সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

আল্লামা মাসঊদের বিরুদ্ধে এত কুৎসা কেন?

আল্লামা মাসঊদের বিরুদ্ধে এত কুৎসা কেন?

আল্লামা মাসঊদের বিরুদ্ধে এত কুৎসা কেন?

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আল্লামা কাজি মু’তাসিম বিল্লাহ সাহেব ( রহঃ) যখন মালিবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম এবং শায়খুল হাদীস ছিলেন, তখন তিনি মাদ্রাসা মসজিদের খতীবের দায়িত্ব পালন করতেন। জুময়ার নামাজ পড়াতেন। নামাজের আগে বয়ান করতেন।

কাজি সাহেব হুজুরের বয়ান ছিল খুব চমৎকার। তাঁর বাচনভঙ্গি,উপস্থাপনা এবং তথ্যপূর্ণ আলোচনা স্রোতাদের মন ছুঁয়ে যেত। অনেক দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লীগণ তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য চলে আসত।

নামাজের পুর্বে তিনি আরবীতে যে খুৎবা দিতেন, সেটাও ছিল অনেক আকর্ষণীয়।তাঁর দরাজ কন্ঠ এবং ভাবভঙ্গিমা উপস্থিত মুসল্লীদের হৃদয় কেড়ে নিত।

কাজি মু’তাসিম বিল্লাহ ( রহঃ) খুৎবার মধ্যে একটা হাদীস সব সময় পড়তেন। আমি বহুবার তাঁর জবান থেকে হাদীসটি শুনেছি,

লা তাহাসাদু, ওয়ালা তাবাগাদু,ওয়ালা তাদাবারু, ওয়া কুনু ইবাদাল্লাহি ওয়া ইখওয়ানা”

অর্থ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পরস্পরে হিংসা করোনা,পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ করিওনা। একে অপরের পিছে লেগে থেকো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা এবং ভাই ভাই হয়ে মিলে মিশে থেকো।

কয়েকদিন ধরে হাদীসটি খুব মনে পড়ছে। কাজি সাহেবের সেই হাদীস বর্ননার ভঙ্গি, তাঁর চেহারাটা যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

আসলে আমরা কোথায়? পবিত্র কুরআনুল কারীম এবং হাদীসের মর্মবানী যেন আমাদের থেকে বিদায় নিচ্ছে। নামে মাত্র আমরা কোরআন হাদীস পড়ি, কিন্তু বাস্তবতা আমাদের ভিন্ন। আমলে আমরা কেউ নেই।

হাদীস শরীফে কঠোর ভাবে উল্লেখ রয়েছে, “তোমরা পরস্পরে হিংসা বিদ্বেষ করো না, আপসে নিজেরা ঝগড়া করো না, একে অপরের পিছে লেগে থেকো না”।

কিন্তু আমরা কি করছি? আমরা এর একটার উপরে আমল করে দেখাতে পারছি?

আমরাই সব চেয়ে বেশী ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত( নাউজুবিল্লাহ) আমরাই বেশী হিংসা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি (নাউজুবিল্লাহ) আমরাই একে অপরের পিছে লেগে আছি( নাউজুবিল্লাহ)।
বড় দুঃখ হয়, আমরা আলেম হয়ে আরেকজন আলেমের পিছে লেগে থাকি। যেখানে হাদীস শরীফে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, তোমরা কারো পিছে লেগোনা। কিন্তু আমরা হাদীসের থোড়াই কেয়ার করি, আরেকজন এর বিরুদ্ধে বেপরোয়া ভাবে লেগে যাই।

বিগত সপ্তাহ খানেক ধরে দেখলাম, একজন বর্ষীয়ান আলেম এর পিছে লেগে আছে, একদল আলেম। আমার ভাবতে কষ্ট লাগে, যিনি দারুল উলুম দেওবন্দের সুর্য সন্তান, খলীফায়ে ফেদায়ে মিল্লাত, যিনি শায়খুল হাদীস, বহু গ্রন্হ প্রণেতা, একজন ইসলামী স্কলার, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তাঁর বিরুদ্ধে লেগে থাকে আমাদেরই কওমী ঘরানার কিছু সন্তান। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে, কোন প্রকার তাহকীক ছাড়া, এই মহান আলেমকে হেনেস্তা করা হল। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হল।
অথচ এগুলো যারা করেছে, তারা কিন্তু আলেম। তারাও হাদীস পড়েছে, কোরআন পড়েছে।

তাহলে কি কোরআন হাদীস পড়লাম আমরা? আমরা কি শিখলাম? ভুরি ভুরি কিতাব পড়ে যদি, এখনো আরেকজন এর পিছে লেগে নিজের আমল শেষ হয়ে যায় সেটা বড় দুঃখজনক।

আমরা অনেকখানী সন্দেহপরায়ন। আরেকজনকে খুব সন্দেহ করে থাকি। কিন্তু আরেকজন সন্দেহ করাটা যে বড় গোনাহের কাজ সেটা কি ভেবে দেখেছি?

পবিত্র কুরআনের সুরা হুজুরাতে রয়েছে, ” ইন্না বা’দাজ জন্নে ইছমুন” কিছু সন্দেহ আছে মারাত্মক গোনাহ।

আমরা আলেম হয়ে একজন বিদগ্ধ আলেম কে সন্দেহ করছি, বদগোমানী করছি, তার পিছে লেগে রয়েছি, এ সবই তো চরম অপরাধ।

এজন্য ভাই আর বন্ধু, এটা মাহে রমজান। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে, ওসব গোনাহের রাস্তা ত্যাগ করি।

আল্লাহর কাছে তওবা করি, আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com