়িয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনাগুলো কেবল পড়াতে হবে। হাদিসের সনদের ক্ষেত্রে যেমন সব হাদিসই পড়াতে হবে। তবে তাহারাত-এর আলোচনা হাদিসের এক কিতাবে করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের চাপ কমিয়ে আনা যেতে পারে। তাকরার অর্থাৎ বারবার না পড়িয়ে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে শিক্ষার্থীদের একবর্ষেই পূর্ণ বছরের অধ্যায় শেষ করার চেষ্টা চালাতে হবে। আশাকরি, শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হলে বছরটি নষ্ট হবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গুরুত্বের সঙ্গে পড়ানো ও পড়ার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com