মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

আসছে শীত, বাজারে ফিরছে স্বস্তি

আসছে শীত, বাজারে ফিরছে স্বস্তি

আসছে শীত, বাজারে ফিরছে স্বস্তি

শীলনবাংলা ডটকম : শীত এলে সবসময় বাজারে অস্থিরতা কমে আসে। এবারই একটু ভিন্ন। সহজে নরম হচ্ছে না বাজারের চিত্র। রাজধানীজুড়ে চলছে সবজিতে অস্থিরতা। এখনো চড়াদামই গুণতে হছে সাধারণ মানুষকে। সিম মুলা ও শাকে একটু স্বস্তি এলেও আগের অবস্থায় ফিরেনি কাঁচাবাজার। ন্যায্যমূল্যের বালাই নেই বাজারে। রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম চড়া। এ কারণে সবজি কিনতে গিয়ে স্বস্তি পাছেন না ক্রেতারা। সবজির সঙ্গে পেঁয়াজ ও আলুর জন্যেও দিতে হছে চড়া দাম। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বাজারে গিয়ে পণ্যের দামে এক প্রকার নাকানিচুবানি খাছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন করে কোনো সবজির দাম বাড়েনি। আবার দাম কমেওনি। আগের সপ্তাহের দামেই সব ধরনের সবজি বিক্রি হছে। গাজর, টমেটো, শিম, উস্তা, বেগুন, বরবটির কেজি একশ টাকার ঘরে রয়েছে। বাকি সবজিগুলোর দামও ব্যাপক চড়া। বেশিরভাগের দাম একশ টাকার কাছাকাছি।

বাজার ও মানভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত কয়েক মাসের মতো পাকা টমেটোর কেজি ১০০ টাকা বিক্রি হছে। শিমের কেজি বিক্রি হছে ৬০ টাকা। এছাড়া বরবটির ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, উস্তে ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হছে। শাক দশ টাকা মোটা। বেগুন ৫০ টাকা ধরে বিক্রি হছে।

সরকার দুই দফায় দাম বেঁধে দিলেও এখন আলুর কেজি বিক্রি হছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সরকার প্রথমে খুচরা পর্যায়ে আলুর কেজি সর্বোচ ৩০ টাকা এবং পরবর্তীতে ৩৫ টাকা বেঁধে দেয়। বাজারে আসা নতুন আলুর কেজি বিক্রি হছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

শীতের অন্যতম প্রধান সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামেও স্বস্তি পাওয়া যাছে না। ছোট একটি ফুলকপি কিনতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা গুনতে হছে। একই দাম দিতে হছে বাঁধাকপির জন্য।

এদিকে ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। উস্তা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হছে। একই দামে বিক্রি হছে কচুর লতি। লাউয়ের পিস বিক্রি হছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ বিক্রি বিক্রি হছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজার ও মানভেদে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। আমদানি করা বড় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জয়নাল মন্ডল বলেন, সবজির দাম কমতে আরও সময় লাগবে। শীতের সবজি বাজারে ভরপুর আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম। এখন বাজারে যে হারে আগাম সবজি আসছে চাহিদা তার চেয়ে বেশি। এ কারণেই দাম এমন চড়া।

মালিবাগ হাজীপাড়ায় সবজি বিক্রি করা ফজর আলী বলেন, আমি প্রায় ৬ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছি। আগে কখনো এত দীর্ঘ সময় ধরে সবজি এমন চড়া দামে বিক্রি করিনি। সবজির দাম বেশি হওয়ায় আমাদের বিক্রি কমে গেছে। ফলে লাভও হছেকম, যা আয় হছে তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাছি।

সবজি বিক্রি কমার পরও দাম কেন কমছে না, জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, বিক্রি যে হারে কমেছে বাজারে সবজি আসা কমেছে তার চেয়ে বেশি হারে। আড়তে গিয়ে আমরাই অনেক সময় পছন্দের সবজি কিনতে পারি না। তবে শীতের সবজি ওঠা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা, সামনের মাস থেকে দাম কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে সবজির চড়া দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতো ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হছে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা ডজন। খিলগাঁও তালতলা থেকে বাজার করা আলেয়া বেগম বলেন, এক মাসের বেশি হয়ে গেছে সবজি খাওয়া এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছি। সবজির যে দাম, একশ টাকার সবজি দিয়ে একদিনও হয় না। হিসাব করে দেখেছি, সবজির থেকে এখন ব্রয়লার মুরগি কিনলে খরচ কম। তবে একেবারেই সবজি না খেলে হয় না। তাই মাঝে মাঝে কিছু সবজি কিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com