মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

ইরানে ইহুদিরা ‘সবসময় ইউরোপের চেয়ে ভালো’ ছিল

ইরানে ইহুদিরা ‘সবসময় ইউরোপের চেয়ে ভালো’ ছিল

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে৷ যদিও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের পর ইরানেই সবচেয়ে বেশি ইহুদির বাস৷ কিন্তু কেন? ডয়চে ভেলের থেরেসা ট্রপার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তেহরানের ইহুদি সম্প্রদায়ের পরিচালক সিয়ামাক মোরসাদেঘের সঙ্গে৷ তিনি ইরান সংসদের একমাত্র ইহুদি সাংসদও৷

প্রশ্ন : ইরানে ইহুদিরা কেমন আছেন?

সিয়ামাক মোরসাদেঘ : মানুষ যা ভাবে তার চেয়ে অনেক ভালো৷ এখানে সংখ্যালঘু হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি আছে৷ তাই আমরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারি৷ তেহরানে ২০টির বেশি সিনাগগ আছে৷ এছাড়া কমপক্ষে পাঁচটি ‘কোশার’ কসাইখানা আছে৷ ইউরোপের কিছু দেশে প্রাণি অধিকার আইনের কারণে সেটির অনুমতি নেই৷ কিন্তু ইরানে আছে৷

সাধারণভাবে বললে, ইরানে ইহুদিদের অবস্থা সমসময় ইউরোপের চেয়ে ভালো৷ এখানে ইহুদি আর মুসলমানরা একে অপরকে সম্মান করে৷ তবে কিছু পার্থক্যতো আছেই৷ যেমন এই দুই ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ে হওয়ার হার খুবই কম৷

এর মানে কি এই যে, ইহুদিরা একই জায়গায় বাস করে, কিন্তু তাঁরা ইরানের অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর চেয়ে আলাদা?

একেবারেই তা নয়৷ মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে৷ আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা মুসলমান৷ যে হাসপাতালের ডাক্তার আমি সেটি ইহুদি পরিচালিত হলেও সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের ৯৫ শতাংশই মুসলমান৷

কিন্তু ইরানে আইন অনুযায়ী ইহুদিদের সমান চোখে দেখা হয় না৷ যেমন আপনি চাইলে বিচারক হতে পারবেন না৷ এ ব্যাপারে আপনার কী মত?

সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে কিছু সমস্যা তো হয়ই৷ যেমন সেনাবাহিনীতে আমরা কর্মকর্তা পর্যায়ে চাকরি করতে পারব না৷ সৈনিক হতে পারব৷ এরকম কিছু সীমাবদ্ধতা আছে আইনে৷ তবে আমরা এতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি৷ এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া৷ এবং রাতারাতি সব ঠিক হওয়া সম্ভব নয়৷ তবে আমরা উন্নতি করছি৷ সাম্প্রতিক অতীতে আমাদের বড় সাফল্য হচ্ছে, আমাদের সন্তানেরা সরকারি স্কুলে গেলেও তারা চাইলে শনিবার দিন ‘সাবাথ’-এর জন্য স্কুলে নাও যেতে পারে৷

জার্মানির বার্লিনে এমন একটি ভবন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে যেখানে এক ছাদের নীচে ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের প্রার্থনার জন্য আলাদা অংশ বরাদ্দ থাকবে৷ ‘হাউজ অফ ওয়ান’ নামের এই ভবনে থাকবে অন্য আরেকটি অংশ, যেখানে তিন ধর্মের অনুসারীরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারবেন৷

 

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক রেভুলিউশনের পর অনেক ইহুদি ইরান ছেড়ে চলে যান৷ আপনি করেননি কেন?

তখন অনেক মুসলিমও দেশ ছেড়েছেন৷ আমি যাইনি, কারণ আমি ইরানি – আমি হিব্রু ভাষায় প্রার্থনা করি, ইংরেজি বলি, কিন্তু আমি চিন্তা করি, ভাবি শুধু ফার্সিতে৷ বিদেশ চলে যাওয়া – বিশেষ করে ইসরায়েলে যাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই৷ কারণ, আমি মনে করি, ইহুদিরা অন্যদের চেয়ে আলাদা, এই চিন্তাধারা থেকে ইহুদিদের শুধু বিশ্বের একটা জায়গায় বাস করতে হবে – এমন ভাবনার সঙ্গে আমি একমত নই৷ কারণ আমি মনে করি আমরা সবাই সমান৷

ইরানের আইনে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরণের যোগাযোগ রাখা নিষিদ্ধ৷ বিষয়টি কি ইহুদি হিসেবে আপনার জন্য কঠিন নয়?

ধর্মীয় শিক্ষা বলে, আমরা যে দেশে বাস করি সেই দেশের আইন মেনে চলতে হবে৷ বিশ্বে অনেক ইহুদি আছেন যাঁরা ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর আচরণের কঠোর সমালোচক৷ ইহুদি হিসেবে আমাদের ধর্মগ্রন্থ ‘তাওরাত’ ও ‘তালমুদ’ মেনে চলতে হয়৷ অন্য দেশ দখল করা ও নিরীহ মানুষ হত্যা করা মোজেসের (ইহুদিদের নবি) শিক্ষা নয়৷ ইহুদি হিসেবে আমরা ইসরায়েলের আচরণ সমর্থন করতে পারি না, এটা ধর্মীয় নয়, রাজনৈতির ‘মুভমেন্ট’৷ ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণহত্যার শিকার হওয়ায়, ইহুদিদের উচিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়া৷

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com