মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

আল্লামা মাসঊদকে নিয়ে ওদের ঘুম হারাম কেন?

আল্লামা মাসঊদকে নিয়ে ওদের ঘুম হারাম কেন?

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মাজলুম আলেম হলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। আজ কয়েকদিন ধরে যেভাবে এক নাগাড়ে গালি বর্ষণ হচ্ছে তাঁর উপর, যা কল্পনাতীত। ফেসবুকে যত আইডি দেখছি, এর শতকরা ৯০ ভাগ এডমিন স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হয়। যাদেরকে কোনো দিন উচ্চ- বাচ্চ করতে দেখি নাই, তারাও দেখি অশ্লীল ভাষায় খিস্তি খেউড় করে জর্জরিত করছেন ফরীদ সাহেবকে।

মানে হাতি যদি কোন কায়দায় একবার গর্তে পড়ে যায়, তখন কিন্তু ব্যাঙেও লাথি মারে! এই মজলুম মানুষটি এমনই। যিনি সারাটা জীবন হক কথা বলেন নির্ভয়ে। আর এক শ্রেণীর মানুষ হামলে পড়েন তাঁর উপর।

আজ নতুন নয়, বহু বছর ধরে দেখছি। বাতিলের সাথে আজও পর্যন্ত কখনও আপোস করেন নি। বিশেষ করে মওদুদীয়্যাত এর ব্যাপারে শক্ত অবস্হানে থাকেন সব সময়। যার কারণে বেশী ঝড় তুফানে পড়তে হয়েছে তাঁকে।

আমাদের এই বাংলাদেশে আলেম কিন্তু কম নয়। অনেক বাঘা বাঘা আলেম আছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে বাতিলের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন তারা। বিভিন্ন ফায়দা হাসিলের জন্য উচ্চৈস্বরে কথা বলেন না। কিন্তু ফরীদ সাহেব সব সময় বাতিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

সম্প্রতি টঙ্গি ইজতেমায় যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আসলে খুবই জঘন্যতম ঘটনা। যেভাবে নিরীহ আলেমদের নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোন সভ্য সমাজের কাজ নয়।

ফরীদ সাহেব হুজুর উক্ত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেছেন। তিনিও এই ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ ফরীদ সাহেবকে দোষারোপ করছেন খামাখা। তারা ফরীদ সাহেবকে উস্কানীদাতা হিসেবে সাব্যস্ত করছেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, তারা ফরীদ সাহেবের বিরুদ্ধে মাঠে ময়দানে গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছেন।
কোথাও নাকি ফরীদ সাহেবের কুশপুত্তলিকা পর্যন্ত দাহ করা হচ্ছে। কোথাও ফরীদ সাহেবকে গ্রেফতারের দাবী জানানো হচ্ছে। এমনকি কোথাও ফরীদ সাহেবের ফাঁসি দাবি করা হচ্ছে।

যার যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন। তাঁর পক্ষে কেউ কোন কথা বলতে পারছেন না। এই ফেসবুকেও ফরীদ সাহেবের পক্ষে কোন কিছু লেখার কায়দা নেই। যদি কোন পোস্ট ফরীদ সাহেবের পক্ষে দেওয়া হয়, দেখবেন একটা গ্রুপ অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে হেনস্তা করেন সেই এডমিনকে।

আচ্ছা, উনারা যে ফরীদ সাহেবকে দোষারোপ করছেন, তাদের কি কোন স্পষ্ট প্রমাণ আছে? তিনি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, এর সুস্পষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন?

এখনও পর্যন্ত কেউ কোন প্রমাণ দিতে পারেন নি। আশা করি পারবেনও না।

তাহলে কেন এই মহান ব্যক্তিকে এভাবে নাঙা করা হচ্ছে? কেন তাঁকে অপমান অপদস্হ করা হচ্ছে?

মনে রাখতে হবে, ফরীদ সাহেব কিন্তু একজন আলেম। তিনি শায়খুল হাদীস। প্রায় ৫০ বছর ধরে বুখারী পড়ান। তিনি ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর খলিফা। বহু গ্রন্হ প্রণেতা তিনি। তাঁর মত একজন মানুষ আলেমদের উপর আক্রমণ চালানোর হুকুম দিবেন, এটা কি বিশ্বাস করা যায়?
একজন ফেসবুকে একটা কথা ছেড়ে দিল, আর আমরা কোন প্রকার তাহকীক ছাড়া প্রচার শুরু করে দিলাম, এটা কেমন আচরণ?

আসলে কি? তাঁর স্পষ্টবাদিতা, তাঁর প্রতিভা, তাঁর আপোসহীনতা, তাঁর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ছিলেন একজন আলেম মুক্তিযোদ্ধা। এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর বড় অবদান। দেশের আলেম উলামাদেরকে জঙ্গিবাদের তকমা থেকে বাঁচাতে তিনিই সবচেয়ে বড় বেশী অবদান রেখেছেন। এদেশের অবহেলিত কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি আদায়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন তিনি।

এই মহান আলেমকে ধরাশায়ী করতে পারলে ওদের বড় ফায়দা হবে। কারণ, আজ আলেম সমাজ ঢালাওভাবে ওদের সাথে নেই। কিছুটা হলেও ডিভাইডেড হয়েছে। ওদের ভোটের বাক্সে আঘাত লেগেছে বড় আকারে। তাই ওদের ঘুম হারাম।
লেখক : আলেম গবেষক ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com