শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

একজন আলেমের শুভবিবাহ

একজন আলেমের শুভবিবাহ

একজন আলেমের শুভবিবাহ

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আলেমগণ জাতির রাহবার। আলেম উলামাগণ যতদুর সম্ভব শরীয়াতের উপর চলার চেষ্টা করেন। বর্তমান ফেৎনা ফাসাদের যুগ। এ সময়ে সঠিক দ্বীনের উপর চলার মানুষ পাওয়া দুস্কর। তবে আলেমগণ যথা সাধ্য চেষ্টা করেন দ্বীনের উপর চলার। দ্বীনি বিষয় গুলো আঁকড়ে ধরে থাকার প্রাণপন চেষ্টা করেন সব সময়।

বর্তমান সময়ে বিয়ে -শাদীতে কুসংস্কার আর কুপ্রথায় ভরে গেছে। মানুষ দ্বীন থেকে সরে গিয়ে জাহেলী নিয়ম নীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের আলেম সমাজের একটি জামাত এখনো সুন্নাত তরীকার বিয়ে- শাদী চালু রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। একদম অনাড়ম্বরী সাদামাঠা ভাবে বিয়ের আয়োজন তারা করেন। যদিও কখনো কখনো বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসে হাজির হয়, তারপরেও তারা শরয়ী নিয়ম কানুনের উপর অনড়। গতকাল একজন আলেমের বিয়েতে গিয়ে ছিলাম,যেখানে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে শরয়ী নিয়ম নীতি মানার।

মেয়ে দেখার সময় শুধু ছেলে নিজেই দেখেছেন। অন্য কোন পরপুরুষ মেয়েকে দেখতে যায়নি। যিনি বিয়ে করবেন, শুধু তিনিই দেখে ছিলেন।

বিয়েতে মহর ধরা হয়েছিল ছেলের সাধ্যনুযায়ী। কোন আকাশ চুম্বী লোক দেখানো মহর নয়। ছেলে যাতে পুরো মহরটা সঠিক ভাবে আদায় করতে পারে, সেভাবে মহর নির্ধারন করা হয়েছিল।

বিয়েতে গায়ে হলুদের কোন কারবার ছিল না। না মেয়ের পক্ষের গায়ে হলুদ, না ছিল ছেলের পক্ষের। একদম বাদ দেওয়া হয়েছে গায়ে হলুদ।
বিয়েতে বরযাত্রীর সংখ্যা ছিল নগণ্য। অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে মেয়ের বাড়ীতে যাওয়া হয়েছিল।

বিয়ের অনুষ্ঠান জামে মসজিদে হয়েছিল। জোহরের নামাজের সময় ইমাম সাহেব এলান করলেন, বাকী নামাজের পরে একটা বিবাহ পড়ানো হবে।

সত্যি নামাজের পরে মুসল্লীগণ জমে জমে বসে গেলেন। প্রায় ১৫/২০ মিনিট ইমাম সাহেব বিবাহ সস্পর্কে কোরআন হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে এক চমৎকার আলোচনা করলেন। এরপর শুরু করলেন আরবীতে খুৎবা।
খুৎবার মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়াদী খুব সুন্দর ভাবে উপস্হাপন করলেন। যাতে কুরআন ও হাদীসের বাণী ছিল অনেক। এরপর ইমাম সাহেব বিয়ে পড়ালেন।

বিয়ের পরে খাওয়ার দাওয়ার আয়োজন ছিল। কোন ঝামেলা নেই। একদম সহজ তরীকায় সব কিছু হয়ে গেল।

কোন বেপর্দা মহিলার আনাগোনা ছিল না। বরকে ইস্তেকবাল করার জন্য কোন মহিলা আসেনি। বা বরকে নিয়ে মহিলাদের কোন আনন্দ উল্লাস ছিল না।

সবচেয়ে বড় কথা কোন যৌতুক নেই এই বিয়েতে। একেবারে কোন প্রকার দেনা পাওনার শর্ত-শরায়েত ছাড়া। ছেলের পক্ষ থেকে কোন শর্ত করা হয়নি। আবার মেয়ের পক্ষ থেকেও কোন শর্ত ছিল না।

বিয়ের পরের দিন ছেলের বাড়ীতে ওয়ালীমা হয়ে গেল। অনেক অতিথি এসেছিল সেখানে। সকলেই অনেক আন্তরিকতার সহিত ওলীমার খানায় শরীক হলেন।

ওলীমার অনুষ্ঠান ও ছিল খুব চমৎকার। আলেম উলামা এবং সাধারণ জনতার উপস্হিতি ছিল অনেক। তবে সেখানে কোন টেবিল বসানো হয়নি উপঢৌকন গ্রহনের জন্য। সবাই ওলীমার খানা খেয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন।

খুবই ভাল লেগেছে অনুষ্ঠানটি। একজন আলেমের বিয়ে দেখে মনটা ভালই লাগল।

আমরা দুআ করি, একজন আলেম তাঁর নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন, আল্লাহ তায়ালা তাদের খায়ের ও বরকত দান করেন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

 

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com