শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

‘ঐতিহ্য চর্চার নামে এদেশে অপসংস্কৃতির চাষ’

‘ঐতিহ্য চর্চার নামে এদেশে অপসংস্কৃতির চাষ’

‘ঐতিহ্য চর্চার নামে এদেশে অপসংস্কৃতির চাষ’

শীলন বাংলা রিপোর্ট : পহেলা বৈশাখের প্রচলিত কর্মসুচী ও বেহায়াপনাসমুহ মুলত ঐতিহ্য চর্চার নামে এদেশে অপসংস্কৃতির চাষ। এ দিবস বা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে যা আমদানী ও বাজারজাত করা হয়েছে; ইতিহাসের আয়নায় দেখা যায় তা কোন ভাবেই এ দেশের বস্তু ও পণ্য নয়। বৈশাখ একটি সার্বজনীন মাস। এটি সবার। মুসলমানেরও হিন্দুরও । কিন্তু কিছু চতুর ও ইসলামবিরাগী নষ্ট বুদ্ধিজীবি মুলত বাঙ্গালী উৎসবের ইমোশন তুলে হিন্দু ধর্মের উপাসনা চালিয়ে দিতে চাচ্ছে নব্বই ভাগ মুসলিম সমাজে এবং দিয়েছেও।

১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টায় দারুল আজহার মডেল মাদরাসা সিলেট ক্যাম্পাসের উদ্যোগে ‘পহেলা বৈশাখ : ঐতিহ্য চর্চার নামে অপসংস্কৃতির চাষ” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখিত কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান, সাবেক সফল ব্যাংকার, ডিএনবির চেয়ারম্যান ও মাসিক ঢাকা ডাইজেস্ট-এর সম্পাদক এম এ রশিদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন দারুল আজহার ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মনজুরে মাওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুবিন উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে আলোচকগণ বলেন, একজন মুসলমান কখনোই ‌’মঙ্গল শোভাযাত্রা’ করতে পারে না। হিন্দু ধর্মে লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা। এই বাহনে আরোহন করে লক্ষ্মী মঙ্গলের বারতা নিয়ে ধরায় আসে। তাই এ সংস্কৃতি সম্পূর্ণ হিন্দু সংস্কৃতি। তাছাড়া, সকল মঙ্গল অমঙ্গলের একমাত্র মালিক আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা, লক্ষ্মী নয়।

অপর দিকে, রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন শুরু হয় সূর্য ওঠাকে কেন্দ্র করে। সেখানে গাওয়া হয়, রবীন্দ্র সঙ্গীতের “অগ্ণিস্থানে সূচি হোক ধরা” গানটি দিয়ে। এখন আপনারা বলুন, মুসলমান পবিত্র হয় কিসে? স্রেফ পানিই মুসলমানদের পবিত্র করতে পারে। অগ্নি হিন্দুদের পবিত্র করে। তাই কেহ মারা গেলে তাকে আগুনে পোড়ানো হয়।

প্রধান আলোচক আরো বলেন, আমরা দেখি বিজ্ঞান-মনস্করাই মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করেন, তারা কি বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন যে এভাবে যাত্রা করলে কল্যাণ আসে?”
মঙ্গলযাত্রার যোগান আসে স্যাকুলার, নাস্তিক আর পুঁজিবাদীদের থেকে। এরা সবাই বিজ্ঞানমনস্ক। বিজ্ঞান ছাড়া কোন কথাই এলাউড করে না।

মাদরাসার শিক্ষক ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক বাহা উদ্দিন আরমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, পান্তা-ইলিশ এটাও বৈশাখের কোন বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয়। নওরোজ উৎসব’ বা নববর্ষ জাহিলী যুগ থেকে চলে আসা একটি উৎসব। রসূল স. এর সাহাবারা এ উৎসব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, রসূল স. তার উম্মতদেরকে ২ দুটি উৎসব দান করলেন। তার একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর, অপরটি হচ্ছে ঈদুল আজহা। অর্থাৎ রসূল স. এ নওরোজ উৎসব বা নববর্ষের স্বীকৃতি দিলেন না।
তাছাড়া, সূর্যদয় ও সুর্যাস্তের সময় মুসলমানদের জন্য সালাতের নিষিদ্ধ সময়।

সর্বশেষ চূড়ান্ত কথা হচ্ছে, পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের নামে যা কিছু হয়, তা সবই অসুস্থ সংস্কৃতি, যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলা-মেশা। এটা বাঙালি চেতনা নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে জুমানা জান্নাত সুমাইয়া, মাহদী হাসান মাহফুজ, আহসান হবীব মামুনসসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করে দশম শ্রেণীর ছাত্র আরিফুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com