শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

আলেমদের অনৈক্য পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ

আলেমদের অনৈক্য পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ

আলেমদের অনৈক্য পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ

মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: আমরা যখনই একটু দাঁড়াতে শিখি। তখনই কেউ যেন জামার আস্তিন ধরে টান দেয়। আর সড়াত করে পড়ে যাই। আর সামনে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয় না।

আমার এই ছোট্ট জীবনে বহুবার দেখলাম, যখনই আমাদের ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ ভাবে সামনে এগিয়ে যায়, অমনি শুরু হয় মুনাফিক চক্রের কুট চাল। নিরীহ আলেমগণ ধরাশায়ী হয়ে পড়েন। দেখা যায়, নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য শুরু হয়ে যায়। ভুল বোঝাবুঝি হয়। শেষমেষ আমরা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ি।

আমাদের আলেম সমাজের মধ্যে কোন প্রতিভার জন্ম নিলে, তাঁকে হেল্প করা দুরের কথা, তাঁর ছায়াও আমরা দেখতে পারিনা। বরং কিভাবে সেই প্রতিভাবান ব্যক্তিকে দমানো যায়, সেই চেষ্টা থাকে আমাদের কিছু মানুষের।

যুগে যুগে বহু প্রতিভার জন্ম হয়েছে আমাদের আলেম সমাজে। কিন্তু অদ্যবধি তাদের মুল্যায়ন করিনি আমরা। বরং ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া যায় কিভাবে সেই চেষ্টা করি। কিছু লোক ঐক্যবদ্ধ হই সেই প্রতিভাবান ব্যক্তিকে দমানোর জন্য।

দেখুন! আমরা যাদেরকে বাতিল বলি, ওরা কত সোচ্চার। নিজেদের লোককে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ওরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যায়। তাদের লোক ভুল করুক আর যাই করুক, তবুও তাকে ময়দানে টিকিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কিন্তু আমাদের একি হাল? নিজেদের ঘরের সন্তানকে এখন দেখতে পারছিনা। চোখের কাঁটা মনে করছি।

এর আগেও বিভিন্ন সময় দেখেছি, আমাদেরই ঘরের সন্তানকে কোনঠাসা করার জন্য রাজপথে নেমেছি। কিভাবে তার প্রতিভাকে দমন করা যায়, সেই চেষ্টা করেছি। তাঁকে গালমন্দ করেছি। বিভিন্ন কৌশলে নাস্তানাবুদ করেছি তাঁকে।

ঠিক বর্তমানে চলছে সেইম কেস। এক প্রতিভাবান ব্যক্তিকে দাফন করার চেষ্টা। ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিশন চলছে।

আর এসব কাজের দরুন, আমাদের মধ্যে ইখতেলাফ বাড়ছে। অনৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে প্রবল আকারে। এর দ্বারা আমরা দিনে দিনে পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আলেম সমাজ দুর্বল হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে।

শেষকথা, আলেমদের অনৈক্য চাইনা। আলেমগন মিলে মিশে থাকুন। এই কামনা করি।
লেখক : শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com