শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

আহমদ শফি ও বাবুনগরী আমাদের দুই নক্ষত্র

আহমদ শফি ও বাবুনগরী আমাদের দুই নক্ষত্র

আহমদ শফি ও বাবুনগরী আমাদের দুই নক্ষত্র

যোবায়ের বিন আরমান : আল্লামা আহমদ শফি এমন এক বুজুর্গ, যাকে আল্লাহ পাক দুনিয়াতেই সম্মানের মুকুট পড়িয়েছেন। আল্লাহর এই বান্দা আল্লাহর কাছে এতটাই প্রিয় যে, দলমত নির্বিশেষে কেউ সরাসরি তাঁকে আঘাত করার সাহস পায় না।

আল্লাহ পাক তাঁকে এতো বেশি গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন যে, আহলে হক্বের সবাই একবাক্যে তাঁকে সম্মান করে। অথচ এমনও আছে যে, তাঁর বহু সিদ্ধান্তই অনেকের মনপুত নয়। কিন্তু দুয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া আজো কারো সাহস হয় নি আল্লামাকে নিয়ে আপত্তি তোলার।

এসব আল্লাহ পাকের বড় এক ফজল। যা তিনি তাঁর বান্দার জন্যে বরাদ্দ করে দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থেই আল্লামা আহমদ শফি মহান বুজুর্গ সাধক। আমি বহু ব্যক্তিকে দেখেছি যারা তাঁর বিরোধিতা করার কারণে কোন এক ভাবে হলেও সমাজে লাঞ্চিত হয়েছেন। এটা আল্লাহ পাকের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। যা তিনি তার প্রিয় বান্দাদের ব্যাপারে দিয়ে রেখেছেন।

আল্লামা আহমদ শফির পরে হাটহাজারী মাদ্রাসার উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন আরেক বুজুর্গ, বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মজলুম, নির্লোভ এই আল্লামাই হাটহাজারী মাদ্রাসায় আহমদ শফির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সর্বাধিক উপযুক্ত। এ যুগে তাঁর মতো নির্লোভ ব্যক্তি আর কয়জন আছেন আল্লাহ মালুম। যিনি বিপদের দিনেও ব্যক্তিগ প্রয়োজনে সরকারি সাহায্য গ্রহণ না করে ইতিহাস তৈরি করে রেখেছেন।

আমি দোয়া করি আল্লামা আহমদ শফিকে আল্লাহ পাক দীর্ঘজীবী করুন। এও দোয়া করি যে, তার পরে যেনো হাটহাজারী মাদ্রাসা উপযুক্ত ব্যক্তিকেই তাঁর মসনদে পায়।

তবে দুটি বিষয় বলে রাখাকেও সমীচীন মনে করি। এক। আনাস মাদানীর ব্যাপারে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু কিছু হলেই তাকে ধুইয়ে দেওয়ার হুজুগের পক্ষেও আমরা নই। এসব হুজুগ কমাতে হবে। কারণ ইনসাফ সব ক্ষেত্রেই থাকা চাই। তাকে মাত্রাতিরিক্ত গালাগালি করা আল্লামা আহমদ শফিকে আঘাতের নামান্তর।

দুই। আমি দেখেছি, বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষত বিশেষ একটি ইসলামী দল আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে বরাবরই আগ্রহী। যদিও আল্লামা বাবুনগরীর মন মস্তিষ্কে মওদুদিয়াতের বিন্দুমাত্র স্থান নেই। তিনি একবার বলেও দিয়েছেন, তাদের সাথে সম্পর্কের চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।
তবুও তার প্রতি তারা খুবই আগ্রহী। তাই এখানে আমাদের কথা হলো, রাজনৈতিক দলগুলো যেনো আল্লামা বাবুনগরীকে তাদের হাতিয়ার বানিয়ে মাদ্রাসাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি না করতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

সরকার বা বিরোধী দল কারো প্রতিই আমাদের আগ্রহ নাই। আমরা কেবল চাই না যে, মাদ্রাসাগুলো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক। আমরা চাই নির্বিঘ্নে দ্বীনের খিদমাত। আমরা রক্ত দিলে কেবল ইসলামকেই ক্ষমতায় বসাবার জন্যে দেব। এটাই প্রত্যাশা।

দোয়া করি হাটহাজারীর দায়িত্বের বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবেই সমাধান হোক। বাহিরের কেউ কারো পক্ষ নিয়ে মাদ্রাসার গায়ে রক্তের দাগ লাগিয়ে মাদ্রাসাকে কলঙ্কিত করুক তা আমরা কিছুতেই চাই না।

মনে রাখতে হবে আজ যদি বাহিরের কেউ হস্তক্ষেপে করে কাউকে বসায়, কাল তারা তাঁকে অপসারণেরও সাহস দেখাবে। তাই বাহিরের হাতকে সুযোগ দেওয়া কখনই সঠিক হবে না।

লেখক : প্রবাসী কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com