মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি ও হাওড়া রেলস্টেশন

ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি ও হাওড়া রেলস্টেশন

তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী : রেলগাড়ি বা ট্রেন ভারতের জনপ্রিয় একটি যাতায়াত মাধ্যম। বিশেষ করে দূরপাল্লার জার্নির জন্য একমাত্র অবলম্বন ট্রেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যের দূরত্ব যেখানে ১৫/২০০০ হাজার কিলোমিটার সেখানে চাইলে বাস বা প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব। যেকারনে ট্রেন বা বিমানের কোন বিকল্প নেই। সময় বাচাঁতে চাইলে বিমানে যেতে হবে। অভ্যন্তরীণ পর্যাপ্ত এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর রয়েছে। প্রতিটি রাজ্যের মিউনিসিপাল সিটিতে বিমানবন্দর অাছে। সম্পদশালী ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিমানে যোগাযোগ সহজ। কিন্তু মাধ্যম ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য ট্রেন একমাত্র ভরসা।

ভারতের ট্রেন যোগাযোগ যেভাবে সহজসাধ্য তেমনি তুলনামূলক সাশ্রয়ী। দুইশো কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে মাত্র ৬০/৬৫ টাকা ভাড়া। অবশ্য শ্লিপারের ভাড়া একটু বেশী। তবে সর্বশ্রেণির মানুষের জন্য ট্রেন সার্ভিস উপযোগি। রাজধানী এক্সপ্রেস সবচাইতে দ্রুতগতিসম্পন্ন রেলগাড়ি। বিমানের কাছাকাছি ভাড়া ও সার্ভিস। ভারতের জীবনযাত্রা অামাদের চাইতে অনেক সাশ্রয়ী। দ্রব্যমূল্য তুলনামূলক অনেক কম। মোবাইল, অটো মোবাইল ও ইঞ্জিনচালিত সামগ্রীর মূল্য আমাদের অর্ধেক। একটি নিউ হিরো মোটরবাইকের দাম সর্বোচ্চ ৪০/৪৫ হাজার।

হাওড়া রেলস্টেশন। বিশাল জায়গা নিয়ে অবস্থিত। মোট ২৫টি স্টপেজ। প্রতিটি স্টেপেজ যাত্রিদের উপস্থিতি টাসা। তিলধারণের টাই নেই। আমরা কোনমতে এক জায়গায় বসার সুযোগ পাই।

হাওড়া রেলস্টেশনে আমরা উপস্থিত হই বিকাল ৩টায়। যদিও আমাদের ট্রেন ছাড়বে সন্ধা ৭টায়। তথাপি একটু আগে উপস্থিত হই যাথে ঘোরাঘুরি ও দেখাদেখির পর্বটি একসাথে সমাপ্ত হয়। অাছরের নামাজের সময় হলে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। এতবড় রেলস্টেশন কিন্তু কোথাও নামাজের জন্য একটু টাই নেই। পুরো কম্পাউন্ডার ঘুরে নামাজের জন্য একটু জায়গা পেলামনা। হঠাত একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি ২৩নং কাউন্টারের পাশে মসজিদ রয়েছে। মালমাত্তা নিয়ে সফরকারী প্রতিনিধিদল মসজিদে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত একটু ব্যতীত হই। পুরো ডাস্টবিনের পাশে একটি ছোট্র ঘরে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাও সুরত দেখেই বুঝা যাচ্ছে অাশিকানে মুসল্লিদের মসজিদ। বেদাতীদের অাস্তানা বলা যায়। আমাদের দেখে ইমাম মুয়াজ্জিন অনেকটা বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিমায় থাকায়।

কোনমতে দু’রাকাত নামাজ শেষ করে চলে আসি। মাগরিবের নামাজ কাউন্টারে জায়নামাজ বিছিয়ে অাদায় করি। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে নামাজের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়। খোদ দিল্লি বিমানবন্দরে নামাজের জন্য পৃথক জায়গা আছে। রেলস্টেশনে নামাজের জায়গা না থাকা অনিচ্ছাকৃত না মুসলিম বিদ্বেষ থেকে সেটি বুঝার সুযোগ হয়নি। খান সাহেবসহ বুযুর্গদের সাথে সফরের একটি নগদ ফলাফল পেয়েছি প্রতি ওয়াক্তের নামাজ জামাতের সাথে অাদায় করা।

গণতান্ত্রিক বৃহত একটি রাষ্ট্রের জন্য এটি লজ্জাজনক। হাওড়া রেলস্টেশনের মত জায়গায় নামাজের কোন ব্যবস্থা না থাকা দুংখজনক। ধর্মীয় অধিকার একটি সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। কলিকাতার মত তুলনামূলক মুসলমানের জন্য নিরাপদ ভুমিতে এ ধরনের বৈষম্য কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।

লেখক : তরুণ আলেম

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com