বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০২ অপরাহ্ন

আপনার ফ্রিজ নেই, কীভাবে মাংস সংরক্ষণ করবেন

আপনার ফ্রিজ নেই, কীভাবে মাংস সংরক্ষণ করবেন

আপনার ফ্রিজ নেই, কীভাবে মাংস সংরক্ষণ করবেন

কুরবানির ঈদে সাধারণত মাংসটা একটু বেশি হয়। মাংস অনেক দিনে ফ্রিজে রাখা বা কোনোভাবে সংরক্ষণ করাটা পাপ নয়। বরং অনেক দিন লাগিয়ে খাওয়া বৈধ। কী কী উপায়ে ফ্রিজ ছাড়া মাংস রেখে খাবেন সেটাই নিচে আলোচনা করা হলো-

চর্বিতে ডুবিয়ে : মাংস জ্বাল দিয়ে তারপর চর্বিতে ডুবিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। এজন্য প্রথমে মাংস থেকে চর্বি ছাড়িয়ে মাঝারি সাইজে কেটে ধুয়ে সব পানি ঝরিয়ে নিন। একটি পাত্রে মাংস ও চর্বি নিন। মাংসের চেয়ে চর্বির পরিমাণ বেশি হবে। যাতে জ্বাল দিলে মাংস আধা ইঞ্চি চর্বির নিচে ডুবে থাকে। এবার মাংসের সঙ্গে পরিমাণমতো লবণ, গরম মসলা ও তেজপাতা দিয়ে বেশি আঁচে জ্বাল দিন। এবার দেখুন মাংসে পানি আছে কি না। পানি থাকলে জ্বাল দিয়ে শুকিয়ে ফেলুন। মাংস চর্বিতে ডুবে থাকলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ঢেকে রাখুন। পাত্রটি যাতে বেশি গরম জায়গায় না থাকে খেয়াল রাখুন। প্রথম সপ্তাহে দুবার এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্তত একবার জ্বাল দিলেই হবে। এভাবে ১৫ দিন মাংস সংরক্ষণ করা যাবে। দেখা যায় ঈদের পর টানা মাংস খাওয়া হয়। তাই অনেকেই জ্বাল দিয়ে এই পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে ফ্রিজের ওপর চাপ কমবে।

শুকিয়ে : মাংস থেকে চর্বি ছাড়িয়ে কেটে অল্প লবণ ও হলুদ দিয়ে জ্বাল দিন। তবে বেশি সিদ্ধ করা যাবে না। এরপর পানি শুকিয়ে ঠাণ্ডা করুন। জিআই তারে (গুণা) লম্বা মালার মতো করে গেঁথে ৬-৭ দিন রোদে শুকাতে দিন। বৃষ্টির দিনে অনেকে চুলার ওপরেও মাংস শুকাতে দেয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাংস যাতে বেশিক্ষণ ছায়ায় না থাকে। এতে মাংসে ফাঙ্গাস পরতে পারে। ভালোকরে শুকানোর পর এয়ারটাইট পাত্রে রেখে সংরক্ষণ করুন, যাতে বাতাস না ঢোকে। মাঝেমধ্যে মাংস বের করে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। এভাবে ৬ মাস পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়। রান্নার আগে মাংস ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রান্না করুন।

জ্বাল দিয়ে : রান্না করা মাংস এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রিজের বাইরেই সংরক্ষণ করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে রান্নার পর মাংসে ঝোল থাকবে না, তেল থাকবে। আর রান্নার পর পাত্রটি ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে। বেশি গরমে থাকলে মাংস নষ্ট হয়ে যাবে। চুলা বা রোদের তাপ থেকে দূরে রাখুন। চাইলে ফ্যানের বাতাসে রেখে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মাংস দিনে অন্তত একবার জ্বাল দিন। জ্বাল দেওয়ার সময় বেশি নড়াচড়া না করাই ভালো। খেয়াল রাখতে হবে, তলানিতে যেন না লেগে যায়। মাংসের টুকরা একটু বড় রাখবেন, নয়তো মাংস দ্রুত গলে যাবে। মনে রাখবেন মাংসে শুধু তেল থাকবে, পানি না।

মাংসের নোনা : মাংসে লবণ দিয়ে ৩ থেকে ৪ মাস সংরক্ষণ করা যায়। এর জন্য সাধারণ লবণ নয়, সুপার শপ থেকে কিউরিং সল্ট কিনে নিন। পুরো মাংসের টুকরা লবণ দিয়ে মেখে এয়ারটাইট ব্যাগে ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাসের জন্য রেখে দিন। ফ্রিজের নরমালে রাখতে পারেন। এটি সাধারণত শীতের দেশের জন্য বেশি উপযোগী।

ধোঁয়ায় সংরক্ষণ : ধোঁয়া দিয়ে মাংস সংরক্ষণ প্রাচীন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি। ধোঁয়ায় দেওয়ার আগে মাংস কিছুটা লবণ দিয়ে মাখিয়ে নিতে হয়। এরপর গ্রিলের মতো করে ধোঁয়ায় মাংস ঝলসে নিন। এ ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ৭ ঘণ্টা অথবা ১৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ৪ ঘণ্টা রেখে দিন। এর বেশি তাপমাত্রায় নয়। বাণিজ্যিকভাবে অনেকে গ্যাসের ব্যবহার করে, আপনি চাইলে কাঠ কিংবা কয়লা ব্যবহার করতে পারেন। ঝলসানো মাংস এয়ারটাইপ বক্সে রেখে দিন। এই মাংস ১ থেকে ২ মাস ভালো থাকবে।

প্রেসার ক্যানিং : পৃথিবীজুড়ে ফ্রিজ ছাড়া মাংস সংরক্ষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে প্রেসার ক্যানিং। তবে এ জন্য আপনার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় বা দেখা যায়—এমন প্রেসার কুকার থাকতে হবে। লাগবে পরিষ্কার শুকনা কাচের বয়াম। প্রথমে পরিষ্কার কাচের জারে মাংস কেটে রাখুন। জারে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি দিন। এরপর মাংসের ওপরে এক চিমটি লবণ দিয়ে জার ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। জারটি প্রেসার কুকারে দিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার জন্য অপেক্ষা করুন। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট রেখে চুলা বন্ধ করে দিন। পুরোপুরি ঠাণ্ডা হলেই প্রেসার কুকার খুলে বয়াম বের করুন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই জার রাখলে এক বছরের বেশি সময় ধরে মাংস ভালো থাকবে। তবে বাড়িতে এই পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করার আগে সতর্ক থাকুন, অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com