শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

কওমী মাদরাসার জুড়ি নেই

কওমী মাদরাসার জুড়ি নেই

কওমী মাদরাসার জুড়ি নেই

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কওমী মাদ্রাসাতে নকল নেই কেন? কওমী মাদ্রাসার পরীক্ষায় পুলিশ পাহারা কেন থাকে না? পরীক্ষা কেন্দ্র গুলোতে কেন শান্তি পুর্ণ পরিবেশ? কেন হই চৈ মুক্ত কওমী মাদ্রাসার পরীক্ষার হল?

কওমী মাদ্রাসার পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্র ফাঁসের ঘটনা নেই কেন? এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা কোন প্রকার বিশৃংখলা সৃষ্টি করেনা কেন?

কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের উস্তাদগণের সাথে এত মধুর সম্পর্ক কেন? ওরা কেন এত আদবী আখলাকী?

আসলে কওমী মাদ্রাসার এই সুন্দর সুষ্ঠ পরিবেশ একদিনের নয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এধারা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরী করা হয় বহু মেহনত এবং মুজাহাদার মাধ্যমে । তাদেরকে আখলাকে নববী শিক্ষা দেওয়া হয়। ছোট বেলা থেকেই ছাত্রদের উত্তম চরিত্র গঠনের জন্য কোশেশ করা হয়ে থাকে।

কওমী মাদ্রাসা গুলোতে এই শান্তি পুর্ণ পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান শিক্ষকদের। উস্তাদ যখন নিজে আখলাকী হন, তখন তাঁর ছাত্ররা সে রকম চরিত্রবান হয়ে যায়।

কওমী মাদ্রাসার কোন উস্তাদ কখনও খেয়ানত করেনা। যার কারণে ছাত্র গণও সেই আখলাক শিক্ষা নেয়।
প্রতিটা কওমী মাদ্রাসার উস্তাদ চাকরী মনে করে ছাত্রদের পড়ায় না। বরং দায়িত্ব বোধ মনে করে ছাত্রদের পড়ায়ে থাকে। খেদমত মনে করে মাদ্রাসার ছাত্রদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। দুনিয়াতে নয়,বরং আখেরাতে আল্লাহর রেজামন্দী হাসিলের জন্য ছাত্রদের পিছনে মেহনত করে।

আজকাল দুনিয়ার মধ্যে বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যে গুলোতে নৈতিক শিক্ষার বড় অভাব। ওসব প্রতিষ্ঠানের উস্তাদদের নিয়েই যত সমস্যা। অধিকাংশ শিক্ষকের চরিত্র ঠিক নেই। বদ আখলাকে ভরে গেছে শিক্ষক মন্ডলী।
আর এই শিক্ষকদের আদর্শহীনতার কারণে তাদের ছাত্ররা কোন আদব আখলাক শিখতে পারেনা। শিক্ষকদের কারণে তাদের ছাত্ররা সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারেনা।

কিন্তু কওমী মাদ্রাসাতে শিক্ষকদের সর্ব প্রথম আখলাকী হতে হয়। চরিত্রহীন কোন শিক্ষক কওমী মাদ্রাসাতে নেই। আল্লাহর ফজলে সকল শিক্ষক চরিত্রবান। আর এসব উত্তম আখলাকের উস্তাদগণ ছাত্রদের নিজ তত্বাবধানে রেখে আদব আখলাক শিক্ষা দেন।

ছাত্রগণ যেন কখনও কোন খেয়ানত না করে এ ব্যাপারে ছোট বেলা থেকেই ট্রেনিং পায় ছাত্ররা। পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বন করা, দ্বীন ইসলামের খেয়ানত করা বড় অপরাধ। এসব বিষয়ে ছাত্রগণ কে বারবার সতর্ক করেন উস্তাদগণ। ক্লাশ চলা কালিন সময় থেকে বারবার উস্তাদগণ ছাত্রদের এসব বিষয় গুলো রপ্ত করান।

আর সবচেয়ে বড় কাজ হয়, ছাত্রদের মধ্যে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করানো। এক্ষেত্রে উস্তাদগণের বড় ভুমিকা।

কওমী মাদ্রাসার উস্তাদগণ তাকওয়াবান। পরহেজগার। সব শিক্ষকগণের মাঝে খোদাভীতি কাজ করে। আর উস্তাদের এই গুনে গুনান্বিত হয় সকল ছাত্ররা।

উস্তাদ যেরকম, তাঁর ছাত্ররা সে রকম হয়। উস্তাদ ভাল হলে ছাত্ররা ভাল হয়। (আল্লাহ মাফ করুন) উস্তাদ যদি খারাপ হয়, বদ আখলাকী হয়, তাহলে তার ছাত্ররা সেই শিক্ষা গ্রহন করে।

আলহামদুলিল্লাহ, কওমী নেসাব, তথা দারুল উলুম দেওবন্দের সিলসিলার সকল প্রতিষ্ঠান গুলোতে উত্তম আখলাকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সবার আগে। প্রতিটি উস্তাদ কে উত্তম আখলাকী হওয়া অত্যাবশ্যকীয়। অসৎ চরিত্রের শিক্ষক কওমী মাদ্রাসায় কল্পনাতীত।

যার কারণে কওমী মাদ্রাসা গুলোতে শান্তি পুর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে সব সময়। দুনিয়ার যত প্রতিষ্ঠান আছে, সকল প্রতিষ্ঠান থেকে সবচেয়ে সেরা পরীক্ষা কেন্দ্র, এবং সবচেয়ে সুন্দর পরিবেশ, সবচেয়ে উত্তম মানুষ তৈরীর কারখানা কওমী মাদ্রাসায়।
লেখক : শিক্ষক ও সামজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com