মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

আত্মত্যাগ ও মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল

আত্মত্যাগ ও মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল

আজ পবিত্র আশুরা

আত্মত্যাগ ও মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল

মাসউদুল কাদির

আজ শুক্রবার ১০ মুহাররম। পবিত্র আশুরা। আমল ও মুক্তির দিন। কারবালার ইতিহাসের দিক থেকে অত্যন্ত শোকাবহ দিনও এটি। মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এ দিন। নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনে নিজে সিয়াম পালন করতেন। সাহাবায়ে কেরামকে সিয়াম পালনের জন্য উৎসাহিত করেছেন।

আশুরার দিন সিয়াম পালন করলে অনেক পুণ্য মিলে। নবীজী নিজেও সিয়াম পালন করতেন। হযরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আশুরার দিনের রোজার দ্বারা আমি আল্লাহর কাছে বিগত বছরের গুনাহ মাফের আশা রাখি।’ (মুসলিম ও তিরমিজি)

মুসনাদে আহমাদে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা আশুরার সিয়াম পালন করো; ইয়াহুদিদের মতো নয়; আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখ।
নবীজীর ভাষ্য অনুযায়ী মুসলমানগণ কীভাবে দুই দিন সিয়াম পালন করবেন? হয়তো ৯ ও ১০ মুহাররম বা ১০ ও ১১ মুহাররম সিয়াম পালন করতে হবে। শুধু ১ দিন রোজা থাকে ইয়াহুদিরা। নবীজী তাদের অনুসরণ করতে বারণ করেছেন।

আশুরার দিন ক্ষমার দিনও। পুরো মাসজুড়েই তাওবা-ইসতেগফারের মধ্যে থাকা উচিত। তিরমিজিতে আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মুহাররম হলো আল্লাহ তাআলার (কাছে একটি মর্যাদার) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মুহাররম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন রা. এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়।

বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ বিভাগ।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবারও পবিত্র মুহাররম উপলক্ষে সব ধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল বন্ধ থাকবে।
গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এর আগে আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
একই সাথে পবিত্র মুহাররম উপলক্ষে সবধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণপূর্বক আবশ্যক সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিপালিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সরকারি ছুটি। এ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোও বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে থাকে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা যোগায়। বিত্র আশুরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকের দিন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হিজরি ৬১ সনের ১০ মহরম হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ), তাঁর পরিবারের সম্মানিত সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহচরবৃন্দ বিশ্বাসঘাতক ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালায় শহীদ হন। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র আশুরার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গতকাল দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। খবর তথ্য বিবরণীর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র আশুরা অত্যন্ত শোকাবহ, তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি দিন। বিভিন্ন কারণে এ দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পবিত্র ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক সংকটময় সময়ে আশুরা পালন করছি। করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা জনগণকে সব সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। আল্লাহ বিপদে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করেন। এসময় সবাইকে অসীম ধৈর্য নিয়ে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল মনে একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে।
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আশুরা আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়।
গতকাল আশুরা উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ত্যাগ ও শোকের প্রতীক আশুরা আমাদের উদ্বুদ্ধ করে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রাম করতে। ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে কারবালার ত্যাগ সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। ইসলাম হচ্ছে শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলামের সুমহান আদর্শে হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ বা বিভেদের কোনো স্থান নেই।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১০ মুহাররম আজও আমাদের গভীর দুঃখ ও বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, হজরত মুহম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদতবরণের শোকাবহ স্মৃতিবিজড়িত দিন ১০ মুহাররম আমাদের আজও গভীর দুঃখ ও বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। বিশ্ব মুসলিমসহ সারা মানবজাতিকে শোক ও বেদনায় স্তব্ধ করে দেয়।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com