রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

আজও বাঙালিকে কাঁদায়

আজও বাঙালিকে কাঁদায়

শোকাহত রক্তাক্ত আগস্ট

আজও বাঙালিকে কাঁদায়

বিশেষ প্রতিবেদক : স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর কারণেই বাঙালি স্বাধীন জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আজ আমরা তার কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে হত্যার ঘটনা আজও বাঙালিকে কাঁদায়, বিশ্ব বিবেককে কাঁদায়। এ বর্বর হত্যাকান্ডকে কোনো সভ্য মানুষ মেনে নিতে পারবে না।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হয়ে খন্দকার মুস্তাক যে ভাষণটি দিয়েছিলেন তার কয়েকটি কথা ছিল এরকমÑ ‘সকলেই এই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছিল। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে পরিবর্তন চাইছিল। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে পরিবর্তন সম্ভব ছিল না বলেই সরকার পরিবর্তনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসতে হয়। ঐতিহাসিক প্রয়োজনে সেনাবাহিনী জনগণের জন্য সুযোগের স্বর্ণোদ্বার খুলে দিয়েছে।’

সেদিন বাঙালি বুঝে নিয়েছিল যে জনগণের জন্য নয়, সুযোগের স্বর্ণোদ্বার খুলে গিয়েছে মুস্তাকের মতো পাকিস্তান প্রেমিকদের জন্য। সা¤্রাজ্যবাদের মদদেই যে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিলেন এখন তা সকলেরই কাছে স্পষ্ট। তাই সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থানর থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত উত্তরাধিকার বহনে সক্ষম হব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারে তাজউদ্দিন আহমদসহ যারা সোচ্চার সা¤্রাজ্যবাদবিরোধী ছিলেন, তারা প্রায় কেউই সে সরকারে থাকতে পারেননি। যারা টিকেছিলেন, সা¤্রাজ্যবাদের দালালদের প্রবল দৌরাত্ম্যে তারাও ছিলেন কোনঠাসা। এরকম পরিস্থিতিটি মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রতিকূল হলেও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তথা মনে-প্রাণে পাকিস্তান পন্থিদের জন্য হয়ে উঠে একান্ত অনুকূল। সেই অনুকূল পরিস্থিতিই পুরোপুরি সুযোগ তারা গ্রহণ করে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও আমেরিকার সিআইএ’র আনুকূল্য তারা পুরোপুরিই পেয়ে যায়।
স্বাধীন বাংলাদেশে আইএসআই-এর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমরা অবশ্যই অবহিত এবং সচেতন। সময়ে-অসময়ে সেই অবহিতি ও সচেতনতার সোচ্ছার প্রকাশও আমরা ঘটাই। মেজর ডালিম কিংবা খন্দকার মোস্তাক ও তার সহযোগীবৃন্দ এবং আরো অনেকের বিরুদ্ধে সঠিকভাবেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী রূপে অভিযোগের আঙ্গুল তুলা হয় কিন্তু সেই সঙ্গে সেই হত্যাকা-ে আসল হোতা সিআইওকে আড়াল করে রাখার প্রয়াস বঙ্গবঙ্গুর অনুসারী বলে প্রচারকারী অনেকের মধ্যেই দেখা যায়।

বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকা অবস্থাতেই তাকে অপঘাত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন যারা, তারা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা শুনেছি কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মনি সিংহ এবং ন্যাপ নেতা মোজাফফর আহমেদও বঙ্গবন্ধুকে তাদের আশঙ্কা ও উদ্যোগের কথা জানিয়ে তাকে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এরকমই উড়িয়ে দিয়েছিলেন বৈদেশিক উৎস থেকে প্রাপ্ত সতর্কবাণীও।

তার কথা ছিল বাংলাদেশের সকল মানুষ তাকে এতো ভালোবাসে যে, তাদের দিক থেকে তার কোনো বিপদ আসার কথা কল্পনাও করা যায় না। অথচ শত্রু-মিত্র সকলের প্রতি অবিচল বিশ্বাস আর আর ভালোবাসা বঙ্গবন্ধুর জন্য ‘কাল’ হলো। ঘাপটি মেরে থাকা শত্রুরা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে চরম আঘাত হানলো। তারা সভ্যতার ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ড সংঘটিত করলো। তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে পেরেছে। হত্যাকারীদের শাস্তি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com