মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

আসামকন্যা মুসলিম তরুণী মারিয়ার সাফল্যের কথা

আসামকন্যা মুসলিম তরুণী মারিয়ার সাফল্যের কথা

শীলনবাংয়লা ডটকম : আসামে সিভিল সার্ভিসে প্রথম স্থান অধিকার করে মুসলিম তরুণী মারিয়া তানিম হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। নিজের মেধা বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছেন মা-বাবার ভালোবাসার মাধ্যমে। প্রথমবার সামান্য নম্বরের জন্য টিকতে না পেরে পরের বার মায়ের ইচ্ছায় আবারও চেষ্টা শুরু করেন মারিয়া। সেই বার অধিষ্ঠিত হন এক্বেবারে সবার উপরে। উজ্জ্বল নিজের এলাকার সবার মুখ। আলোচিত হয়ে উঠেন মারিয়া তানিম।

আসাম পাবলিক সার্ভিস কমিশনের এবারের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে শুধু মা বাবারই নন, বরাক উপত্যকার মুখও উজ্জ্বল করেছেন তিনি।  ভারতের পূবের কলম তুলে ধরেছেন তার একটি সাক্ষাৎকার। শীলনবাংলা ডটকম-এর পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো তার আগ্রহের কথা, মানুষ গড়ার কথা- পড়ুন ভালো লাগবে।

১. সবচেয়ে প্রথমেই জানতে চাইব এপিএসসির প্রস্তুতিটা কীভাবে নিয়েছিলেন?

আমি ২০১৪ তে প্রস্তুতি শুরু করি। সেটা ছিল আমার প্রথম চেষ্টা। আমি আমার বাবার কাছ থেকে এ বিষয়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। বাবাও প্রশাসনিক পদে কাজ করেছেন, তাই ভাবলাম আমিও প্রশাসনিক কাজে যোগ দিতে পারি। সেবার আমি মাত্র ১ মার্কের জন্য চূড়ান্ত তালিকায় স্থান করে নিতে পারিনি। তারপরে আমি এবার আবার চেষ্টা করলাম এবং প্রথম স্থান পেলাম। দিনে ৬-৭ ঘণ্টা প্রস্তুতির জন্য ব্যয় করতাম।

২. চাকরির সঙ্গে সঙ্গেই কি প্রস্তুতিটা চলছিল?

ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বেরিয়ে আমি বেঙ্গালুরুতে চাকরিতে যোগ দেই, তারপর আইসিআইসিআই ব্যাংকে যোগ দিলাম গৌহাটিতে। তবে প্রিলিমিনারি পাস করার পরই আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলাম।

৩. এবারে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাটা কী, বড় ধরনের আরও কিছু করার ইচ্ছা আছে কী?

হ্যাঁ, আমি ইউপিএসসি তে সফল হওয়ার চেষ্টা করব। আমার লক্ষ্য এখন ইউপিএসসি।

৪. প্রস্তুতি কী শুরু হয়ে গেছে?

না, এখনো শুরু করিনি। আগামী বছর থেকে শুরু করব। ‌

৫. আচ্ছা, এখন এপিএসসিতে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আপনার মতামত কী?

আমি এটুকুই বলবো, আগের ব্যাচগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে নিশ্চয়ই বোঝা যায় অনেকগুলো পরিবর্তন এসেছে। এমনকি ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও। এ ব্যাপারে এটা বলতে পারি, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৬. এপিএসসিতে দুর্নীতি চলার অভিযোগ রয়েছে, সেই অবস্থা থেকে এখন অনেক স্বচ্ছতা এসেছে এমনটা মনে করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কী বলবেন?

দুর্নীতির বিষয়টা নিয়ে আমি বিশেষ কিছু বলতে চাই না, কারণ বিষয়টা নিয়ে তো তদন্ত হচ্ছেই। এখানে আমি আরেকটা কথা বলতে চাই, অনেকে ভাবেন পরীক্ষা ভালো হওয়া সত্ত্বেও সাফল্য আসেনি অর্থাৎ যোগ্য ব্যক্তি যোগ্যতার মূল্য পেলেন না। কিন্তু আমি বলব, এটি একটি অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা। তাই একবারেই যে একজন সফল হয়ে যাবে, সেটা নয়। আমি নিজে যেবার সফল হতে পারিনি, পরে বুঝতে পেরেছিলাম আমার খামতিটা কোথায় ছিল। পরের বার আমি সেগুলো দূর করেছিলাম।

৭. বাইরে না গিয়ে বরাক উপত্যকায় থেকেও কি কেউ এপিএসসির জন্য সফল প্রস্তুতি নিতে পারবে ?

অবশ্যই নিতে পারবে। তবে সেরকম নিষ্ঠা থাকা চাই। ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলেই একজন সফল হতে পারেন। তবে এটাও ঠিক, এক্ষেত্রে গৌহাটির আবহাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক কোচিং সেন্টার রয়েছে। ওরা খুবই ভালো গাইড করে। বলা যায়, গৌহাটিতে থাকলে বিষয়টা সহজ হয়। তবে সঙ্গে এও বলবো, এখন ইন্টারনেটের যুগ। আর ইন্টারনেটে এখন সবকিছুই সহজলভ্য রয়েছে। কাজেই ডিটারমিনেশন থাকলে বরাক উপত্যকায় বসেও একজন এই পরীক্ষায় সফল হতে পারেন।

৮. পড়াশোনার পাশাপাশি কি করতে ভালোবাসেন, অর্থাৎ আপনার হবিটা কী?

আমি রান্না করতে খুব ভালোবাসি; গানও শুনি।

৯. আপনি বলছেন যে আপনার মা-বাবা আপনাকে খুব সাপোর্ট করেছেন এই ব্যাপারে, ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলুন?

যখন আমি প্রথম বার অসফল হই, তারপরে কিছুটা ভেঙে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমার দ্বারা এ সম্ভব না। তখন আমার মা বাবা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সাহস যুগিয়েছেন। আমাকে বুঝিয়েছেন যে আমার দ্বারা সম্ভব এটা। এই উত্তরণের ক্ষেত্রে সবসময়ই ওরা আমার পাশে ছিলেন।

১০. আপনি ট্রেনিং এর শেষে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে যোগ দিচ্ছেন, মেয়ে হিসেবে আপনি মেয়েদের জন্য কিছু করতে চাইবেন?

অবশ্যই। আর দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার তুলনায় বরাক উপত্যকায় সচেতনতা অল্প কম রয়েছে । আমি অবশ্যই ওদেরকে সাহায্য করতে চাই যারা সঠিক পথ বেছে নিতে পারছেন না। আর একজন অফিসার হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে সে দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। মহিলা অফিসার হিসেবে অবশ্যই মহিলাসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখব এবং সাহায্যটা যাতে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে সেটাও লক্ষ্য রাখবো।

১১. যারা ভবিষ্যতে এ পি এস সি পরীক্ষায় বসতে চাইবে তাদের জন্য কিছু বলবেন?

আমি এক্ষেত্রে বলব নিষ্ঠা খুব জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় হতে হবে। অনেক সময়ই আশাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিজেকে বোঝাতে হবে এবং লক্ষ্যের দিকে নিজেকে টেনে নিয়ে যেতে হবে। ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে রাস্তা কঠিন হলেও সাফল্য আসবেই।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com