বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০১ অপরাহ্ন

একজন বায়তুল্লাহপ্রেমীর গল্প

একজন বায়তুল্লাহপ্রেমীর গল্প

একজন বায়তুল্লাহপ্রেমীর গল্প

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

ঢাকা শহরের উল্লেখযোগ্য মাদ্রাসার একজন শায়খুল হাদীস। ইলমে হাদীসের প্রতি তাঁর গভীর – শ্রদ্ধা ভালবাসা। অনেকগুলো মাদ্রাসাতে বুখারী শরীফের দরস দিয়ে থাকেন। শত ঝড়- ঝন্জার মধ্যেও তিনি তাঁর দরসে হাজির হন। কী শীত – কী গ্রীষ্ম,কী বর্ষা। তাঁর দরস সহজে ছোটেনা। এ আজব মানুষ তিনি। এই মহান ব্যক্তির হাদীসের দরস দেওয়া যেমন নেশায় পরিণত হয়েছে।তদ্রুপ বায়তুল্লাহর সফরও যেন তাঁর নেশা। হজের মৌসুম আসলে এবং মাহে রমজানে তিনি যেন ছটফট করতে থাকেন। যেভাবেই হোক তিনি হজের সফরে চলেই যান।

আমার জানামতে আশির দশকের শেষের দিকে তাঁর হজযাত্রা শুরু।এর মধ্যে দু/ একবার ছাড়া প্রতিটি হজ এবং রমজানে তাঁকে বায়তুল্লাহ- তে দেখা যায়।এমনকি হজের মৌসুম এবং রমজান ছাড়াও অন্যান্য সময়ও সুযোগ পেলে ওমরায় ছুটে যায়। এক আজব ব্যক্তিত্ব। কয়েকটি মাদ্রাসায় বুখারী শরীফের দরস দিয়ে তিনি যে টাকা হাদিয়া পান। সবই ব্যয় করে দেন হজ- ওমরার সফরে।

করোনার জন্য দুই বছর হজ- ওমরা বন্ধ ছিল। সব সময় তাঁকে ছটফট করতে দেখতাম। কীভাবে যাওয়া যায় বায়তুল্লাহ- তে। সে প্রচেষ্টা চালাতেন। ওমরা বন্ধ সে হিসাবে জিয়ারা ভিসা নিয়ে মক্কা- মদিনা যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। মানে পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

বিগত মাস থেকে ওমরা খুলেছে। তিনি সাথে সাথে পাসপোর্ট জমা করেছেন। এবং প্রথমেই ভিসা করে ওমরা সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন।( আল্লাহু আকবার)

এবার তাঁর ওমরার সফরের আগে জিজ্ঞেস করলাম,হুজুর! এখনতো ওমরায় যাচ্ছেন।কিন্তু সৌদি আরবে তো বহু শর্ত- শরায়েত। এতো শর্ত মেনে কীভাবে ওমরা করবেন?

তাঁর সাফ জওয়াব, আমি শুধু মক্কা- মদিনায় পৌছাতে চাই।প্রেমাস্পাদের কাছে হাজিরি দেওয়ার বড় ইচ্ছা।কোন রকম মক্কা- মদিনায় যদি পৌছাতে পারি, তাহলে আমি কামিয়াব। এরপর নসীবে যা আছে তাই হবে।তবুও আমি ওমরা থেকে বিরত থাকব না।

আসলে একেই বলে বায়তুল্লাহর প্রেমিক। শুধু অনুকুল পরিবেশ তালাশ করা নয়। প্রেমিকের তো এমন হওয়া চাই,অবস্থা যেমনই হোক।আমি প্রেমাস্পাদের কাছে যাবই। যতই আমার কষ্ট – ক্লেশ আসুক, তবুও আমার মাশুকের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকব না।

ঠিক করোনাকালে যারা ওমরা ও হজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তাদের মন- মানসিকতা এমনই থাকতে হবে। আমি শুধু বায়তুল্লাহ- তে পৌছাতে চাই। এবং শুধু মদিনাতে গিয়ে পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজায় সালাম দিতে চাই। তারপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু আমার রিজিক আছে, যেখানে আমার থাকার জন্য বরাদ্দ আছে, সেটাই গ্রহণ করব। এমনি ভাবে কোন সমালোচনা করবনা। কোন জিনিসকে খারাপ বলব না।

মনে রাখতে হবে, দু বছর হজ ওমরা বন্ধ ছিল। কেউ সেখানে যেতে পারেনি। আল্লাহ তায়ালা আবার যাওয়ার তাওফিক দিচ্ছেন।এজন্য মহান প্রভুর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এতদিন যে অবস্থা হয়েছিল, এটা আমাদের না শুকরিয়ার কারণে। এজন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর রহম করুন। আমিন।
লেখক : কলামিস্ট ও মাদরাসা শিক্ষক

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com