বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

আমাদের বিশ্ব ইজতেমা

file pic

আমাদের বিশ্ব ইজতেমা

মাওরানা আমিনুল ইসলাম : বিশ্ব ইজতেমা আমাদের দাওয়াতী কাজে উদ্বুদ্ধ করে। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা প্রতি বছরই হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ শরীক হন এই ইজতেমায়। বাংলাদেশেন কোন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন,পৌরসভা, এমনকি কোন গ্রাম পর্যন্ত বাকি থাকেনা, যেখান থেকে কোন প্রতিনিধি ইজতেমায় শরীক হয় না।

আমাদের বাংলাদেশ ছাড়াও বহির্বিশ্বের বহু দেশের সাথী ইজতেমায় জমায়েত হন।

এমন এমন দেশের সাথী এই ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আসেন, যে সব জায়গায় সচারাচর মানুষ যায় না। কিন্তু এই বিশ্ব ইজতেমার ওছিলায় তারাও এই ময়দানে শরীক হন।

ইজতেমা এক সময় কাকরাইল মসজিদে হত। কিন্তু লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাকরাইল থেকে টঙ্গী স্হানান্তরিত হয়।

অবশ্য এই টঙ্গী ইজতেমার মাঠ বরাদ্দ এবং কাকরাইল মসজিদের জায়গা বরাদ্দের পিছনে স্বাধীনতার স্হপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের অবদান রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আন্তরিকতায় এই টঙ্গীর বিশাল ময়দানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইজতেমা আসলে আমাদের অনেক কিছু মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে দাওয়াত ও তবলীগের গুরুত্বের কথা আমাদের স্মরন করায়ে দেয়।

দাওয়াত ও তবলীগের কাজ কত জরুরী সেটা ইজতেমার দ্বারা বোঝা যায়। এই এজতেমায় এমন এমন সাথী জমায়েত হন, যাদের দেখলে বোঝা যায়, দাওয়াতী কাজে বের হওয়া আমাদের খুবই জরুরী।

আমি, আলহামদুলিল্লাহ, বহুবার ইজতেমায় শরীক হয়েছি। তবে একবার যে এক ঘটনার সম্মুখিন হয়ে ছিলাম, তা আজও মনের মাঝে দাগ কেটে আছে।

নব্বই দশকের কথা। সকাল বেলা বয়ানের পরে যখন কোরআনের সুরা ক্বেরাত মশক হয়, তখন আমার গ্রুপে পড়েছিল, দিনাজপুরের এক সাধারণ মানুষ। যখন মশক শুরু হল, বেচারাকে “আউজুবিল্লাহ” আর বিছমিল্লাহ” এই দুটো বাক্য তাঁর মুখ থেকে বের করাতে পারছিলাম না। সুরা পড়া তো অনেক দুরের ব্যাপার। আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তনির রজিম ও বিছমিল্লাহির রাহমানির রহীম এই দুটো বাক্য তাঁর জবান দিয়ে উচ্চারণ করাতে পারছিলাম না।

আসলে তিনি কোনদিন এসব বাক্য পড়েন নি।অথচ তিনি মুসলমানের ঘরের সন্তান।

ঐদিনকার সে ঘটনা আমাকে এখনও পীড়া দেয়। আমাদের সমাজে এরকম নামে মাত্র লক্ষ লক্ষ মুসলমান রয়েছে। কিন্তু তারা কিছুই জানেনা। তারা কালিমা জানেনা। নামাজের নিয়ম জানেনা। পাক নাপাকির বিষয় জানেনা।

সুতরাং এসব লোক গুলোর পিছনে মেহনত করা দরকার। তাদের ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান দানকরা প্রয়োজন।

দেখুন! ওসব লোক তো আর মাদ্রাসায় ভর্তি হবেনা। তাদের জন্য মাওলানা ইলিয়াছ ( রহঃ) ভ্রাম্যমান মাদ্রাসা খুলে রেখে গেছেন। এই ভ্রাম্যমান মাদ্রাসায় আমাদের আলেম সমাজের ও সময় ব্যায় করা অবশ্যই প্রয়োজন। তাহলে ওসব অবুঝ লোকদের মঙ্গল হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com