রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

আর বন্ধ রাখবেন না স্কুল

আর বন্ধ রাখবেন না স্কুল

শিথিল বিধি-নিষেধ

আর বন্ধ রাখবেন না স্কুল

স্কুল বন্ধ থাকতে থাকতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে কোথাও কোথাও ঘেরর মেঝেতে ঘাস উঠে গেছে। আজই স্কুল খুলে দিন। শিক্ষার্থীরা হারাতে বসেছে তাদের ঐতিহ্য। বহুকষ্টে বৃদ্ধি পাওয়া অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ তৈরির প্রচষ্টা বন্ধ থাকায় আলোহীন হয়ে পড়ছে মানুষ। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের আদলে যে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, বুধবার থেকে তা আর থাকছে না। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। সব ধরনের শিল্প-কারখানা চালু থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কঠোর বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের শিক্ষাবিষয়ক গবেষকগণ বলছেন, যখন সবই খোলা হচ্ছে তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে কেন? কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত এলো না? অনেক শিক্ষকই বলছেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থা খুবই খারাপ। গণমাধ্যমে উঠে আসা জরিপে দেখা যায়, ইতোমধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী ছেড়ে দিয়েছে পড়ালেখা। লকডাউন পরিস্থিতির কারণে কাজেও যুক্ত হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।

করোনাকালে গত দেড় বছরে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু করোনায় শিক্ষাক্ষেত্রে যে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেছে, কোন প্রণোদনায় তা পূরণ হবে? শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া এই সময় ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা বিভাগের পরিকল্পনা কী? গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, করোনাকালে দেশে বাল্যবিয়ে বেড়েছে। ঝরে গেছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিকে অটো পাস দেওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি সম্পন্ন করতে পারেনি। আগের বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাসই করতে পারেনি। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ আমরা দেখতে পাই গত দেড় বছরে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হলেও রেস্তোরাঁগুলো খোলা ছিল। খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি শপিং মল-রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়া যায়, তাহলে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া যাবে না কেন?

বাংলাদেশের বাস্তবতা হচ্ছে, এখানে লকডাউন কাজ করেনি। অফিস-ব্যাংক, গণপরিবহন, হাট-বাজার-বিপণি-গার্মেন্ট বিভিন্ন সময়ে খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই স্ববিরোধিতা হিসেবে দেখছেন। ধরা যাক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের ঘরে রাখা হলো। কিন্তু তাদের অভিভাবকরা তো কর্মক্ষেত্রে গেছেন। শিক্ষার্থীরা নিজেরাও কি ঘরে ছিল? তারাও ঘুরে বেড়িয়েছে। অভিভাবকরা কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে একত্র হয়েছেন। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে অসুবিধা কী ছিল? ইউনিসেফ ও ইউনেসকো অনেক আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য বলেছে। এখন বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে তো আর সমস্যা থাকে না। মনে রখাতে হবে, স্কুলে যেতে না পারার ক্ষতি কখনোই পুষিয়ে নেওয়া যাবে না।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com